দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / 381
দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ লক্ষ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি প্রস্তাব করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, অপচয় ও দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ থেকে বের হতে সরকার পাঁচ বছরের উন্নয়ন রোডম্যাপ তৈরি করেছে।
মন্ত্রী জানান, ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এ রাষ্ট্রীয় সংস্কার, প্রশাসনিক দক্ষতা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও সামাজিক ভারসাম্যের দিকনির্দেশনা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিকল্পনার প্রথম স্তম্ভ রাষ্ট্র সংস্কার। এতে বিচারসেবা সম্প্রসারণ, প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিপি শুধু অবকাঠামো নয়, বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনীতি গড়ার সমন্বিত পরিকল্পনা।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপির মধ্যে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা আসবে সরকারি অর্থায়ন থেকে এবং ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের বাস্তবায়ন সক্ষমতা বেশি থাকায় বড় উন্নয়ন বাজেট নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প নেওয়ার পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নের সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে অনিয়মের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন থেকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ছাড়া কাউকে পিডি করা হবে না। সময়মতো প্রকল্প শেষ না হলে দায়ও নির্ধারণ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে আলাদা ড্যাশবোর্ড থাকবে। প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং অনিয়ম বা ধীরগতির ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্প চলমান ছিল। এর অনেকগুলোই অগ্রাধিকারবিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রয়োজনহীন প্রকল্প বাদ দেওয়া হবে, আর জনগণের উপকারে আসবে এমন প্রকল্প শেষ করা হবে।
থোক বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোনো কিছু প্রকল্প বাদ দিয়ে নতুন প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ রাখতেই এ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আমির খসরু বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে ‘ভ্যালু ফর মানি’ থাকতে হবে। কত কর্মসংস্থান হবে এবং অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তা বিবেচনায় নিয়েই প্রকল্প নেওয়া হবে। সরকার ‘জবলেস গ্রোথ’ চায় না।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে তরুণরা দক্ষ হয়ে দেশে-বিদেশে কাজের সুযোগ পায়।
রাজস্ব আদায় নিয়ে তিনি বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এনবিআর সংস্কার করা হবে এবং নতুন করদাতা কর নেটওয়ার্কে আনা হবে।
বড় বাজেটের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিনিয়োগ ছাড়া প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান হবে না।
তিনি আরও জানান, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেপি মরগ্যানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এস এম শাকিল আখতার উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এনইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।































