ভৈমী বা জয়া একাদশী ব্রতের মাহাত্ম্য

- সময় ১০:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
- / 56
যুধিষ্ঠির একবার শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথির গুরুত্ব কী?”
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, এই একাদশী ‘জয়া’ নামে পরিচিত এবং এটি অত্যন্ত পবিত্র। এটি সমস্ত পাপ নাশ করে, মুক্তি প্রদান করে এবং এই ব্রত পালনের ফলে কেউ কখনো প্রেতরূপ (পিশাচত্ব) লাভ করে না।
ভৈমী বা জয়া একাদশীর কাহিনি:
স্বর্গলোকে দেবরাজ ইন্দ্র একদিন নন্দনকাননে অপ্সরাদের নৃত্যের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে গন্ধর্বগণ গান গাইছিলেন। চিত্রসেন নামক এক গন্ধর্বের স্ত্রী মালিনীর এক কন্যা ছিল, যার নাম পুষ্পবন্তী। মালিনীর ভাই মাল্যবান পুষ্পবন্তীর প্রতি আকৃষ্ট হন।
নৃত্য ও গানের মধ্যে থাকলেও তারা একে অপরের দিকে তাকিয়েই সময় কাটাচ্ছিলেন, ফলে গানের তাল কেটে যায়। ইন্দ্র এই ঘটনা দেখে বুঝতে পারেন যে, তারা প্রেমে বিভোর হয়ে গেছে এবং তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তোমরা আমার আদেশ অমান্য করেছ, তাই অভিশাপ দিলাম – তোমরা এখন থেকেই পিশাচরূপে মর্ত্যে বাস করবে!”
ইন্দ্রের অভিশাপে তারা দুজনই ভয়ানক পিশাচরূপ ধারণ করে হিমালয়ের জঙ্গলে ঘুরতে লাগল। প্রচণ্ড কষ্টে দিন কাটছিল। একদিন মাল্যবান বলল, “আমরা তো বড় কোনো পাপ করিনি, তবুও এত কষ্ট পাচ্ছি। এখন থেকে আর কোনো পাপ করব না।”
এভাবে কষ্ট করতে করতে একদিন মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের ‘জয়া’ একাদশী এসে গেল। না জেনেই তারা উপবাস ও রাত্রিজাগরণ করল, কারণ তারা শীত ও কষ্টে কিছুই খেতে পারেনি এবং রাতে ঘুমাতেও পারেনি।
এই ব্রতের মহিমায় তাদের পিশাচত্ব দূর হয়ে গেল এবং তারা আবার স্বর্গলোকে ফিরে গেল। ইন্দ্র বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী করলে যে আমার অভিশাপ থেকে মুক্ত হলে?”
মাল্যবান বললেন, “ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় জয়া একাদশীর ব্রত পালন করেই আমরা মুক্তি পেয়েছি।”
ইন্দ্র খুশি হয়ে বললেন, “যারা জয়া একাদশী ব্রত পালন করবে, তারা আমাদের মতো দেবতাদেরও পূজনীয় হবে।”
ভৈমী বা জয়া একাদশীর ফলাফল:
এই ব্রত পালন করলে ব্রহ্মহত্যার মতো গুরুতর পাপও নাশ হয়।
সকল যজ্ঞ ও তীর্থের পুন্যফল লাভ হয়।
এই ব্রতের কথা শ্রবণ ও পাঠ করলেও অগ্নিষ্ঠোম যজ্ঞের সমান পুন্য লাভ হয়।
সর্বশেষে, এই ব্রতের ফলে ভক্তরা বৈকুণ্ঠে বাস করার সৌভাগ্য লাভ করেন।
এই জন্যই জয়া একাদশী ব্রত পালন করা অত্যন্ত শুভ এবং মোক্ষ লাভের পথ সুগম করে।
শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ
-
সর্বাধিক
Devoloped By: InnoSoln Limited