জামালপুরে নিজ গ্রামে লিমনের জানাযা-দাফন সম্পন্ন
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 19
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে—শেষ বিদায়ে ভিড় করেন শত মানুষ, ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
দূর দেশের এক মর্মান্তিক ঘটনার পর অবশেষে নিজ মাটিতেই শায়িত হলেন জামিল আহমেদ লিমন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে তার জন্মভূমি জামালপুরে। শেষ বিদায়ের মুহূর্তে পুরো এলাকায় নেমে আসে এক ধরনের নীরব শোক—যেখানে কান্না আর অবিশ্বাস যেন একসঙ্গে মিশে ছিল।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা এলাকায় পূর্ব বিনোদটঙ্গী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উপস্থিতির সংখ্যা শুধু আনুষ্ঠানিকতার কারণে নয়—বরং ঘটনাটির গভীরতা যেন মানুষকে টেনে এনেছে।
এর আগে সকালে লিমনের মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেল গড়াতেই অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে স্বজনদের প্রতিক্রিয়া ছিল প্রত্যাশিত, কিন্তু তবুও তা সামাল দেওয়া কঠিন—নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সবাই।
লিমনের বাবা জহুরুল হকের কথায় বারবার ফিরে আসে এক ধরনের অপূর্ণতা। তিনি বলেন, ছেলেকে কখনো কষ্ট দেননি, এমনকি শাসনও করেননি। বরং ছেলেই তাকে আশ্বস্ত করত—চিন্তা না করতে। সেই স্মৃতির ভেতরেই হঠাৎ থেমে যান তিনি, কথা জড়িয়ে যায় কান্নায়। একই সঙ্গে তিনি দাবি জানান, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে—যেন আর কোনো পরিবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লিমনের পরিবার দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করলেও গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। পড়াশোনায় ধারাবাহিক সাফল্যের পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান পিএইচডি করতে। সেখানে ভূগোল, পরিবেশ ও নীতিমালা বিষয়ে তার কাজ এগোচ্ছিল—যা এখন হঠাৎ করেই থেমে গেল।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ এপ্রিল, যখন লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। কয়েকদিন পর, ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন আকস্মিক পরিসমাপ্তি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং বৃহত্তর সমাজের মধ্যেও এক ধরনের অস্বস্তিকর প্রশ্ন রেখে যায়—নিরাপত্তা, প্রবাসজীবন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে।































