রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার

- সময় ০৬:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
- / 14
নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৮ লক্ষ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রথম ধাপে প্রত্যাবাসনের জন্য ১ লাখ ৮০হাজার রোহিঙ্গার তালিকা নিশ্চিত করেছে দেশটি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
শুক্রবার ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সঙ্কট ও সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমানকে এ তথ্য জানান মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ছয়টি ধাপে ওই আট লাখ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিল। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চিহ্নিত করেছে তারা। আরও ৭০,০০০ রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণের জন্য তাদের ছবি এবং নাম যাচাই-বাছাই করা বাকি রয়েছে।
মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ আরও নিশ্চিত করেছে, মূল তালিকায় থাকা বাকি ৫,৫০,০০০ রোহিঙ্গার যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এবারই প্রথম নিশ্চিত কোনো তালিকা দিয়েছে মিয়ানমার। সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোয় সব মিলিয়ে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে আট লাখ রোহিঙ্গা ঢুকেছে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী কয়েকমাসে।
এর পরেও বিভিন্ন সময়ে অল্প সংখ্যায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেয়ার পরও তা অব্যাহত ছিল।
বিশেষ করে, রাখাইনে আরাকান আর্মি ও সামরিক জান্তার মধ্যে সংঘর্ষের জেরে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বি-পাক্ষিক, বহুপাক্ষিক আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে একাধিকবার।
কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনায় এলেও বাস্তব রূপ পায়নি।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল, যার মধ্যস্থতা করেছিল চীন।
এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি আর বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি।
এরপর ২০১৯ সালে অগাস্টে চীনের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আরেকটি উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু নাগরিকত্বের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়নি।
শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ
-
সর্বাধিক
Devoloped By: InnoSoln Limited