ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ২৮ পৌষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাড় কাঁপানো শীতে সাজেকে পর্যটকদের ভিড়

প্রমোদ কুমার মুৎসুদ্দী, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি)
  • সময় ০২:১৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৫
  • / 36

সাজেকে পর্যটকদের ভিড়

পৌষের শেষে সাজেক সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে পাহাড়। সেখানে কনকনে ও হাড় কাঁপানো শীতে আছেন মানুষ। গত তিন দিন ধরে দেখা মেলেনি সূর্যের। তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় বেশি দূর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তবে উল্টো চিত্র সাজেক ভ্রমণপিপাসুদের। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা প্রকৃতির এক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্ব ঐতিহ্য সাজেক দেখতে ছুটে এসেছেন। সাজেককে কিভাবে সাজিয়েছে প্রকৃতি, তা দেখতে ছুটে এসেছেন দেশী পর্যটকরাও।

শুক্রবার (১০জানুয়ারি) ও শনিবার( ১১জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটির এ দু’দিনে সাজেক প্রধান পর্যটন স্পট পর্যটকদের ভিড় ভেড়েছে। আগত পর্যটকেরা চাঁদের গাড়ি চাঁদের গাড়ি ও পিকআপ জিপ করে বনের নানা প্রান্তে গিয়ে উপভোগ করেছেন প্রাকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাজেক সৌন্দর্য। আজ শনিবারও পর্যটকদের ভিড় সামলাতে সেনাবাহিনী রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে পর্যটনকেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানায়।

সাজেকে পর্যটকদের ভিড়
সাজেকে পর্যটকদের ভিড়

সাজেক কমলক পাহাড় পর্যটন স্পটে ঘুরতে আসা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রদিপ মহলদার বলেন, ‘অভিজ্ঞতা খুবই চমৎকার। শুধু বই পড়ে পড়ে সাজেকে সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যায় না। আমরা এখানে না এলে বুঝতেই পারতাম না সাজেক আসলেই কত সুন্দর পরতে পরতে বৈচিত্র্য আমাদের হাতছানি দিয়েছে। অনেক কিছু শেখার আছে এখান থেকে।

চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি থেকে সাজেকে ঘুরতে আসা কয়েকজন খুদে স্কুলশিক্ষার্থী জানায়, সাজেকে এসে তারা সবাই খুশি। কমালক পাহার উঠে তারা সাজেক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরেছে।

উত্তরের জেলা গাজীপুর থেকে আসা নজরুল ইসলাম বলেন আগে কখনো সাজেক আসা হয়নি বলেন, ‘আগে কখনো সাজেক আসা হয়নি। প্রথমবারের মতো প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে সাজেকে এলাম। বনের জঙ্গলে ভিতর ঘুরে দেখলাম অনেক কিছু। মনটা ভরে গেছে।

সাজেকের পর্যটন ও বন্য প্রাণী বন্যা হাতি ঘুরে বেড়ায়, অনেক সময় দেখা যায়, অনেক সময় রাস্তা পার হইতে দেখা যায়, , ‘দেশেজুড়ে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও এত পর্যটক আসবে, তা ভাবতে পারিনি’। যেহেতু পর্যটক মৌসুম তাই পর্যটক আসবে। তাছাড়া টানা দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকদের চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দুপুর পর্যন্ত সাত হাজার পর্যটক এসেছেন এখানে। তাই অন্যান্য দিনের চেয়ে রাজস্ব ভালো আদায় হবে বলেও জানান তিনি।

সাজেকে পর্যটকদের ভিড়
সাজেকে পর্যটকদের ভিড়

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভালো তাই এখন থেকে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার পর্যটক আসবে। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পর্যটকদের চাপ হবে উল্লেখ করে বন কর্মকর্তা বলেন, চারদিকে ঘন সবুজ পরিবেশরে মাঝে বুঁদ হয়ে থাকার নেশায় যেকোনো পর্যটেকরই পছন্দের স্থান সাজেক। ভরা এই পর্যটক মৌসুমে সাজেকের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হচ্ছেন দেশি পর্যটকরাও।

জানা যায়, বড় বড় গর্জন গাছ এবং সেগুন গাছ গাছ রয়েছে। দৃষ্টি যতদূর যায় সবখানেই যেন কোনো শিল্পী সবুজ অরণ্য তৈরি করে রেখেছেন। অপরূপ চিত্রল দল, বন মোরগের ডাক, বানরের চেঁচামেচি , মৌমাছির গুঞ্জন ও বিশ্বখ্যাত । এসব বৈচিত্রময়তার কারণে বরাবরই দেশি পর্যটকদের কাছে সাজেক কদর আলাদা। গত দুই বছর করোনার কারণে দেশি পর্যটকদের সংখ্যা তলানিতে নেমে এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে সে চিত্র পাল্টে গেছে পুরোটাই।

শেয়ার করুন

হাড় কাঁপানো শীতে সাজেকে পর্যটকদের ভিড়

সময় ০২:১৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৫

পৌষের শেষে সাজেক সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে পাহাড়। সেখানে কনকনে ও হাড় কাঁপানো শীতে আছেন মানুষ। গত তিন দিন ধরে দেখা মেলেনি সূর্যের। তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় বেশি দূর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তবে উল্টো চিত্র সাজেক ভ্রমণপিপাসুদের। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা প্রকৃতির এক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্ব ঐতিহ্য সাজেক দেখতে ছুটে এসেছেন। সাজেককে কিভাবে সাজিয়েছে প্রকৃতি, তা দেখতে ছুটে এসেছেন দেশী পর্যটকরাও।

শুক্রবার (১০জানুয়ারি) ও শনিবার( ১১জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটির এ দু’দিনে সাজেক প্রধান পর্যটন স্পট পর্যটকদের ভিড় ভেড়েছে। আগত পর্যটকেরা চাঁদের গাড়ি চাঁদের গাড়ি ও পিকআপ জিপ করে বনের নানা প্রান্তে গিয়ে উপভোগ করেছেন প্রাকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাজেক সৌন্দর্য। আজ শনিবারও পর্যটকদের ভিড় সামলাতে সেনাবাহিনী রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে পর্যটনকেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানায়।

সাজেকে পর্যটকদের ভিড়
সাজেকে পর্যটকদের ভিড়

সাজেক কমলক পাহাড় পর্যটন স্পটে ঘুরতে আসা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রদিপ মহলদার বলেন, ‘অভিজ্ঞতা খুবই চমৎকার। শুধু বই পড়ে পড়ে সাজেকে সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যায় না। আমরা এখানে না এলে বুঝতেই পারতাম না সাজেক আসলেই কত সুন্দর পরতে পরতে বৈচিত্র্য আমাদের হাতছানি দিয়েছে। অনেক কিছু শেখার আছে এখান থেকে।

চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি থেকে সাজেকে ঘুরতে আসা কয়েকজন খুদে স্কুলশিক্ষার্থী জানায়, সাজেকে এসে তারা সবাই খুশি। কমালক পাহার উঠে তারা সাজেক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরেছে।

উত্তরের জেলা গাজীপুর থেকে আসা নজরুল ইসলাম বলেন আগে কখনো সাজেক আসা হয়নি বলেন, ‘আগে কখনো সাজেক আসা হয়নি। প্রথমবারের মতো প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে সাজেকে এলাম। বনের জঙ্গলে ভিতর ঘুরে দেখলাম অনেক কিছু। মনটা ভরে গেছে।

সাজেকের পর্যটন ও বন্য প্রাণী বন্যা হাতি ঘুরে বেড়ায়, অনেক সময় দেখা যায়, অনেক সময় রাস্তা পার হইতে দেখা যায়, , ‘দেশেজুড়ে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও এত পর্যটক আসবে, তা ভাবতে পারিনি’। যেহেতু পর্যটক মৌসুম তাই পর্যটক আসবে। তাছাড়া টানা দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকদের চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দুপুর পর্যন্ত সাত হাজার পর্যটক এসেছেন এখানে। তাই অন্যান্য দিনের চেয়ে রাজস্ব ভালো আদায় হবে বলেও জানান তিনি।

সাজেকে পর্যটকদের ভিড়
সাজেকে পর্যটকদের ভিড়

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভালো তাই এখন থেকে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার পর্যটক আসবে। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পর্যটকদের চাপ হবে উল্লেখ করে বন কর্মকর্তা বলেন, চারদিকে ঘন সবুজ পরিবেশরে মাঝে বুঁদ হয়ে থাকার নেশায় যেকোনো পর্যটেকরই পছন্দের স্থান সাজেক। ভরা এই পর্যটক মৌসুমে সাজেকের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হচ্ছেন দেশি পর্যটকরাও।

জানা যায়, বড় বড় গর্জন গাছ এবং সেগুন গাছ গাছ রয়েছে। দৃষ্টি যতদূর যায় সবখানেই যেন কোনো শিল্পী সবুজ অরণ্য তৈরি করে রেখেছেন। অপরূপ চিত্রল দল, বন মোরগের ডাক, বানরের চেঁচামেচি , মৌমাছির গুঞ্জন ও বিশ্বখ্যাত । এসব বৈচিত্রময়তার কারণে বরাবরই দেশি পর্যটকদের কাছে সাজেক কদর আলাদা। গত দুই বছর করোনার কারণে দেশি পর্যটকদের সংখ্যা তলানিতে নেমে এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে সে চিত্র পাল্টে গেছে পুরোটাই।