প্রবাসীরা যেভাবে সদকাতুল ফিতরা আদায় করবেন | Bangla Affairs
০২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ এপ্রিল ২০২৫, ১৭ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীরা যেভাবে সদকাতুল ফিতরা আদায় করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সময় ১২:২৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫
  • / 20

ফিতরা

আমাদের দেশের যেসব ভাই প্রবাসে থাকেন তারা যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তারা কোন দেশে সদকাতুল ফিতরা আদায় করবেন!

এর উত্তর হচ্ছে, তিনি যেকোনো দেশে চাইলে আদায় করতে পারবেন। নিজ দেশে তার প্রতিনিধি যদি তার পক্ষ থেকে আদায় করে তাহলে আদায় হয়ে যাবে।

এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সামনে আসে তা হচ্ছে, এমন ব্যক্তি কোন দেশের দ্রব্যমূল্য হিসাবে সদকাতুল ফিতর আদায় করবেন? তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন সে দেশ হিসেবে, না তার স্বদেশ হিসাবে?

এর উত্তর হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে বিধান হচ্ছে সদকাতুল ফিতরা যিনি আদায় করবেন তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন সেই দেশের খাদ্যদ্রব্যের মূল্য হিসেবেই আদায় করবেন।

কেউ যদি আরব আমিরাতের প্রবাসী হন তাহলে আরব আমিরাতের খাদ্য মূল্য অনুযায়ী তাকে সদকাতুল ফিতরা আদায় করতে হবে। তাই আরব আমিরাতে বসবাসকারী কোনো ভাই যদি বাংলাদেশে সদকাতুল ফিতরা আদায় করতে চান, তাহলে আরব আমিরাতের হিসাব অনুযায়ী আদায় করতে হবে, বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী নয়।

আমাদের সমাজে অনেকেই এ ক্ষেত্রে ভুল করে থাকেন। তেমনি বিদেশে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি যদি তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা দেশে আদায় করতে চান তাহলেও বিদেশের হিসাব অনুযায়ী আদায় করতে হবে, দেশের হিসাবে নয়।

কারণ নাবালেগ সন্তানের সদকাতুল ফিতর আদায় করা পিতার ওপর আবশ্যক। আর শরিয়তে ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে যার ওপর আবশ্যক সে যে স্থানে অবস্থান করছে সেখানকার দ্রব্যমূল্য ধরে আদায় করতে হবে, যাদের পক্ষ থেকে আদায় করা হচ্ছে তাদের অবস্থান ধর্তব্য নয়।

তবে দেশে অবস্থানরত নিজ স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে যদি সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চায়, তাহলে দেশের হিসাবে আদায় করবে। কারণ স্ত্রী ও বালেগ (দাঁড়ি গোফ আছে যার) সন্তানের সদকাতুল ফিতর তাদের নিজের ওপর আবশ্যক হয়, স্বামী বা বাবার ওপর নয়।

তাই তাদের ফিতরা স্বামী বা বাবা আদায় করলে মূলত আদায়কারী তারা নিজেরাই। এ জন্য তাদের অবস্থানস্থলের দ্রব্যমূল্য হিসাবে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে।

বিদেশের অবস্থানরত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে বাবা যদি দেশে নিজ সম্পদ দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করেন, তাহলে বিদেশের হিসাব অনুযায়ী আদায় করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৫)

কিন্তু আমরা মাতৃভূমিতে জাকাত-ফিতরা দিতে উদ্বুদ্ধ করি কেন?

এই মর্মে ফাতাওয়া শামীর তৃতীয় খণ্ডের ৩০৪ নং পৃষ্ঠায় আছে– জাকাতের সম্পদ স্থানান্তর করা মাকরুহ। তবে ৫ কারণে মাকরুহ হবে না।

প্রথমত আত্মীয়দের দেওয়ার জন্য। এমনকি জহিরিয়া গ্রন্থে আছে– আত্মীয়স্বজনের প্রয়োজন সত্ত্বেও বাহিরে দানকারীর সদকা কবুল হবে না, যতক্ষণ না তাদের প্রয়োজন পূরণ করবে।

দ্বিতীয়ত অধিক প্রয়োজনবোধের কারণে। গ্রহীতার জন্য যদি পরম কল্যাণকর হয় অথবা তিনি পরম খোদাভীরু হন অথবা তিনি মুসলিম সমাজের কল্যাণে বেশি অবদান রাখেন।

তৃতীয়ত কাফের রাষ্ট্র থেকে মুসলিম রাষ্ট্রে প্রেরণের উদ্দেশ্যে।

চতুর্থত তালেবে এলেম বা ইসলামী জ্ঞান আহরণকারীর উদ্দেশ্যে পাঠানো হলে। আল মেরাজ গ্রন্থে আছে– অভাবী আলেমকে দান করা উত্তম।

পঞ্চমত ধর্মীয় কারণে সংসারে সময় দিতে পারছেন না এমন দুনিয়া ত্যাগীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো হলে।

আলোচ্য কারণসমূহ আমলে নিয়েই আমরা প্রবাসীদের মাতৃভূমিতে জাকাত-ফিতরা পাঠাতে বলি।

শেয়ার করুন

প্রবাসীরা যেভাবে সদকাতুল ফিতরা আদায় করবেন

সময় ১২:২৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫

আমাদের দেশের যেসব ভাই প্রবাসে থাকেন তারা যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তারা কোন দেশে সদকাতুল ফিতরা আদায় করবেন!

