দিঘীনালায় ধ্বংসের মুখে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী মাঠ | Bangla Affairs
০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দিঘীনালায় ধ্বংসের মুখে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী মাঠ

প্রমোদ কুমার মুৎসুদ্দী, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি)
  • সময় ০৮:০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / 119

দীঘিনালায় মাঠ দখল

খাগড়াছড়ি দিঘীনালায় উপজেলার থানা বাজারের পাশে অবস্থিত শত বছরের পুরো ঐতিহ্যবাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠ এখন দখলদারদের কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন খেলার মাঠ কিছু অংশ দখল করে বর্জ্য ফেলানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই খেলার মাঠ চারপাশ অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় দখলবাজরা। একসময় যে খেলার মাঠে দিঘীনালাবাসী প্রাণভরে, হাডুডু খেলা, ফুটবল খেলা, বলি বল  খেলা দেখতো;  সেটি এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই মাঠটি প্রায় শত বছর আগে করা হয়েছিল। দিঘীনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দিঘীনালা থানা বাজারের একমাত্র খেলার মাঠটি, মাঠের পাশে ছোট করে একটা শিশু পার্ক ছিল, তা এখন দখল হয়ে গেছে। পাইপগুলো শুধু দাঁড়িয়ে আছে ।

এক সময় এই মাঠটিই ছিল এলাকার মানুষের ছেলে মেয়েদের খেলাধুলার প্রধান স্থান। এটি শুধু একটি খেলার মাঠ নয়; এটি দিঘীনালা ঐতিহ্য। বর্তমানে মাঠটি দখল বাজদের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

দখলের কবলে দীঘিনালা মাঠ
দখলের কবলে দীঘিনালা মাঠ

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের চারপাশে ঘিরে আছে ঘরবাড়ি । মাঠের পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যা শুধু ধ্বংস করছে না, আশপাশের পরিবেশও দূষিত করছে।

দীঘিনালার ২ নং বোয়ালখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কামাল হোসেন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি আবেদন করেছি, ‘আমাদের ফুটবল খেলার মাঠটা যেন সংস্কার করা হয় অতি দ্রুত, মাঠের পাশের শিশুর পার্ক সংস্কার করা হয়।

দীঘীনালা উপজেলার সিনিয়র ক্রীড়া সদস্য এবং প্রাক্তন (প্রবীণ) ফুটবলার মনু মিয়া বলেন, এই মাঠটি একসময় আমাদের জীবনের অংশ ছিল। এখন আমরা এর দিকে তাকালেও কষ্ট হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

একই কথা বলেন, দিঘীনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ চন্দ্র দাস (ভারপ্রাপ্ত)। তিনি বলেন, দিঘীনালা প্রশাসনকে আমরা অবগত করেছি। প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন এই আশ্বাস পেয়েছি। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দার নাম দেওয়া যাবে না বলেন তিনি বলেন, “মাঠটি ছিল আমাদের একমাত্র খেলাধুলার উৎস। নদী থেকে বালি তোলার গাড়ি গুলো মাঠের পাশ দিয়ে চলাফেরা করে, এটি রক্ষা না করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ঐতিহ্যের কথা জানবেই না।”

দিঘীনালা বাজারের চৌধুরী জেসমিন চাকমা ময়লা আবর্জনার কথা প্রশ্ন করলে বজ্জ্য ব্যবস্থাপনা, আমরা দুর্বল, সরকার যদি ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় , তাহলে উপকৃত হবে।

এলাকাবাসী অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ এবং মাঠটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মাঠটি রক্ষা করতে না পারলে দিঘীনালা পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দিঘীনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
দিঘীনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

এ বিষয়ে দিঘীনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশিদ বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে নজরে এসেছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনবো। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

দিঘীনালায় ধ্বংসের মুখে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী মাঠ

সময় ০৮:০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪

খাগড়াছড়ি দিঘীনালায় উপজেলার থানা বাজারের পাশে অবস্থিত শত বছরের পুরো ঐতিহ্যবাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠ এখন দখলদারদের কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন খেলার মাঠ কিছু অংশ দখল করে বর্জ্য ফেলানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই খেলার মাঠ চারপাশ অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় দখলবাজরা। একসময় যে খেলার মাঠে দিঘীনালাবাসী প্রাণভরে, হাডুডু খেলা, ফুটবল খেলা, বলি বল  খেলা দেখতো;  সেটি এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই মাঠটি প্রায় শত বছর আগে করা হয়েছিল। দিঘীনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দিঘীনালা থানা বাজারের একমাত্র খেলার মাঠটি, মাঠের পাশে ছোট করে একটা শিশু পার্ক ছিল, তা এখন দখল হয়ে গেছে। পাইপগুলো শুধু দাঁড়িয়ে আছে ।

এক সময় এই মাঠটিই ছিল এলাকার মানুষের ছেলে মেয়েদের খেলাধুলার প্রধান স্থান। এটি শুধু একটি খেলার মাঠ নয়; এটি দিঘীনালা ঐতিহ্য। বর্তমানে মাঠটি দখল বাজদের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

দখলের কবলে দীঘিনালা মাঠ
দখলের কবলে দীঘিনালা মাঠ

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের চারপাশে ঘিরে আছে ঘরবাড়ি । মাঠের পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যা শুধু ধ্বংস করছে না, আশপাশের পরিবেশও দূষিত করছে।

দীঘিনালার ২ নং বোয়ালখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কামাল হোসেন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি আবেদন করেছি, ‘আমাদের ফুটবল খেলার মাঠটা যেন সংস্কার করা হয় অতি দ্রুত, মাঠের পাশের শিশুর পার্ক সংস্কার করা হয়।

দীঘীনালা উপজেলার সিনিয়র ক্রীড়া সদস্য এবং প্রাক্তন (প্রবীণ) ফুটবলার মনু মিয়া বলেন, এই মাঠটি একসময় আমাদের জীবনের অংশ ছিল। এখন আমরা এর দিকে তাকালেও কষ্ট হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

একই কথা বলেন, দিঘীনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ চন্দ্র দাস (ভারপ্রাপ্ত)। তিনি বলেন, দিঘীনালা প্রশাসনকে আমরা অবগত করেছি। প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন এই আশ্বাস পেয়েছি। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দার নাম দেওয়া যাবে না বলেন তিনি বলেন, “মাঠটি ছিল আমাদের একমাত্র খেলাধুলার উৎস। নদী থেকে বালি তোলার গাড়ি গুলো মাঠের পাশ দিয়ে চলাফেরা করে, এটি রক্ষা না করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ঐতিহ্যের কথা জানবেই না।”

দিঘীনালা বাজারের চৌধুরী জেসমিন চাকমা ময়লা আবর্জনার কথা প্রশ্ন করলে বজ্জ্য ব্যবস্থাপনা, আমরা দুর্বল, সরকার যদি ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় , তাহলে উপকৃত হবে।

এলাকাবাসী অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ এবং মাঠটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মাঠটি রক্ষা করতে না পারলে দিঘীনালা পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দিঘীনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
দিঘীনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

এ বিষয়ে দিঘীনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশিদ বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে নজরে এসেছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনবো। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।