শেরপুরে পীর মুর্শিদদের লংমার্চ

- সময় ০৩:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪
- / 63
শেরপুরের খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের দরবারে (মুর্শিদপুর পীর) হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) ভোরে সদর উপজেলার লছমনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে গেলে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে।
এদিকে, আজ শুক্রবার খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের দরবারের (মুর্শিদপুর পীর) ভক্ত আশেকানরা এই হামলার প্রতিবাদে লংমার্চ করেছে। সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার ভক্ত এই লংমার্চে যোগ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও এলাকাবাসী সদর উপজেলার লছমনপুর এলাকায় অবস্থিত মুর্শিদপুর দরবার শরীফের কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, পীরের দরবারে ইসলামপরিপন্থি কার্যকলাপ পরিচালিত হয়। ২৬ নভেম্বর ভোরে মাদ্রাসাশিক্ষক মো. তরিকুল ইসলামসহ ৪০০-৫০০ জন মানুষ মুর্শিদপুর পীরের দরবারে হামলা চালান। পরবর্তীতে সেখানে অগ্নিসংযোগও করা হয়। গরু, মহিশও লুটপাট করে নিয়ে যায় আক্রমণকারীরা।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আসিফ (২৫), শহিদুল ইসলাম (৩৫), আল মাসুদ (১৫), জিসান (২২), এনামুল হক (৩৫) ও হাফেজ (৩৯) নামের ছয় জনকে জেলা সদর হাসপাতালে এবং জয়নাল নামে গুরুতর আহত একজনকে (২৮) উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
এ ঘটনায় দরবার শরীফের খাদেম মাহমুদান মাসুদ বাদী হয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সুপারসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসাশিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘দরবারের লোকজন আপসের কথা বলে দরবারে ডেকে নিয়ে আমাদের লোকজনকে মারধর করেছেন। এতে আমাদের সাত জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দরবারের লোকজন নিজেরাই বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে এলাকাবাসীর ওপর দায় চাপাচ্ছেন।’