ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে জেন্ডার অন্তর্ভুক্তির দাবি তৃণমূল নারী নেত্রীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / 11

নারীর অভিজ্ঞতা, কাজের বাস্তবতা ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব না দিলে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর ন্যায্য ও টেকসই হবে না বলে মত দিয়েছেন তৃণমূল পর্যায়ের নারী নেত্রীরা।

ম্যানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি (WEE) প্রকল্পের আওতায় ২৮ থেকে ৩০ জুন ঢাকার আলোক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন দিনের প্রশিক্ষণে তাঁরা এ মন্তব্য করেন।

“নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারী-নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণ ও জেন্ডার অন্তর্ভুক্তি” – শীর্ষক প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকার নারী নেতৃত্বাধীন নাগরিক সংগঠনের ২৩ জন নারী নেত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা, জ্বালানি সংকট, নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি, স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ এবং জেন্ডার-অন্তর্ভুক্তিমূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের কোস্টাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট যুব সংস্থার নাসরিন সুলতানা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎ–জ্বালানি সংকট একে অপরের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, দুর্যোগ বা দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলে রান্না, পানি সংগ্রহ, শিশু ও বয়স্কদের দেখাশোনার চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে নারীদের ওপর। আমাদের এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ, নিরাপদ রান্নার জ্বালানি এবং ছোট পরিসরের স্থানীয় জ্বালানি সমাধান বাড়ানো জরুরি।

নাটোরের সংগঠন কসমস এর নির্বাহী পরিচালক মেহনাজ মালা বলেন, তার এলাকায় সৌরশক্তি, সোলার সেচ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, নারীরা প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ, বাজারসংযোগ ও কারিগরি সহায়তা পেলে তারা শুধু জ্বালানি ব্যবহারকারী থাকবেন না। তাঁরা স্থানীয় উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি-সহায়ক এবং সেবা প্রদানকারী হিসেবেও কাজ করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম এলাকায় কাজ করেন উইমেন্স হোপ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মানি এলিজাবেথ চাকমা।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট ও অপরিচ্ছন্ন জ্বালানির স্বাস্থ্যঝুঁকি নারীদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, কাঠ, খড় বা ধোঁয়াযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারে নারীদের চোখ জ্বালা, শ্বাসকষ্ট ও সময়ের ক্ষতি হয়। এই প্রশিক্ষণ আমাদের বুঝিয়েছে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং নারীর নেতৃত্ব একসঙ্গে এগোলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, সময় বাঁচবে এবং আয়ের সুযোগও তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে নারীরা তথা সমাজ সমৃদ্ধ হবে।

ম্যানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও নীতিগত সিদ্ধান্তে নারীর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা বাড়ছে, কিন্তু নীতি ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৃণমূলের নারী নেত্রীরা তাঁদের এলাকার জ্বালানি-বাস্তবতা, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও দাবি আরও সংগঠিতভাবে তুলে ধরতে পারবেন।

বনশ্রী মিত্র নিয়োগী আরও বলেন, প্রশিক্ষণটি নারী নেত্রীদের অ্যাডভোকেসি সক্ষমতা জোরদার করবে এবং ভবিষ্যতে জেন্ডার-অন্তর্ভুক্তিমূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রশিক্ষণের বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা ও সহায়তা করেন ম্যানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের লিড – ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ওয়াসিউর রহমান তন্ময়, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, মোঃ আহসানুল ওয়াহেদ ও নাসরিন আহমেদ, প্রজেক্ট ম্যানেজার মৌসুমী ইয়াসমিন এবং ম্যানেজার – কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন ফাহিম রেজা শোভন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে দাবি জানান, নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন, উদ্যোক্তা সহায়তা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর হবে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে জেন্ডার অন্তর্ভুক্তির দাবি তৃণমূল নারী নেত্রীদের

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নারীর অভিজ্ঞতা, কাজের বাস্তবতা ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব না দিলে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর ন্যায্য ও টেকসই হবে না বলে মত দিয়েছেন তৃণমূল পর্যায়ের নারী নেত্রীরা।

ম্যানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি (WEE) প্রকল্পের আওতায় ২৮ থেকে ৩০ জুন ঢাকার আলোক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন দিনের প্রশিক্ষণে তাঁরা এ মন্তব্য করেন।

“নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারী-নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণ ও জেন্ডার অন্তর্ভুক্তি” – শীর্ষক প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকার নারী নেতৃত্বাধীন নাগরিক সংগঠনের ২৩ জন নারী নেত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা, জ্বালানি সংকট, নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি, স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ এবং জেন্ডার-অন্তর্ভুক্তিমূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের কোস্টাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট যুব সংস্থার নাসরিন সুলতানা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎ–জ্বালানি সংকট একে অপরের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, দুর্যোগ বা দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলে রান্না, পানি সংগ্রহ, শিশু ও বয়স্কদের দেখাশোনার চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে নারীদের ওপর। আমাদের এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ, নিরাপদ রান্নার জ্বালানি এবং ছোট পরিসরের স্থানীয় জ্বালানি সমাধান বাড়ানো জরুরি।

নাটোরের সংগঠন কসমস এর নির্বাহী পরিচালক মেহনাজ মালা বলেন, তার এলাকায় সৌরশক্তি, সোলার সেচ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, নারীরা প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ, বাজারসংযোগ ও কারিগরি সহায়তা পেলে তারা শুধু জ্বালানি ব্যবহারকারী থাকবেন না। তাঁরা স্থানীয় উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি-সহায়ক এবং সেবা প্রদানকারী হিসেবেও কাজ করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম এলাকায় কাজ করেন উইমেন্স হোপ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মানি এলিজাবেথ চাকমা।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট ও অপরিচ্ছন্ন জ্বালানির স্বাস্থ্যঝুঁকি নারীদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, কাঠ, খড় বা ধোঁয়াযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারে নারীদের চোখ জ্বালা, শ্বাসকষ্ট ও সময়ের ক্ষতি হয়। এই প্রশিক্ষণ আমাদের বুঝিয়েছে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং নারীর নেতৃত্ব একসঙ্গে এগোলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, সময় বাঁচবে এবং আয়ের সুযোগও তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে নারীরা তথা সমাজ সমৃদ্ধ হবে।

ম্যানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও নীতিগত সিদ্ধান্তে নারীর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা বাড়ছে, কিন্তু নীতি ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৃণমূলের নারী নেত্রীরা তাঁদের এলাকার জ্বালানি-বাস্তবতা, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও দাবি আরও সংগঠিতভাবে তুলে ধরতে পারবেন।

বনশ্রী মিত্র নিয়োগী আরও বলেন, প্রশিক্ষণটি নারী নেত্রীদের অ্যাডভোকেসি সক্ষমতা জোরদার করবে এবং ভবিষ্যতে জেন্ডার-অন্তর্ভুক্তিমূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রশিক্ষণের বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা ও সহায়তা করেন ম্যানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের লিড – ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ওয়াসিউর রহমান তন্ময়, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, মোঃ আহসানুল ওয়াহেদ ও নাসরিন আহমেদ, প্রজেক্ট ম্যানেজার মৌসুমী ইয়াসমিন এবং ম্যানেজার – কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন ফাহিম রেজা শোভন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে দাবি জানান, নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন, উদ্যোক্তা সহায়তা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর হবে।