বিশ্বের যে ৩ ব্যক্তির পাসপোর্ট লাগে না! | Bangla Affairs
০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের যে ৩ ব্যক্তির পাসপোর্ট লাগে না!

জুয়াইরিয়া খান
  • সময় ০৪:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / 102

পাসপোর্ট লাগে না যাদের

পৃথিবীতে একটি দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ করতে হলে পাসপোর্ট থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ তো কল্পনাই করা যায় না। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা—সবাইকেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যেতে হয়।

তবে, পৃথিবীর প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের মাঝে মাত্র তিনজন বিশেষ ব্যক্তি এমন আছেন, যাদের বিদেশ ভ্রমণে কোনো পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই। চলুন, পাসপোর্ট ব্যবস্থার ইতিহাস এবং এই বিশেষ সুবিধাভোগীদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

পাসপোর্ট ব্যবস্থার সূচনা খুব বেশি দিনের নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে বিশ্বে এমন কোনো নিয়ম ছিল না, যেখানে এক দেশের মানুষ অন্য দেশে ভ্রমণের জন্য কাগজপত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কারণে পাসপোর্ট ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়।

১৯২০ সালে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি বদলে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লীগ অব নেশনসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন রোধে পাসপোর্ট ব্যবস্থার গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো এই নতুন পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করে। এরপর থেকে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পাসপোর্টকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

আজকের দিনে পাসপোর্ট একটি সরকারি পরিচয়পত্রে পরিণত হয়েছে, যাতে ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, ছবি এবং নাগরিকত্ব সম্পর্কিত তথ্য থাকে। বর্তমানে ই-পাসপোর্টের প্রচলন হয়েছে, যা দেশের বাইরের বিমানবন্দরে পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলেছে।

বিশ্বে এই পাসপোর্ট ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন মাত্র তিনজন ব্যক্তি। তারা হলেন—বৃটেনের রাজা, জাপানের সম্রাট এবং সম্রাজ্ঞী। এই তিনজন বিশেষ ব্যক্তির জন্য বিশ্বের যে কোনো দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই। বৃটেনের বর্তমান রাজা চার্লস এবং জাপানের সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকো এই সুবিধা ভোগ করেন।

বৃটেনের রাজা যখন কোনো দেশে ভ্রমণ করেন, তখন তার সচিব সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে একটি বিশেষ নথি পাঠান, যাতে চার্লসকে সম্মানজনকভাবে গন্তব্য দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। তবে, তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এই বিশেষ সুবিধা নেই; তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়।

জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর জন্যও এই বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ১৯৭১ সাল থেকে জাপান সরকার তাদের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর জন্য পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের এই নিয়ম চালু করে। তবে, জাপানের প্রাক্তন সম্রাট আকিহিতো পদত্যাগের পর বিদেশে যেতে হলে তাকে কনস্যুলার পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি যখন বিদেশ ভ্রমণ করেন, তখন তাদের বিশেষ কনস্যুলার পাসপোর্ট প্রদান করা হয়। এই পাসপোর্ট দ্বারা তারা গন্তব্য দেশে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পান। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা চেক এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ায় সাধারণত তাদের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো হয়।

বিশ্বের এই বিশেষ ব্যক্তিদের বিনা পাসপোর্টে ভ্রমণ তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানকে নির্দেশ করে। রাজতন্ত্র এবং কূটনৈতিক প্রোটোকলের এ ধরনের প্রাচীন প্রথা আজও বহাল রয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সম্মান ও মর্যাদার একটি উদাহরণ।

শেয়ার করুন

বিশ্বের যে ৩ ব্যক্তির পাসপোর্ট লাগে না!

সময় ০৪:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪

পৃথিবীতে একটি দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ করতে হলে পাসপোর্ট থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ তো কল্পনাই করা যায় না। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা—সবাইকেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যেতে হয়।

তবে, পৃথিবীর প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের মাঝে মাত্র তিনজন বিশেষ ব্যক্তি এমন আছেন, যাদের বিদেশ ভ্রমণে কোনো পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই। চলুন, পাসপোর্ট ব্যবস্থার ইতিহাস এবং এই বিশেষ সুবিধাভোগীদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

পাসপোর্ট ব্যবস্থার সূচনা খুব বেশি দিনের নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে বিশ্বে এমন কোনো নিয়ম ছিল না, যেখানে এক দেশের মানুষ অন্য দেশে ভ্রমণের জন্য কাগজপত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কারণে পাসপোর্ট ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়।

১৯২০ সালে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি বদলে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লীগ অব নেশনসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন রোধে পাসপোর্ট ব্যবস্থার গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো এই নতুন পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করে। এরপর থেকে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পাসপোর্টকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

আজকের দিনে পাসপোর্ট একটি সরকারি পরিচয়পত্রে পরিণত হয়েছে, যাতে ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, ছবি এবং নাগরিকত্ব সম্পর্কিত তথ্য থাকে। বর্তমানে ই-পাসপোর্টের প্রচলন হয়েছে, যা দেশের বাইরের বিমানবন্দরে পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলেছে।

বিশ্বে এই পাসপোর্ট ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন মাত্র তিনজন ব্যক্তি। তারা হলেন—বৃটেনের রাজা, জাপানের সম্রাট এবং সম্রাজ্ঞী। এই তিনজন বিশেষ ব্যক্তির জন্য বিশ্বের যে কোনো দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই। বৃটেনের বর্তমান রাজা চার্লস এবং জাপানের সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকো এই সুবিধা ভোগ করেন।

বৃটেনের রাজা যখন কোনো দেশে ভ্রমণ করেন, তখন তার সচিব সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে একটি বিশেষ নথি পাঠান, যাতে চার্লসকে সম্মানজনকভাবে গন্তব্য দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। তবে, তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এই বিশেষ সুবিধা নেই; তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়।

জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর জন্যও এই বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ১৯৭১ সাল থেকে জাপান সরকার তাদের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর জন্য পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের এই নিয়ম চালু করে। তবে, জাপানের প্রাক্তন সম্রাট আকিহিতো পদত্যাগের পর বিদেশে যেতে হলে তাকে কনস্যুলার পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি যখন বিদেশ ভ্রমণ করেন, তখন তাদের বিশেষ কনস্যুলার পাসপোর্ট প্রদান করা হয়। এই পাসপোর্ট দ্বারা তারা গন্তব্য দেশে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পান। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা চেক এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ায় সাধারণত তাদের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো হয়।

বিশ্বের এই বিশেষ ব্যক্তিদের বিনা পাসপোর্টে ভ্রমণ তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানকে নির্দেশ করে। রাজতন্ত্র এবং কূটনৈতিক প্রোটোকলের এ ধরনের প্রাচীন প্রথা আজও বহাল রয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সম্মান ও মর্যাদার একটি উদাহরণ।