রায়পুরায় ফসলি জমিতে বালু ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

- সময় ০৪:২৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
- / 49
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়নে সরকারি কালভার্টের উভয় পাশের ফসলি জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
জানা যায়, কালভার্ট বন্ধের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন চাষীরা। এমনটা হলে এক শ বিঘা জমিতে সঠিক সময়ে বীজ রোপণসহ সবজি ও ধান চাষ ব্যাহত হবে এবং এতে চাষীদের আর্থিক ক্ষতিসহ আশপাশের এলাকার গৃহস্থরা খাদ্য সংকটে পড়বেন বলে জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার অলিপুরা বাজারের পাশে সড়কের ওপর পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল একটি সরকারি কালভার্ট। এর দুই পাশে রয়েছে ব্যবসায়ী কামাল চৌধুরীর জমি। স্থানীয় কৃষকদের আপত্তি জানানোর পরও কালভার্টের উভয় পাশে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন তিনি। সামনে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এক শ বিঘা জমিতে দেখা দিবে জলাবদ্ধতা। তখন সবজি ও ধান চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরকারি কালভার্ট উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক চাঁন মিয়া জানান, দেড় বছর ধরে সরকারি কালভার্টটি বন্ধ। বর্ষা মৌসুমে পানি জমলে তা আর নিষ্কাষণ হতে পারে না। এতে সঠিক সময়ে জমিতে বীজতলা তৈরী, বীজ বপন করতে পারছি না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। কামাল চৌধুরীকে নিষেধ করার পরও সেখানে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
অলিপুরা ইউপি মেম্বার বাদল মিয়া জানান, সরকারি কালভার্ট বন্ধ করার কোনো নিয়ম নাই। দুই পাশেই শত শত বিঘা ফসলি জমি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল চৌধুরী জানান, ফসলি জমিতে আগের মতন পানি হয় না। স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমিতে অসুবিধা হলে পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেবো।
রায়পুরা উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যথাযথ মাধ্যমে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা জানান, স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি যেন কোনো ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে তার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।