ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, ৩০ পৌষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কারাগারেই যেতে হলো সাবেক এমপি হেনরীকে

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সময় ০২:৪৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৫
  • / 37

কারাগারেই যেতে হলো সাবেক এমপি হেনরীকে

তিনি ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। সেখান থেকে বনে গেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি। যদিও সিরাজগঞ্জ ২ আসনের এমপি হিসাবে তিনি তেমন কোনো কাজ করার সুযোগই পাননি। মাত্র ৮ মাসেরও কম সময়ের এমপি হয়ে তিনি এখন সাবেক এমপি। বলা হচ্ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক গাফলা হলমার্ক ঋণ কেলেংকারির অন্যতম হোতা জান্নাত আরা হেনরীর কথা। এখন তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) জান্নাত আরা হেনরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে রবিবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হেনরীর জমি, ফ্ল্যাটসহ ৪৫টি স্থাবর সম্পত্তি, ১৬টি গাড়ি, ১৯ ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৫৭ কোটি টাকা ও যৌথ মালিকানাধীন ৪ কোম্পানির এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা অবরুদ্ধের (ক্রোক) আদেশ দেন আদালত।

জান্নাত আরা হেনরী
জান্নাত আরা হেনরী

দুদকের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ এসব সম্পত্তি ক্রোক করার জন্য আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রেজা শুনানি করেন। পরে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন।

জানা যায়, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর জান্নাত আরা হেনরী, তার স্বামী ও মেয়ের দেশত্যাগে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। হেনরীর বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয় গত ২০ আগস্ট। গত ১ অক্টোবর মৌলভীবাজার থেকে স্বামীসহ গ্রেপ্তার হন তিনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা জান্নাত আরা হেনরী ও তার স্বামী শামীম তালুকদারের ৪৯ ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে প্রায় ৭৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনেরও প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে গত ২৩ ডিসেম্বর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

শেয়ার করুন

কারাগারেই যেতে হলো সাবেক এমপি হেনরীকে

সময় ০২:৪৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৫

তিনি ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। সেখান থেকে বনে গেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি। যদিও সিরাজগঞ্জ ২ আসনের এমপি হিসাবে তিনি তেমন কোনো কাজ করার সুযোগই পাননি। মাত্র ৮ মাসেরও কম সময়ের এমপি হয়ে তিনি এখন সাবেক এমপি। বলা হচ্ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক গাফলা হলমার্ক ঋণ কেলেংকারির অন্যতম হোতা জান্নাত আরা হেনরীর কথা। এখন তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) জান্নাত আরা হেনরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে রবিবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হেনরীর জমি, ফ্ল্যাটসহ ৪৫টি স্থাবর সম্পত্তি, ১৬টি গাড়ি, ১৯ ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৫৭ কোটি টাকা ও যৌথ মালিকানাধীন ৪ কোম্পানির এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা অবরুদ্ধের (ক্রোক) আদেশ দেন আদালত।

জান্নাত আরা হেনরী
জান্নাত আরা হেনরী

দুদকের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ এসব সম্পত্তি ক্রোক করার জন্য আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রেজা শুনানি করেন। পরে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন।

জানা যায়, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর জান্নাত আরা হেনরী, তার স্বামী ও মেয়ের দেশত্যাগে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। হেনরীর বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয় গত ২০ আগস্ট। গত ১ অক্টোবর মৌলভীবাজার থেকে স্বামীসহ গ্রেপ্তার হন তিনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা জান্নাত আরা হেনরী ও তার স্বামী শামীম তালুকদারের ৪৯ ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে প্রায় ৭৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনেরও প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে গত ২৩ ডিসেম্বর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।