ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদ উপলক্ষে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / 16

রাত ১১টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা। (ফাইল ফটো)

বিক্রি কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলে ঈদুল আজহার আগে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা—তবে শর্ত হিসেবে ঈদের পর এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার প্রস্তাবও এসেছে।

ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাজারে যে চেনা ভিড় দেখা যায়, সেটি এবার যেন কিছুটা থমকে আছে—এমনটাই দাবি করছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। তাদের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়সীমার কারণে বিক্রি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়াতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ মে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে একটি শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে—ঈদের পর টানা সাত দিন সব মার্কেট বন্ধ থাকবে। প্রস্তাবটি কিছুটা সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়, যদিও সেটি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ও মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া চিঠিতে বর্তমান ব্যবসায়িক মন্দার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করেছেন ঠিকই, কিন্তু এর প্রভাব গিয়ে পড়েছে বিক্রির ওপর—বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বেশি চাপ অনুভব করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিয়ে এক বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করার আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই দোকান বন্ধ রাখার নিয়ম কার্যকর হয়। এই সীমাবদ্ধ সময়ই এখন ব্যবসায়ীদের প্রধান আপত্তির জায়গা।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঈদের আগে সময় বাড়ানোর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় অনুমোদনহীন বাণিজ্য মেলা চালু থাকার বিষয়টিও তারা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বরিশালসহ কিছু এলাকায় এসব মেলা এখনও চলছে, যেখানে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হওয়ায় নিয়মিত ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি।

ব্যবসায়ী নেতাদের ধারণা, ঈদের আগে কেনাকাটা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে পুরো মৌসুমটাই হাতছাড়া হতে পারে। তাদের যুক্তি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন তুলনামূলক স্বাভাবিক, লোডশেডিংও আগের মতো তীব্র নয়—তাই অন্তত এই সময়টায় কিছুটা ছাড় দেওয়া যেতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঈদ উপলক্ষে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার আবেদন

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বিক্রি কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলে ঈদুল আজহার আগে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা—তবে শর্ত হিসেবে ঈদের পর এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার প্রস্তাবও এসেছে।

ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাজারে যে চেনা ভিড় দেখা যায়, সেটি এবার যেন কিছুটা থমকে আছে—এমনটাই দাবি করছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। তাদের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়সীমার কারণে বিক্রি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়াতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ মে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে একটি শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে—ঈদের পর টানা সাত দিন সব মার্কেট বন্ধ থাকবে। প্রস্তাবটি কিছুটা সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়, যদিও সেটি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ও মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া চিঠিতে বর্তমান ব্যবসায়িক মন্দার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করেছেন ঠিকই, কিন্তু এর প্রভাব গিয়ে পড়েছে বিক্রির ওপর—বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বেশি চাপ অনুভব করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিয়ে এক বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করার আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই দোকান বন্ধ রাখার নিয়ম কার্যকর হয়। এই সীমাবদ্ধ সময়ই এখন ব্যবসায়ীদের প্রধান আপত্তির জায়গা।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঈদের আগে সময় বাড়ানোর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় অনুমোদনহীন বাণিজ্য মেলা চালু থাকার বিষয়টিও তারা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বরিশালসহ কিছু এলাকায় এসব মেলা এখনও চলছে, যেখানে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হওয়ায় নিয়মিত ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি।

ব্যবসায়ী নেতাদের ধারণা, ঈদের আগে কেনাকাটা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে পুরো মৌসুমটাই হাতছাড়া হতে পারে। তাদের যুক্তি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন তুলনামূলক স্বাভাবিক, লোডশেডিংও আগের মতো তীব্র নয়—তাই অন্তত এই সময়টায় কিছুটা ছাড় দেওয়া যেতে পারে।