ডিএনএ রিপোর্ট হাইকোর্টে
সেই মাহমুদুর রহমানই বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী

- সময় ০২:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪
- / 53
২০২১ সালে ঢাকার সাভারে মাহমুদুর রহমান নামের দাফন করা লাশটি বিএনপি নেতা আবুল হারিছ চৌধুরীর। তার সঙ্গে মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীর ডিএনএ মিলেছে। এমন প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর হারিছ চৌধুরীকে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী স্থানে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ বুধবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আজাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হারিছ চৌধুরী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ছিলেন।
এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ আবুল হারিছ চৌধুরীর পরিচয় নির্ধারণে কবর থেকে তুলে করা ডিএনএ টেস্ট করার নির্দেশ দেন।

২০২১ সালে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আবুল হারিছ চৌধুরী ‘মাহমুদুর রহমান’ পরিচয়ে ঢাকার সাভারের জালালাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসার কবরস্থানে দাফন করা হয়।
হারিছ চৌধুরীর মেয়ে জানান, সদ্য বিদায়ী স্বৈরাচারী সরকার ওদের গোয়েন্দা বিভাগ একটা নাটক রচনা করে বাবার মৃত্যুকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মিডিয়া একটার পর একটা রিপোর্ট করেছে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এটা নিয়ে যেন কখনো প্রশ্ন না উঠে সেটা নির্দিষ্ট করার জন্য এ রিট করেছি। আমার বাবার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকবে সন্তান হিসেবে এটা খুব মর্মান্তিক, কষ্টদায়ক। এখনো মানুষ জিজ্ঞেস করে সত্যিই কি মারা গেছেন! আমাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তাই এটা শেষ করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত নিরাশ করেননি।
উল্লেখ্য, হারিছ চৌধুরী ১৯৪৭ সালে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দিঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের দর্পনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার নানাবাড়ি ভারতের আসামে করিমগঞ্জ জেলার বদরপুরে। তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে এমএ পাশ করেন।
তার চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন শুরু ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের জাগদলে যোগ দেন। বিএনপি গঠনের পর সংগঠনের সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিলেট-১০ আসন থেকে ও ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন তিনি।
তবে ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে তিনি তার বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন। ২০০১ সালে সরকার গঠন করে খালেদা জিয়া হারিছ চৌধুরীকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন।