জলবায়ু ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার তাগিদ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 29
জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত ও সহনশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ” লেসনস লানড এন্ড সাসটেইনেবিলিটি প্ল্যানিং ফর ক্লাইমেট রেসিলেন্ট হেলথ সিস্টেমস ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন একথা বলেন।
কর্মশালায় গ্লোবাল ফান্ডের সহায়তায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং গ্লোবাল ফান্ড, ইউএনওপিএস , আইইডিসিআর ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ, ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন, গ্লোবাল ফান্ডের সিনিয়র পোর্টফোলিও ম্যানেজার কি চুই এবং আইইডিসিআর, ব্র্যাক, এনএমইপি ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্রমেই বড় প্রভাব ফেলছে। তাই আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও সহনশীল ও প্রস্তুত করে তোলা এখন সময়ের দাবি।”
ডা. এম এ মুহিত বলেন, “জলবায়ু-সংবেদনশীল নজরদারি ও কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ ইতোমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। এখন এসব কার্যক্রমকে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা জরুরি।”
মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “টেকসই ফলাফল নিশ্চিত করতে হলে এসব উদ্যোগকে জাতীয় ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও সমন্বয় জোরদার করতে হবে।”
প্রফেসর ডা. প্রবাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন: “জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর প্রস্তুতি ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।”
কি চুই বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু ও স্বাস্থ্য খাতকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ তৈরি করছে। তথ্যভিত্তিক ও কমিউনিটি-কেন্দ্রিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সুধীর মুরালিধরন বলেন, “একটি জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে শক্তিশালী অপারেশনাল কাঠামো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইউএনওপিএস সরকারকে কার্যকর বাস্তবায়ন, ক্রয় ও সিস্টেম শক্তিশালীকরণে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।”
বক্তারা জলবায়ু ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার ও অংশীদার সংস্থাগুলো জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগ নজরদারি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রম চালু করেছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগের নজরদারি ও ম্যাপিং জোরদার, আইইডিসিআরের ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্রয়, লজিস্টিক ও জনবল ব্যবস্থাপনায় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল ইউনিটের কার্যক্রমও এই প্রকল্পের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হচ্ছে।
বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু-সংবেদনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আন্তঃখাত সমন্বয় জোরদার, জাতীয় নীতিমালায় এসব উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা এবং টেকসই অর্থায়ন ও সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
































