বরিশালে ছারখার দুর্বার রাজশাহী

- সময় ০৯:০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪
- / 66
দুর্বার রাজশাহীর দেওয়া ১৯৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল ফরচুন বরিশাল। ম্যাচটা যে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা হারতে যাচ্ছে, সেটাই ছিল ভবিতব্য। তবে এরপরই গল্পে বড় বাঁকবদল। মূলত সেখান থেকেই বরিশাল ছারখার করে দিয়েছে দুর্বার রাজশাহীকে। বল হাতে তেমন কিছু করতে না পারা শাহিন আফ্রিদি যেন হয়ে গেলেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান। তাসকিনের বলে আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ৩ ছক্কা আর ১ চারে ২৭ রান করে শাহিন।
পাকিস্তানি ‘ব্যাটসম্যান’ যে ঝড়টা শুরু করেছিলেন, সেটাকে তাণ্ডবে পরিণত করেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ ও ফাহিম আশরাফ। দুজনের ৩৫ বলে ৮৮ রানের ঝড়ে ১১ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের দেখা পেয়েছে বরিশাল।
এর আগে বিপিএল ইতিহাসে ১৯৭ বা এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ছিল ৩টি। সংখ্যাটাকে বাড়িয়ে আজ চারে নিয়ে গেলেন বর্তমান চ্যাম্পিয়না। বরিশলাকে জয় এনে দেওয়ার পথে ২৬ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ। আরেক প্রান্তে ফাহিম আশরাফ ছিলেন আরও বিধ্বংসী। মাত্র ২১ বলে ১ চার ও ৭ ছক্কায় ৫৪ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ফাহিম।।
১৯৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে বরিশাল শুরুতেই ধাক্কা খায় ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তকে হারিয়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই শান্তকে এলবিডাব্লিউ করেন জিসান আলম। শুরুতে আম্পায়ারি আসিফ ইয়াকুব আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে ব্রেকথ্রু পেয়ে যায় রাজশাহী।
পরের ওভারে বিদায় নেন বরিশালের আরেক ওপেনার তামিম ইকবালও। তাসকিন আহমেদের ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্স আর গতিকে কাজে লাগিয়ে দৃষ্টিনন্দন একটি ছক্কা মারেন বাঁহাতি এ ওপেনার। তাসকিনের পরের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে এলবিডাব্লিউ হন ৫ বলে ৭ রান করা তামিম। চারে নেমে কাইল মেয়ার্সও থিতু হতে পারেননি। চতুর্থ ওভারে তাসকিনের বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে রায়ান বার্লের হাতে ক্যাচ দেন মেয়ার্স (৬ রান)।
৩০ রানে ৩ উইকেট হারানো বরিশাল পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৯ রান তোলে। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হতেই উইকেট হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলকে ৫১ রানে রেখে হাসান মুরাদকে সুইপ করতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে লাহিরু সামারাকুনের হাতে ক্যাচে পরিণত হন মুশফিক (১৩)। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি হৃদয়ও। মুরাদের পরের ওভারের প্রথম বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে র্শ থার্ড ম্যানে সামারাকুনের হাতেই ধরা পড়েন ২৪ বছর বয়সী এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বরিশাল তখন ধুঁকছে। বরিশাল বড় ব্যবধানে হারতে যাচ্ছে, এটাকে ভবিতব্য ধরে বিপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয়ের পরিসংখ্যানটাও চোখ বুলিয়ে নিতে হচ্ছিল। গ্যালারিতে সংখ্যায় কম থাকলেও রাজশাহী সমর্থকদের গলার জোরটাই তখন বেশি।
কিন্তু কে জানত, ম্যাচের গল্পে তখনও অনেক বাঁক বাকি! শাহিন আফ্রিদি উইকেট এসে মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে মুরাদকে ডিপ এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে একটা আভাস দিলেন। সামারাকুনের পরের ওভারে ২ ছক্কা ও ১ চারে মাহমুদউল্লাহ নিলেন ১৮ রান। বার্লের পরের ওভারে আফ্রিদি ছক্কা মারলেন আরও একটি।
মাহমুদউল্লাহ-শাহিন আফ্রিদি বল সীমানা ছাড়া করছিলেন, ক্রমেই গর্জন বাড়তে থাকে রবিশাল সমর্থকদের। ১২তম ওভারে সামারাকুনকে ছক্কা মেরে বরিশালের রান ১০০ পার করেন শাহিন। বোলার থেকে ব্যাটসম্যান বনে যাওয়া শাহিন ১৩তম ওভারও শুরু করেছিলেন তাসকিনকে ডিপ মিডউইকেটে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে। তবে পরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোহাম্মাদ হারিসের হাতে ধরা পড়েন শাহিন। এতে ২৫ বলে ৫১ রানে থেমে যায় শাহিন-মাহমুদউল্লাহর ষষ্ঠ উইকেট জুটি।
শাহিন আফ্রিদি আউট হলেও বরিশাল সমর্থকদের উদযাপন থামাতে দেননি মাহমুদউল্লাহ। আটে নামা ফাহিম আশরাফও যোগ দেন সে বাউন্ডারি উৎসবে। ইনিংসের ১৯তম ওভারের প্রথম বলে দারুণ এক ছক্কায় ম্যাচের শেষটা রাঙিয়ে দেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান।