জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর | Bangla Affairs
০২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
  • সময় ১০:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 5

বীর মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর বাড়িতে এবার হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করেছেন, তাদের নির্দেশেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের পরিবার।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদিয়ারা গ্রামে আবদুল হাইয়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় আবদুল হাই, তার স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা বাড়িতে ছিলেন। হামলাকারীরা বাড়ির গেট ও দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন। তবে ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, ‘যারা আমার গলায় জুতার মালা পরিয়েছিল, তারাসহ একদল দুর্বৃত্ত বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাড়িতে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। বাড়ির গেট, ঘরের দরজা-জানালায় কুপিয়েছে। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলতো। পরে পুলিশ আসার খবর পেয়ে পালিয়ে গেছে তারা।’

আবদুল হাইয়ের ছেলে এবং উপজেলার বাতিসা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস হয়েছে। আমার বাবাকে যারা গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার মূল হোতাসহ আসামিরা এখনও গ্রেফতার হননি। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উল্টো আসামিরা বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করাসহ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। মামলা তুলে না নেওয়ার জেরে গতকাল রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ৩০-৩৫ জন ছিল। আমার বাবাকে জুতার মালা পরানোর মামলার প্রধান আসামি আবুল হাশেম মজুমদার, স্থানীয় সালাউদ্দিন, আতিক, রাসেল, পেয়ার আহমেদ, আবদুল কাইয়ুম, আরিফুর রহমানসহ কয়েকজন হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিয়েছেন। গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার পর থেকে আমার বাবা ফেনীতে অবস্থান করেন। প্রশাসনের আশ্বাসে তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে আসেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল রাতের অন্ধকারে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে।’

জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর (৭৮) গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। আবদুল হাই কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, জুতার মালা পরানোয় ১০০ কোটি টাকার মানহানি এবং মারধরের অভিযোগে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা ২৫ ডিসেম্বর থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। পরদিন পুলিশ পাঁচ জনকে আটক করেছিল। তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ২৪ ডিসেম্বর কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে একজনকে ২৫ ডিসেম্বর করা মামলায় আসামি করেছেন মুক্তিযোদ্ধা। ইসমাইল হোসেন মজুমদার নামের ওই আসামিরও জামিন হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। এরপর থেকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে যুবলীগ নেতা বাড়িতে অবস্থান করছেন, এমন খবরে সেখানে হামলা চালিয়েছিল অপর পক্ষ। দুর্বৃত্তরা বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির গেট ও দরজা-জানালায় কিছু ভাঙচুর চালালেও ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি। এর আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

শেয়ার করুন

জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

সময় ১০:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর বাড়িতে এবার হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করেছেন, তাদের নির্দেশেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের পরিবার।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদিয়ারা গ্রামে আবদুল হাইয়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় আবদুল হাই, তার স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা বাড়িতে ছিলেন। হামলাকারীরা বাড়ির গেট ও দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন। তবে ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, ‘যারা আমার গলায় জুতার মালা পরিয়েছিল, তারাসহ একদল দুর্বৃত্ত বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাড়িতে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। বাড়ির গেট, ঘরের দরজা-জানালায় কুপিয়েছে। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলতো। পরে পুলিশ আসার খবর পেয়ে পালিয়ে গেছে তারা।’

আবদুল হাইয়ের ছেলে এবং উপজেলার বাতিসা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস হয়েছে। আমার বাবাকে যারা গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার মূল হোতাসহ আসামিরা এখনও গ্রেফতার হননি। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উল্টো আসামিরা বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করাসহ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। মামলা তুলে না নেওয়ার জেরে গতকাল রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ৩০-৩৫ জন ছিল। আমার বাবাকে জুতার মালা পরানোর মামলার প্রধান আসামি আবুল হাশেম মজুমদার, স্থানীয় সালাউদ্দিন, আতিক, রাসেল, পেয়ার আহমেদ, আবদুল কাইয়ুম, আরিফুর রহমানসহ কয়েকজন হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিয়েছেন। গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার পর থেকে আমার বাবা ফেনীতে অবস্থান করেন। প্রশাসনের আশ্বাসে তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে আসেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল রাতের অন্ধকারে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে।’

জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর (৭৮) গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। আবদুল হাই কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, জুতার মালা পরানোয় ১০০ কোটি টাকার মানহানি এবং মারধরের অভিযোগে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা ২৫ ডিসেম্বর থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। পরদিন পুলিশ পাঁচ জনকে আটক করেছিল। তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ২৪ ডিসেম্বর কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে একজনকে ২৫ ডিসেম্বর করা মামলায় আসামি করেছেন মুক্তিযোদ্ধা। ইসমাইল হোসেন মজুমদার নামের ওই আসামিরও জামিন হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। এরপর থেকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে যুবলীগ নেতা বাড়িতে অবস্থান করছেন, এমন খবরে সেখানে হামলা চালিয়েছিল অপর পক্ষ। দুর্বৃত্তরা বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির গেট ও দরজা-জানালায় কিছু ভাঙচুর চালালেও ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি। এর আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’