শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইমাম নিয়োগ নিয়ে সংঘর্ষ

- সময় ০৭:৪১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
- / 19
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বহিরাগতদের হামলায় কলেজের অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন এবং এক পর্যায়ে তারা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর কলেজের ধর্মপুর ডিগ্রি শাখায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। বিকেল ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় অবরুদ্ধ শিক্ষকদের উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁইয়া।
জানা যায়, ১৩ জানুয়ারি কলেজের ডিগ্রি শাখার মসজিদে তাবলিগ জামাতের দুটি বিভক্ত দল—মাওলানা সাদ ও জুবায়ের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে কলেজ প্রশাসন ২০ জানুয়ারি মসজিদের সাপ্তাহিক তালিম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। পরদিনই অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে নজরুল হলের শিক্ষার্থী ও ধর্মপুর এলাকার কিছু স্থানীয় বাসিন্দা।
পরে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইমাম মারুফ বিল্লাহকে নানা অভিযোগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এলাকাবাসী তাকে পুনর্বহালের দাবি জানায়। কলেজ প্রশাসন ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন ইমাম নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে অধ্যক্ষ মাইকে ঘোষণা দেন যে, নিউ হোস্টেলের ইমাম নামাজ পড়াবেন। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে তারা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়। অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষককে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তাদের রক্ষায় এগিয়ে এলে নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা করা হয়।
শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গাজী মুহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসান বলেন, ‘হামলার ঘটনায় অধ্যক্ষসহ আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। বহিরাগতরা আমাদের দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।’
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভিক্টোরিয়া কলেজ মসজিদের পুরোনো ইমাম মারুফ বিল্লাহ একজন সৎ ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি। তাকে অন্যায়ভাবে অপসারণ করা হয়েছে। তারা বলেন, ‘নতুন ইমামের পেছনে নামাজ পড়তে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁইয়া বলেন, ‘বহিরাগতরা আমাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিকেল ৪টার পর আমরা ক্যাম্পাস ছাড়তে সক্ষম হই।’
কোতোয়ালি থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, ‘উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, তবে বড় ধরনের আহতের খবর পাওয়া যায়নি। শিক্ষকদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।’
ঘটনার পর কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।