০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরিবেশ সুরক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব

রিজওয়ানা হাসানের প্রশ্ন, ঢাকায় বসবাস এত কঠিন কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সময় ০৪:৪০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  • / 28

রিজওয়ানা হাসান

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি, এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, “শুধু মেট্রোরেল, দ্রুতগতির ট্রেন, ফ্লাইওভার কিংবা বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিবেশের প্রতি মনোযোগ না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।”

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভাবতে হবে, ঢাকায় বসবাস এত কঠিন কেন? কেন আমরা শান্তভাবে বসে চিন্তা করতে পারি না?”
তিনি শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, নদীদূষণ এবং খাদ্যে ভেজালের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “আমরা পরিবেশ নিয়ে শুধু সাধারণভাবে চিন্তা করি, কিন্তু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেই না। এখনই সবাই মিলে দেশকে দূষণমুক্ত করতে কাজ শুরু করা দরকার।”

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম।

৭৫ বর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী সরওয়ার আলম-সহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এমন এক বাস্তবতায় বাস করছি, যেখানে লাউডস্পিকারের উচ্চ শব্দে সারাক্ষণ বিরক্ত হতে হয়। আমাদের এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শব্দদূষণ সহনীয় মাত্রায় থাকবে।”

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগকে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন,
“শুধু নীতিনির্ধারকদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, আমাদের প্রত্যেককেই ব্যক্তিগতভাবে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে উদ্যোগী হতে হবে।”

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমাদের সভ্যতা ও টেকসই সমাজ গঠনের জন্য পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল প্রশাসক, করপোরেট কর্মকর্তা বা কর্মী হয়ে পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল থাকবেন বলে আমি আশা করি। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাকে জানান।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, যেখানে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। আমি আশা করি, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ আমাদের হতাশ করবে না, বরং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তাদের পরিবারের সদস্যরা, পরিবেশবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই আলোচনা সভায় পরিবেশ সুরক্ষায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনরায় তুলে ধরা হয়।

শেয়ার করুন

পরিবেশ সুরক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব

রিজওয়ানা হাসানের প্রশ্ন, ঢাকায় বসবাস এত কঠিন কেন?

সময় ০৪:৪০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি, এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, “শুধু মেট্রোরেল, দ্রুতগতির ট্রেন, ফ্লাইওভার কিংবা বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিবেশের প্রতি মনোযোগ না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।”

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভাবতে হবে, ঢাকায় বসবাস এত কঠিন কেন? কেন আমরা শান্তভাবে বসে চিন্তা করতে পারি না?”
তিনি শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, নদীদূষণ এবং খাদ্যে ভেজালের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “আমরা পরিবেশ নিয়ে শুধু সাধারণভাবে চিন্তা করি, কিন্তু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেই না। এখনই সবাই মিলে দেশকে দূষণমুক্ত করতে কাজ শুরু করা দরকার।”

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম।

৭৫ বর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী সরওয়ার আলম-সহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এমন এক বাস্তবতায় বাস করছি, যেখানে লাউডস্পিকারের উচ্চ শব্দে সারাক্ষণ বিরক্ত হতে হয়। আমাদের এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শব্দদূষণ সহনীয় মাত্রায় থাকবে।”

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগকে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন,
“শুধু নীতিনির্ধারকদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, আমাদের প্রত্যেককেই ব্যক্তিগতভাবে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে উদ্যোগী হতে হবে।”

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমাদের সভ্যতা ও টেকসই সমাজ গঠনের জন্য পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল প্রশাসক, করপোরেট কর্মকর্তা বা কর্মী হয়ে পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল থাকবেন বলে আমি আশা করি। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাকে জানান।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, যেখানে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। আমি আশা করি, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ আমাদের হতাশ করবে না, বরং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তাদের পরিবারের সদস্যরা, পরিবেশবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই আলোচনা সভায় পরিবেশ সুরক্ষায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনরায় তুলে ধরা হয়।