যুবলীগ নেতার কারসাজি, সান মেরিনার বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ | Bangla Affairs
০১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যুবলীগ নেতার কারসাজি, সান মেরিনার বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়াকাটা
  • সময় ০৫:৪১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
  • / 65

কুয়াকাটা সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী শামীম আল সাইফুল সোহাগের কারসাজিতে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেটে সান মেরিনা নামের একটি প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল হক (৬৫) এর স্বাক্ষর জাল করে সম্পত্তির একাংশ বিক্রি করা এবং পুরো সম্পত্তি দখলে নেয়ার অভিযোগ কোম্পানির এমডি মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে জমির প্রকৃত মালিক সান মেরিনা প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল অভিযোগ করে বলেন, ২০১০ সালে ক্রয় করে মোট ৭৭ শতাংশ জমির উপরে গড়ে ওঠা এই প্রপার্টিজের তিনজন মালিক থাকায় কোম্পানির চেয়ারম্যান হন তিনি। তখন ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয় মোশারফ হোসেন এবং আসলাম আহমেদ ডিএমডি হন।

কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচলক হওয়ার পর মোশারাফ হোসেন আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল সাইফুল সোহাগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পুরো সম্পত্তি নিজের কব্জায় নেয়ার পাঁয়তারা চালায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যবে তিনি জানান, এমডি তার দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করে। তিনি মূলত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এক সন্ত্রাসী ক্যাডার। গত সোমবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতারকৃত যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগের অন্যতম সহযোগী।

শামীম আল সাইফুল সোহাগ
শামীম আল সাইফুল সোহাগ

গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল সাইফুল তার ক্ষমতা ব্যবহার করে ২০২০ সালে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের আমাকে উক্ত জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে বলেও অভিযোগ করেন জমির প্রকৃত মালিক মোহাম্মদ জহিরুল। এমডি মোশারফ আমার সহিসাক্ষর জাল করে বোর্ড মিটিং করে একা একা। আমার অগোচরে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে এক কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা সম্পূর্ণরূপে আত্মসাৎ করে। অথচ বেশিরভাগ টাকাই পাওনাদারদের। আমি এবং কয়েকজন পাওনাদার তার বিরুদ্ধে ঢাকাতে কোর্টে মামলা করি। দু-একটিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পুলিশ রিপোর্ট প্রদান করা হয়।

তিনি আরো জানান, আমাদের অন্য শেয়ার মালিক আসলাম ২০২১ সালের জুন মাসে মারা যায়। তার মৃত্যুর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী মোশারফ। মৃত্যুর দুইদিন পূর্বে সে তার দুটি নাবালক শিশুকে আমার হাতে তুলে দেয়। আমি আমার ও আসলামের অংশটুকু ফেরত পেতে সরকারের সহযোগীতা চাই।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কোম্পানির এমডি মোশারফ হোসেন বলেন, সান মেরিনা কোম্পানির চেয়ারম্যান আমার স্ত্রী। এই কোম্পানির সাথে জহিরুলের কোন সম্পর্ক নেই। জহিরুল আমার অন্য একটি ব্যবসার পার্টনার ছিল। তার সাথে আমার ২০১৭ সাল থেকে যোগাযোগ নেই। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা।

উল্লেখ্য, বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষাসহ পিএসসির ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি হোটেলের শেয়ার কেনা নিয়ে গত ১৮ মে সৈয়দ আবেদ আলীর দেওয়া পোস্ট নিয়েও পরেছিল শোরগোল। সেই পোস্টে তিনি সান মেরিনা হোটেলে নিজের বলে দাবি করেন।

শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতার কারসাজি, সান মেরিনার বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

সময় ০৫:৪১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী শামীম আল সাইফুল সোহাগের কারসাজিতে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেটে সান মেরিনা নামের একটি প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল হক (৬৫) এর স্বাক্ষর জাল করে সম্পত্তির একাংশ বিক্রি করা এবং পুরো সম্পত্তি দখলে নেয়ার অভিযোগ কোম্পানির এমডি মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে জমির প্রকৃত মালিক সান মেরিনা প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল অভিযোগ করে বলেন, ২০১০ সালে ক্রয় করে মোট ৭৭ শতাংশ জমির উপরে গড়ে ওঠা এই প্রপার্টিজের তিনজন মালিক থাকায় কোম্পানির চেয়ারম্যান হন তিনি। তখন ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয় মোশারফ হোসেন এবং আসলাম আহমেদ ডিএমডি হন।

কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচলক হওয়ার পর মোশারাফ হোসেন আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল সাইফুল সোহাগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পুরো সম্পত্তি নিজের কব্জায় নেয়ার পাঁয়তারা চালায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যবে তিনি জানান, এমডি তার দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করে। তিনি মূলত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এক সন্ত্রাসী ক্যাডার। গত সোমবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতারকৃত যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগের অন্যতম সহযোগী।

শামীম আল সাইফুল সোহাগ
শামীম আল সাইফুল সোহাগ

গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল সাইফুল তার ক্ষমতা ব্যবহার করে ২০২০ সালে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের আমাকে উক্ত জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে বলেও অভিযোগ করেন জমির প্রকৃত মালিক মোহাম্মদ জহিরুল। এমডি মোশারফ আমার সহিসাক্ষর জাল করে বোর্ড মিটিং করে একা একা। আমার অগোচরে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে এক কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা সম্পূর্ণরূপে আত্মসাৎ করে। অথচ বেশিরভাগ টাকাই পাওনাদারদের। আমি এবং কয়েকজন পাওনাদার তার বিরুদ্ধে ঢাকাতে কোর্টে মামলা করি। দু-একটিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পুলিশ রিপোর্ট প্রদান করা হয়।

তিনি আরো জানান, আমাদের অন্য শেয়ার মালিক আসলাম ২০২১ সালের জুন মাসে মারা যায়। তার মৃত্যুর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী মোশারফ। মৃত্যুর দুইদিন পূর্বে সে তার দুটি নাবালক শিশুকে আমার হাতে তুলে দেয়। আমি আমার ও আসলামের অংশটুকু ফেরত পেতে সরকারের সহযোগীতা চাই।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কোম্পানির এমডি মোশারফ হোসেন বলেন, সান মেরিনা কোম্পানির চেয়ারম্যান আমার স্ত্রী। এই কোম্পানির সাথে জহিরুলের কোন সম্পর্ক নেই। জহিরুল আমার অন্য একটি ব্যবসার পার্টনার ছিল। তার সাথে আমার ২০১৭ সাল থেকে যোগাযোগ নেই। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা।

উল্লেখ্য, বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষাসহ পিএসসির ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি হোটেলের শেয়ার কেনা নিয়ে গত ১৮ মে সৈয়দ আবেদ আলীর দেওয়া পোস্ট নিয়েও পরেছিল শোরগোল। সেই পোস্টে তিনি সান মেরিনা হোটেলে নিজের বলে দাবি করেন।