গৌরনদীতে বিএনপি-যুবদলের সংঘর্ষে আহত ২০

- সময় ১১:৫৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
- / 7
বরিশালের গৌরনদীতে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ উভয়পক্ষের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় যুবদল নেতা সোহেল মোল্লার সমর্থকদের ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও বরিশাল -১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম জহিরউদ্দিন স্বপনের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সন্ধায় উপজেলার প্রত্যন্ত পিঙ্গলাকাঠি বাজারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ৫ নেতাকর্মীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ৮ কর্মীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার পিঙ্গলাকাঠি গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার বেল্লাল শিকদার (২৮) ও তার স্ত্রী ইলমা ইয়াসমিন (২৪) দাওয়াত খাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর পরে পিঙ্গলাকাঠি বাজারের কাছে মামা আলম শিকদারের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে বেল্লালের স্ত্রী ইলমা ইয়াসমিন দুষ্টুমি করে টিনের বেড়ার সঙ্গে লাগানো ঈদুল ফিতরের একটি শুভেচ্ছা পোস্টারের একাংশ ছিঁড়ে স্বামী বেল্লালের গাঁয়ে ছুড়েন।
সেখান দিয়ে নলচিড়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা সোহেল মোল্লা যাওয়ার সময় বিষয়টি দেখে মোটরসাইকেল থামিয়ে পোস্টার ছেঁড়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এ নিয়ে সোহেল ও বেল্লালের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে সোহেল উত্তেজিত হয়ে ইলমা ইয়াসমিনকে মারার জন্য তেড়ে গেলে বেল্লাল ও সোহেলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এর জের ধরে যুবদল নেতা সোহেল মোল্লার নেতৃত্ব ১০-১২টি মোটরসাইকেলযোগে যুবদলের ২০-২৫ নেতাকর্মী লাঠিসোটা, রামদা, লোহার রড নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে পিঙ্গলাকাঠি বাজারের কাছে বিএনপি কর্মী আলম শিকদারের বাড়িতে হামলা চালায়।
এ সময় নলচিড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন শিকদারের নেতৃত্বে বাড়ির ও বাজারের লোকজন পালটা হামলা চালালে ওই বাড়ির সামনের রাস্তায় ওপর উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে নারীসহ ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষে টিকতে না পেরে সোহেল মোল্লার সমর্থকরা ৫টি মোটরসাইকেল ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে হারুন সমর্থকরা ওই ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
গুরতর আহতদের মধ্যে যুবদল কর্মী আজিজুল সরদার, সেলিম সরদার, শহিদুল শিকদার, তাসলিামা বেগম ও আজিজুল শিকদারকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যুবদলের নেতা সোহেল মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
গৌরনদী থানার আরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থল থেকে সোহেল মোল্লার সমর্থকদের ফেলে যাওয়া ৫টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।