পাকিস্তান ফের ভাঙছে? | Bangla Affairs
০৬:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান ফের ভাঙছে?

নিউজ ডেস্ক
  • সময় ০৬:১৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪
  • / 273

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জন্ম নেয় পাকিস্তান। শুরুতে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গঠিত এই দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম দেয়। কিন্তু পাকিস্তানের ইতিহাসে নতুন করে আবারও ভাঙনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পাকিস্তান এখন আবার একটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংকটে নিমজ্জিত। চারটি প্রধান প্রদেশ – পাঞ্জাব, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান – প্রতিটি নিজস্ব সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার পাসতুন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে।

১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নেও থামেনি। বেলুচ জাতিগোষ্ঠীর অনেকেই মনে করেন, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে তারা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চল থেকে গ্যাসসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে, কিন্তু স্থানীয় জনগণ সেই সম্পদের সামান্যই সুবিধা ভোগ করে।

পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর উপর ব্যাপক নির্ভর করে আসছে। কিন্তু দমনমূলক কার্যক্রমের ফলে বেলুচ জাতীয়তাবাদীরা আরও ক্ষুব্ধ হচ্ছে। তারা জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য চাচ্ছে।

অন্যান্যদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে পাসতুন স্বাধীনতাবাদীদের তৎপরতাও উল্লেখযোগ্য। পাসতুনিস্তান নামে একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় তালেবান এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা সরকারকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। ইমরান খানের সরকার পতনের পর বর্তমান সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সা¤প্রতিক সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাবন্দী করা এবং তার দলের উপর সরকারিভাবে চাপ সৃষ্টি, রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইমরান খানের দল পিটিআই-এর সমর্থকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। ঋণের ভারে ডুবে থাকা পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সহায়তায় দিন কাটাচ্ছে। বেকারত্ব, দারিদ্র্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং অব্যবস্থাপনা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজে বেকারত্বের কারণে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না করা গেলে, দেশটির অভ্যন্তরে ভাঙনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া সহ অন্যান্য অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই বিষয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

শেয়ার করুন

পাকিস্তান ফের ভাঙছে?

সময় ০৬:১৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জন্ম নেয় পাকিস্তান। শুরুতে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গঠিত এই দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম দেয়। কিন্তু পাকিস্তানের ইতিহাসে নতুন করে আবারও ভাঙনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পাকিস্তান এখন আবার একটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংকটে নিমজ্জিত। চারটি প্রধান প্রদেশ – পাঞ্জাব, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান – প্রতিটি নিজস্ব সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার পাসতুন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে।

১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নেও থামেনি। বেলুচ জাতিগোষ্ঠীর অনেকেই মনে করেন, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে তারা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চল থেকে গ্যাসসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে, কিন্তু স্থানীয় জনগণ সেই সম্পদের সামান্যই সুবিধা ভোগ করে।

পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর উপর ব্যাপক নির্ভর করে আসছে। কিন্তু দমনমূলক কার্যক্রমের ফলে বেলুচ জাতীয়তাবাদীরা আরও ক্ষুব্ধ হচ্ছে। তারা জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য চাচ্ছে।

অন্যান্যদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে পাসতুন স্বাধীনতাবাদীদের তৎপরতাও উল্লেখযোগ্য। পাসতুনিস্তান নামে একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় তালেবান এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা সরকারকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। ইমরান খানের সরকার পতনের পর বর্তমান সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সা¤প্রতিক সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাবন্দী করা এবং তার দলের উপর সরকারিভাবে চাপ সৃষ্টি, রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইমরান খানের দল পিটিআই-এর সমর্থকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। ঋণের ভারে ডুবে থাকা পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সহায়তায় দিন কাটাচ্ছে। বেকারত্ব, দারিদ্র্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং অব্যবস্থাপনা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজে বেকারত্বের কারণে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না করা গেলে, দেশটির অভ্যন্তরে ভাঙনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া সহ অন্যান্য অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই বিষয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।