আজও অনশনে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা

- সময় ১১:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৫
- / 37
স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সকাল থেকে অনশনে বসেছেন রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের একদল শিক্ষার্থী। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন তারা।।
তারা বলেন, সরকার তাদের আন্দোলন ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আন্দোলন থেকে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলন করতে গিয়ে কেউ অসুস্থ কিংবা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার পর থেকে এই অনশন কর্মসূচীর শুরু। এ সময় তারা ৭ দফা দাবি জানান।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে ঘটনাস্থলে আসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। তিনি দীর্ঘক্ষণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো সমাধানে আসতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা তিতুমীর কলেজকে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়’ করার তাৎক্ষণিক ঘোষণার দাবি করেন। একপর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান যুগ্মসচিব।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং ন্যায়সঙ্গত। আশা করা যায়, সরকার খুব শিগগিরই দাবিগুলো মেনে নেবে এবং তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম তিতুমীর ঐক্যের সাত দফা দাবিগুলো হলো- তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ। তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করে ২৪-২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা। শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ নতুবা অনতিবিলম্বে শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসিক খরচ বহন ও ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ন্যূনতম দুটি বিষয় আইন ও সাংবাদিকতা বিভাগ সংযোজন।
এ ছাড়াও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন পিএইচডিধারী শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষার গুণগতমান শতভাগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন সংখ্যা সীমিতকরণ ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার বিনির্মাণের লক্ষ্যে জমি ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ।
উল্লেখ্য, সরকারি তিতুমীর কলেজকে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বিগত ২৮ বছর ধরে আন্দোলন করছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সরকারের পটপরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীরা আবারও নতুন করে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করেন তারা।
প্রতিবাদ স্বরূপ তারা কলেজের ব্যানার পরিবর্তণ করে নিজেরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। শার্ট ডাউন কর্মসূচীসহ নানা কর্মসূচী দিয়ে আসছে কলেজটির শিক্ষার্থীরা। তাদের এসব কর্মসূচীর কারনে মহাখালী ও গুলশান এলাকায় যানচলাচলে প্রায়শ: বিঘ্ন ঘটছে। তৈরি হচ্ছে জনদুর্ভোগ।
শেয়ার করুন

আজও অনশনে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা

স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সকাল থেকে অনশনে বসেছেন রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের একদল শিক্ষার্থী। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন তারা।।
তারা বলেন, সরকার তাদের আন্দোলন ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আন্দোলন থেকে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলন করতে গিয়ে কেউ অসুস্থ কিংবা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার পর থেকে এই অনশন কর্মসূচীর শুরু। এ সময় তারা ৭ দফা দাবি জানান।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে ঘটনাস্থলে আসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। তিনি দীর্ঘক্ষণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো সমাধানে আসতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা তিতুমীর কলেজকে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়’ করার তাৎক্ষণিক ঘোষণার দাবি করেন। একপর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান যুগ্মসচিব।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং ন্যায়সঙ্গত। আশা করা যায়, সরকার খুব শিগগিরই দাবিগুলো মেনে নেবে এবং তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম তিতুমীর ঐক্যের সাত দফা দাবিগুলো হলো- তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ। তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করে ২৪-২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা। শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ নতুবা অনতিবিলম্বে শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসিক খরচ বহন ও ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ন্যূনতম দুটি বিষয় আইন ও সাংবাদিকতা বিভাগ সংযোজন।
এ ছাড়াও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন পিএইচডিধারী শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষার গুণগতমান শতভাগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন সংখ্যা সীমিতকরণ ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার বিনির্মাণের লক্ষ্যে জমি ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ।
উল্লেখ্য, সরকারি তিতুমীর কলেজকে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বিগত ২৮ বছর ধরে আন্দোলন করছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সরকারের পটপরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীরা আবারও নতুন করে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করেন তারা।
প্রতিবাদ স্বরূপ তারা কলেজের ব্যানার পরিবর্তণ করে নিজেরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। শার্ট ডাউন কর্মসূচীসহ নানা কর্মসূচী দিয়ে আসছে কলেজটির শিক্ষার্থীরা। তাদের এসব কর্মসূচীর কারনে মহাখালী ও গুলশান এলাকায় যানচলাচলে প্রায়শ: বিঘ্ন ঘটছে। তৈরি হচ্ছে জনদুর্ভোগ।