ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নাগরিক দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 24

নাগরিক দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই সবাইকে শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

সন্তানদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কেউই চান না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তানরা শুধু নিজেদের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এ সমস্যা এক দিন বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নগরীর পরিচ্ছন্নতা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তন আনতে সময় লাগলেও চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সদিচ্ছা ও আত্মবিশ্বাস।

কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তিনি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে নগরীর সমস্যাগুলো শনাক্ত করে সমাধানে উদ্যোগী হলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক স্থানেও ময়লা-আবর্জনা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে দেশে ফিরে অনেকেরই মনে হয়, নিজেদের শহরও যদি এমন হতো। কিন্তু শুধু আফসোস করে বসে থাকলে চলবে না। প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের উদাহরণ দেন। ওই কর্মকর্তা তাঁকে জানিয়েছেন, ঢাকার পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ওই কর্মকর্তা বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা না বললেও কিছুটা উন্নতির কথা বলেছেন। অর্থাৎ পরিবর্তন সম্ভব। সবাই মিলে চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ভালো করা যাবে।

নগরীর সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কার্যক্রমের খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। কোথাও সড়ক বিভাজক নির্মাণ এবং কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যের সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও মূল্যায়ন করতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, দায়িত্ব কতটা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানে কতটা চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়াও তিনি জানতে চান।

এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও তাঁকে দেখানো হয়।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নাগরিক দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই সবাইকে শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

সন্তানদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কেউই চান না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তানরা শুধু নিজেদের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এ সমস্যা এক দিন বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নগরীর পরিচ্ছন্নতা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তন আনতে সময় লাগলেও চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সদিচ্ছা ও আত্মবিশ্বাস।

কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তিনি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে নগরীর সমস্যাগুলো শনাক্ত করে সমাধানে উদ্যোগী হলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক স্থানেও ময়লা-আবর্জনা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে দেশে ফিরে অনেকেরই মনে হয়, নিজেদের শহরও যদি এমন হতো। কিন্তু শুধু আফসোস করে বসে থাকলে চলবে না। প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের উদাহরণ দেন। ওই কর্মকর্তা তাঁকে জানিয়েছেন, ঢাকার পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ওই কর্মকর্তা বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা না বললেও কিছুটা উন্নতির কথা বলেছেন। অর্থাৎ পরিবর্তন সম্ভব। সবাই মিলে চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ভালো করা যাবে।

নগরীর সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কার্যক্রমের খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। কোথাও সড়ক বিভাজক নির্মাণ এবং কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যের সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও মূল্যায়ন করতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, দায়িত্ব কতটা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানে কতটা চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়াও তিনি জানতে চান।

এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও তাঁকে দেখানো হয়।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।