এর উত্তর হচ্ছে, তিনি যেকোনো দেশে চাইলে আদায় করতে পারবেন। নিজ দেশে তার প্রতিনিধি যদি তার পক্ষ থেকে আদায় করে তাহলে আদায় হয়ে যাবে।

এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সামনে আসে তা হচ্ছে, এমন ব্যক্তি কোন দেশের দ্রব্যমূল্য হিসাবে সদকাতুল ফিতর আদায় করবেন? তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন সে দেশ হিসেবে, না তার স্বদেশ হিসাবে?

এর উত্তর হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে বিধান হচ্ছে সদকাতুল ফিতরা যিনি আদায় করবেন তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন সেই দেশের খাদ্যদ্রব্যের মূল্য হিসেবেই আদায় করবেন।

কেউ যদি আরব আমিরাতের প্রবাসী হন তাহলে আরব আমিরাতের খাদ্য মূল্য অনুযায়ী তাকে সদকাতুল ফিতরা আদায় করতে হবে। তাই আরব আমিরাতে বসবাসকারী কোনো ভাই যদি বাংলাদেশে সদকাতুল ফিতরা আদায় করতে চান, তাহলে আরব আমিরাতের হিসাব অনুযায়ী আদায় করতে হবে, বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী নয়।

আমাদের সমাজে অনেকেই এ ক্ষেত্রে ভুল করে থাকেন। তেমনি বিদেশে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি যদি তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা দেশে আদায় করতে চান তাহলেও বিদেশের হিসাব অনুযায়ী আদায় করতে হবে, দেশের হিসাবে নয়।

কারণ নাবালেগ সন্তানের সদকাতুল ফিতর আদায় করা পিতার ওপর আবশ্যক। আর শরিয়তে ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে যার ওপর আবশ্যক সে যে স্থানে অবস্থান করছে সেখানকার দ্রব্যমূল্য ধরে আদায় করতে হবে, যাদের পক্ষ থেকে আদায় করা হচ্ছে তাদের অবস্থান ধর্তব্য নয়।

তবে দেশে অবস্থানরত নিজ স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে যদি সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চায়, তাহলে দেশের হিসাবে আদায় করবে। কারণ স্ত্রী ও বালেগ (দাঁড়ি গোফ আছে যার) সন্তানের সদকাতুল ফিতর তাদের নিজের ওপর আবশ্যক হয়, স্বামী বা বাবার ওপর নয়।

তাই তাদের ফিতরা স্বামী বা বাবা আদায় করলে মূলত আদায়কারী তারা নিজেরাই। এ জন্য তাদের অবস্থানস্থলের দ্রব্যমূল্য হিসাবে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে।

বিদেশের অবস্থানরত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে বাবা যদি দেশে নিজ সম্পদ দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করেন, তাহলে বিদেশের হিসাব অনুযায়ী আদায় করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৫)

কিন্তু আমরা মাতৃভূমিতে জাকাত-ফিতরা দিতে উদ্বুদ্ধ করি কেন?

এই মর্মে ফাতাওয়া শামীর তৃতীয় খণ্ডের ৩০৪ নং পৃষ্ঠায় আছে– জাকাতের সম্পদ স্থানান্তর করা মাকরুহ। তবে ৫ কারণে মাকরুহ হবে না।

প্রথমত আত্মীয়দের দেওয়ার জন্য। এমনকি জহিরিয়া গ্রন্থে আছে– আত্মীয়স্বজনের প্রয়োজন সত্ত্বেও বাহিরে দানকারীর সদকা কবুল হবে না, যতক্ষণ না তাদের প্রয়োজন পূরণ করবে।

দ্বিতীয়ত অধিক প্রয়োজনবোধের কারণে। গ্রহীতার জন্য যদি পরম কল্যাণকর হয় অথবা তিনি পরম খোদাভীরু হন অথবা তিনি মুসলিম সমাজের কল্যাণে বেশি অবদান রাখেন।

তৃতীয়ত কাফের রাষ্ট্র থেকে মুসলিম রাষ্ট্রে প্রেরণের উদ্দেশ্যে।

চতুর্থত তালেবে এলেম বা ইসলামী জ্ঞান আহরণকারীর উদ্দেশ্যে পাঠানো হলে। আল মেরাজ গ্রন্থে আছে– অভাবী আলেমকে দান করা উত্তম।

পঞ্চমত ধর্মীয় কারণে সংসারে সময় দিতে পারছেন না এমন দুনিয়া ত্যাগীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো হলে।

আলোচ্য কারণসমূহ আমলে নিয়েই আমরা প্রবাসীদের মাতৃভূমিতে জাকাত-ফিতরা পাঠাতে বলি।