বাগেরহাটে সরকারি খামারের ১৮টি মহিষের অস্বাভাবিক মৃত্যু

- সময় ১১:৩৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
- / 313
বগেরহাটের ফকিরহাটে অবস্থিত দেশের প্রথম মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে ২০টি মহিষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন তুলেছে ওই খামারেরই কর্মচারী ও এলাকাবাসীরা।
তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কারণে এ মৃত্যু ঘটেছে । আর কর্তৃপক্ষ বলছে ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ঘটনা তদন্তে ঢাকা থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শুকদাড়া এলাকায় ১৯৮৪ সালে দেশের একমাত্র
মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
উন্নত ও শংকর জাতের বকনা ও ষাঁড় প্রজনন করে উপকূলীয় এলাকার জনসাধারনের মধ্যে ভর্তূকি মূল্যে বিতরনের মাধ্যমে
দুধ, মাংস ও আমিষের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য ছিল এই মহিষ প্রজনন খামারটির।
তবে বিভিন্ন সময় এ খামারটিতে খাবার সরবরাহসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
এরই মধ্যে গতকাল ৩১ অক্টোবর বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারন ভূমি ও শেডে থাকা সাড়ে চার শতাধিক মহিষের মধ্যে থেকে ১৮টি মহিষের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এখনও অসুস্থ রয়েছে দুটি মহিষ। তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
মহিষের মৃত্যুর সঠিক কারন জানতে মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি মহিষের পোস্ট মর্টেম করে ঢাকায় নমুনা প্রেরণ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানকার মহিষের খাবার সরবরাহ করার জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করে আসছে এবং এই নিম্নমানের খাবার খেয়েই এই মহিষগুলো মৃত্যুবরণ করতে পারে।
মহিষগুলো মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে খামারটির দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কোন কারণ জানতে পারিনি। তবে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে ।
প্রজনন খামার সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঘাস খাওয়ানোর জন্য খামারের অভ্যন্তরে চারণভূমিতে মাঠে নেয়া হয় পূর্ণ বয়স্ক মহিষগুলোকে। কিছুক্ষণ পরই মহিষগুলো ছটফট করতে শুরু করে। একপর্যায়ে ১৮টি মহিষ মারা যায়। দ্রুত বাকি মহিষগুলোকে শেডে ফিরিয়ে আনা হয়।
খামারের কর্মী আক্তার হোসেন বলেন, ‘সকাল ৬টায় প্রজনন কেন্দ্রের শেড থেকে মহিষগুলোকে বাইরে বের করা হয়। ১০টার দিকে হঠাৎ দেখতে পাই কিছু মহিষ মাঠের ভেতর ছটফট করছিল।’
মৃত্যুর কারণ জানতে বাগেরহাট জেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মনোহর চন্দ্র মণ্ডলের নেতৃত্বে কয়েকটি মহিষের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মহিষগুলোর প্রয়োজনীয় অঙ্গ পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ডা. মনোহর চন্দ্র মণ্ডল।
তিনি বলেন, ‘মহিষগুলোর বিভিন্ন অর্গানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনটি মহিষ এখনো অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। মৃত্যুর সঠিক কারণ আমরা এখনো জানতে পারিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সঠিক কারণ জানা যাবে।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দা রাজু বলেন, ‘খামারের ভেতরে যে পুকুর রয়েছে, সেখানে কিছু কর্মচারী মাছ চাষ করেন। ওই মাছের জন্য রাখা পচা খাবার খেয়ে মহিষগুলো মারা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানের যারা দায়িত্বে আছেন, তারা ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। পচা ও মানহীন খাবার খেয়ে মাঝে মাঝেই মহিষ অসুস্থ হয়।’
এ ব্যাপারে মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আহসান হাবীব বলেন, ‘মহিষগুলোকে শেড থেকে মাঠে নেয়ার পর কিছু মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত ১৮টি মহিষের মৃত্যু হয়েছে, দুটি মুমূর্ষু অবস্থায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
খামারের কিছু কর্মচারী পুকুরে মাছ চাষ করেন বলে স্বীকার করেন এ কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহেব আলী।