১৬ বছরে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্নের অভিযোগ: স্পিকার
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 16
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সাথে আজ তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে অতীত নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা তুলে ধরে সাম্প্রতিক ভোটকে ‘গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা’ হিসেবে দেখালেন স্পিকার।
গত ১৬ বছরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে তিনি ভিন্নভাবে দেখছেন; তার ভাষ্যে, সেটি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে।
সোমবার (৪ মে) সংসদ ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন স্পিকার। বৈঠকটি আনুষ্ঠানিক হলেও আলোচনায় রাজনৈতিক মূল্যায়নের সুর স্পষ্ট ছিল।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে হজযাত্রাকে ঘিরে দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ—যা কেবল ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককেও প্রভাবিত করে—সেটিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই নিয়মিত যাতায়াত পারস্পরিক আস্থাকে দৃঢ় করে।
আলোচনায় দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টিও উঠে আসে। সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন কিংবা পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর মতো প্রস্তাব নিয়ে মতবিনিময় হয়, যদিও এগুলো কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন পাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও আলোচনার বাইরে থাকেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষ মত বিনিময় করেন, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে বৈশ্বিক প্রভাবের প্রশ্নও সামনে আনে।
এদিকে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্পিকার সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। বিষয়টি নতুন নয়, তবে আলোচনায় তা পুনরায় তোলা—সম্ভবত আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের চেষ্টারই অংশ।
সাক্ষাৎকালে সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পুরো বৈঠকটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই উল্লেখ করা হলেও, এর ভেতরে রাজনৈতিক বার্তা ও কূটনৈতিক ইঙ্গিত—দুটোই কিছুটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।































