বান্দরবানে পর্যটক আগমনে নতুন রেকর্ড | Bangla Affairs
০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নিষেধাজ্ঞা বলবৎ দুই উপেজলায়

বান্দরবানে পর্যটক আগমনে নতুন রেকর্ড

আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান
  • সময় ০১:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 6

বান্দরবানে পর্যটক আগমনে নতুন রেকর্ড

পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা কারণে তিন উপজেলা পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে রুমা ও থানচি বিধিনিষেধ বলবৎ থাকলেও রোয়াংছড়ি দেবতাখুম পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হয়। এডভেঞ্চার হিসেবে দেবতাখুম পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হওয়াই প্রতিদিন আগমন ঘটতে থাকে শতাধিক মানুষ। শুধু তাই নয় ভারতের বাংলাদেশী পর্যটকদের ভ্রমণের ভিসা বন্ধ থাকায় এসব পর্যটকেরা পাহাড়ের প্রকৃতি উপভোগ করতে ছুটে আসছে প্রতিদিন।

পার্বত্য এলাকায় রাজনৈতিক পর্যায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতির হবার পর এবার পর্যটক আগমনে রেকর্ড ছেড়েছে সৌন্দর্য নগরী পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। এবার ঈদের টানা সাতদিন ছুটিতে জেলায় প্রায় দুই লক্ষাধিক পর্যটক আগমন ঘটেছে। যা গত পাচঁ বছরে জেলা শহরে পর্যটকদের তেমন আগমন ঘটলেও এবছর সেটি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ফলে হোটেল-মোটেল খালি না থাকায় শতাধিক পর্যটকরা রাস্তায় ঘুরে রাত কাটিয়েছে বলে জানিয়েছে পর্যটনশিল্পে জড়িত সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ঈদের ছুটির আগের দিন পর্যন্ত বান্দরবানে হোটেল-মোটেল প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং হয়েছিল। এরপর ঈদের তিনদিনের মাথায় জেলা শহরে শতভাগ থাকায় একটিও হোটেল-মোটেল খালি নাই। প্রতিটি হোটেল- কটেজে পর্যটকদের ভরপুর। পাহাড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারও বেশী পর্যটকরা প্রবেশ করছে পর্যটন নগরী বান্দরবানে। আগত পর্যটকদের রুম দিতে না পেরে হতাশ প্রকাশ করেছে পর্যটন ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টরা।

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের টানা সাতদিন ছুটিতে বান্দরবানে প্রতিদিন ৩০ হাজারো অধিক পর্যটকরা আগমন ঘটছে। শহরে প্রতিটি হোটেল কিংবা আবাসিক ধারণ ক্ষমতা ৬ হাজার। কিন্তু শহরে প্রতিটি হোটেল রুম খালি না থাকায় ফিরে যাচ্ছে পর্যটকেরা। কোন কোন পর্যটক রুম না পেয়ে শহরে অলিগলিতে কিংবা গাড়িতে বসে রাত কাটাচ্ছে। গত পাচঁ বছরে তেমন পর্যটকরা না আসলেও এবার প্রচুর আসছে। যা কয়েক বছরে চেয়ে চলতি বছরে রেকর্ডমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে রাত নামতেই জেলার আবাসিক হোটেলগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। একাধিক আবাসিক হোটেলে ঘুরলেও কোনো রুম খালি না থাকায় রাত্রিযাপনে বিড়ম্বনায় পড়ার কথা জানিয়েছেন আগত বেশ কয়েকজন পর্যটক। রুম না পাওয়ায় রাস্তায় রাত্রিযাপন করা লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ।

বান্দরবানে পর্যটক আগমনে নতুন রেকর্ড
বান্দরবানে পর্যটক আগমনে নতুন রেকর্ড

কুমিল্লা থেকে আসা টিমের সদস্য সুমন এবং সোহাগ জানান, ২৬ জনের দল করে বান্দরবানে বেড়াতে এসেছেন। সন্ধ্যা থেকে ৩০টির মতো আবাসিক হোটেল ঘুরেও একটি রুমেরও ব্যবস্থা করতে পারেননি। যা কারণে তারা গাড়ি থামিয়ে গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়ছেন।

হোটেল গ্রান্ডভ্যালী ম্যানেজার সুমন জানিয়েছে, ঈদের শুরুর থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত একটিও রুম খালি নাই। পর্যটকেরা এসে রুম চাইছেন কিন্তু খালি না থাকায় দিতে পারছেন না তিনি।

জেলা শহরে নাগালে নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিলেক, নীলগিরি, দেবতাখুম,শৈলপ্রপাতসহ বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। সেখানেও হাজারো পর্যটক ভীড় জমেছে। কিন্তু দুই উপজেলা রুমা ও থানচি পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে পর্যটনের উপর নির্ভরশীল হওয়ার সেসব ব্যবসায়ীরা এখন রাস্তা নামার পথে।

রুমা ব্যবসায়ী সভাপতি খলিলুল রহমান জানিয়েছেন, টানা কয়েক বছর বন্ধ থাকায় রুমা উপজেলা ধ্বসে পথে। এখানকার মানুষ পর্যটনের নির্ভরশীল। কিন্তু পর্যটক নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেয়াই নানা সমস্যা মুখোমুখি হচ্ছে।

সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতির হবার পর পর্যটকদের হিড়িক পড়েছে। রুমা ও থানচি এই দুই উপজেলা খোলা থাকলে আরো পর্যটকদের আগমন বাড়ত। টানা ছুটিতে এবার বান্দরবানে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক আগমন ঘটায় রুম দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগের কয়েক বছর তুলনায় এবছর পর্যটক আগমনে রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পাচঁ বছর বন্ধ থাকায় এবার কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব বলে আশা করছেন তিনি

শেয়ার করুন

নিষেধাজ্ঞা বলবৎ দুই উপেজলায়

বান্দরবানে পর্যটক আগমনে নতুন রেকর্ড

সময় ০১:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা কারণে তিন উপজেলা পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে রুমা ও থানচি বিধিনিষেধ বলবৎ থাকলেও রোয়াংছড়ি দেবতাখুম পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হয়। এডভেঞ্চার হিসেবে দেবতাখুম পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হওয়াই প্রতিদিন আগমন ঘটতে থাকে শতাধিক মানুষ। শুধু তাই নয় ভারতের বাংলাদেশী পর্যটকদের ভ্রমণের ভিসা বন্ধ থাকায় এসব পর্যটকেরা পাহাড়ের প্রকৃতি উপভোগ করতে ছুটে আসছে প্রতিদিন।

পার্বত্য এলাকায় রাজনৈতিক পর্যায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতির হবার পর এবার পর্যটক আগমনে রেকর্ড ছেড়েছে সৌন্দর্য নগরী পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। এবার ঈদের টানা সাতদিন ছুটিতে জেলায় প্রায় দুই লক্ষাধিক পর্যটক আগমন ঘটেছে। যা গত পাচঁ বছরে জেলা শহরে পর্যটকদের তেমন আগমন ঘটলেও এবছর সেটি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ফলে হোটেল-মোটেল খালি না থাকায় শতাধিক পর্যটকরা রাস্তায় ঘুরে রাত কাটিয়েছে বলে জানিয়েছে পর্যটনশিল্পে জড়িত সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ঈদের ছুটির আগের দিন পর্যন্ত বান্দরবানে হোটেল-মোটেল প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং হয়েছিল। এরপর ঈদের তিনদিনের মাথায় জেলা শহরে শতভাগ থাকায় একটিও হোটেল-মোটেল খালি নাই। প্রতিটি হোটেল- কটেজে পর্যটকদের ভরপুর। পাহাড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারও বেশী পর্যটকরা প্রবেশ করছে পর্যটন নগরী বান্দরবানে। আগত পর্যটকদের রুম দিতে না পেরে হতাশ প্রকাশ করেছে পর্যটন ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টরা।

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের টানা সাতদিন ছুটিতে বান্দরবানে প্রতিদিন ৩০ হাজারো অধিক পর্যটকরা আগমন ঘটছে। শহরে প্রতিটি হোটেল কিংবা আবাসিক ধারণ ক্ষমতা ৬ হাজার। কিন্তু শহরে প্রতিটি হোটেল রুম খালি না থাকায় ফিরে যাচ্ছে পর্যটকেরা। কোন কোন পর্যটক রুম না পেয়ে শহরে অলিগলিতে কিংবা গাড়িতে বসে রাত কাটাচ্ছে। গত পাচঁ বছরে তেমন পর্যটকরা না আসলেও এবার প্রচুর আসছে। যা কয়েক বছরে চেয়ে চলতি বছরে রেকর্ডমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে রাত নামতেই জেলার আবাসিক হোটেলগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। একাধিক আবাসিক হোটেলে ঘুরলেও কোনো রুম খালি না থাকায় রাত্রিযাপনে বিড়ম্বনায় পড়ার কথা জানিয়েছেন আগত বেশ কয়েকজন পর্যটক। রুম না পাওয়ায় রাস্তায় রাত্রিযাপন করা লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ।

বান্দরবানে পর্যটক আগমনে নতুন রেকর্ড
বান্দরবানে পর্যটক আগমনে নতুন রেকর্ড

কুমিল্লা থেকে আসা টিমের সদস্য সুমন এবং সোহাগ জানান, ২৬ জনের দল করে বান্দরবানে বেড়াতে এসেছেন। সন্ধ্যা থেকে ৩০টির মতো আবাসিক হোটেল ঘুরেও একটি রুমেরও ব্যবস্থা করতে পারেননি। যা কারণে তারা গাড়ি থামিয়ে গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়ছেন।

হোটেল গ্রান্ডভ্যালী ম্যানেজার সুমন জানিয়েছে, ঈদের শুরুর থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত একটিও রুম খালি নাই। পর্যটকেরা এসে রুম চাইছেন কিন্তু খালি না থাকায় দিতে পারছেন না তিনি।

জেলা শহরে নাগালে নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিলেক, নীলগিরি, দেবতাখুম,শৈলপ্রপাতসহ বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। সেখানেও হাজারো পর্যটক ভীড় জমেছে। কিন্তু দুই উপজেলা রুমা ও থানচি পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে পর্যটনের উপর নির্ভরশীল হওয়ার সেসব ব্যবসায়ীরা এখন রাস্তা নামার পথে।

রুমা ব্যবসায়ী সভাপতি খলিলুল রহমান জানিয়েছেন, টানা কয়েক বছর বন্ধ থাকায় রুমা উপজেলা ধ্বসে পথে। এখানকার মানুষ পর্যটনের নির্ভরশীল। কিন্তু পর্যটক নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেয়াই নানা সমস্যা মুখোমুখি হচ্ছে।

সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতির হবার পর পর্যটকদের হিড়িক পড়েছে। রুমা ও থানচি এই দুই উপজেলা খোলা থাকলে আরো পর্যটকদের আগমন বাড়ত। টানা ছুটিতে এবার বান্দরবানে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক আগমন ঘটায় রুম দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগের কয়েক বছর তুলনায় এবছর পর্যটক আগমনে রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পাচঁ বছর বন্ধ থাকায় এবার কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব বলে আশা করছেন তিনি