তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে যেসব দেশ নিরাপদ থাকবে | Bangla Affairs
০২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে যেসব দেশ নিরাপদ থাকবে

আশানুর মিঠু
  • সময় ১২:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪
  • / 69

বিশ্বযুদ্ধ

বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে প্রশ্ন উঠছে – তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি শুরু হয়ে গেছে? ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক মন্তব্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি এবং পশ্চিমা বিশ্ব ও এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থান এই শঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

এই অস্থির সময়ে, গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু দেশ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত আইসল্যান্ড। গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের তথ্যমতে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এটি যুদ্ধের আঁচ থেকে রক্ষা পেতে পারে। কারণ এর ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক নিরপেক্ষতা।

অবাক করার বিষয় হলো, ন্যাটো সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। এটি শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনন্য উদাহরণ।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন

পৃথিবীর আরেক প্রান্তে, প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে নিউজিল্যান্ড। এটি গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে দ্বিতীয় শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত। ভৌগোলিকভাবে রাশিয়া, আমেরিকা বা ইউরোপ থেকে দূরে থাকায় এটি যুদ্ধের উত্তাপ থেকে অনেকটাই নিরাপদ।

নিউজিল্যান্ডের শান্তিপূর্ণ নীতি এবং দূরবর্তী অবস্থান এটিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল করে তুলবে।

ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ, যা যুদ্ধ-রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের মানুষ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকতে পারে। কারণ এই অঞ্চল বিশ্বশক্তিগুলোর আগ্রাসনের কেন্দ্রবিন্দু নয়।

ইংল্যান্ডের পাশের দেশ আয়ারল্যান্ড। এটি ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডের কাছে হওয়ায় এ দেশের সুরক্ষা যুক্তরাজ্যের ওপর নির্ভরশীল। তবুও আয়ারল্যান্ড তার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে যুদ্ধের উত্তাপ এড়ানোর চেষ্টা করবে।

কানাডা উত্তর আমেরিকার শান্তিপূর্ণ দেশ। যদিও এটি আমেরিকার পাশের দেশ, কিন্তু তুলনামূলকভাবে যুদ্ধের উত্তাপ থেকে নিরাপদ থাকতে পারে। আমেরিকার সামরিক শক্তির ছায়াতলে থাকার কারণে কানাডা একটি নিরাপদ অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

অস্ট্রেলিয়া ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে ন্যাটোর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধের প্রভাবে জড়িয়ে যেতে পারে। তবে এর ভৌগোলিক অবস্থান এটিকে রক্ষা করতে পারে। দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে সহজে কোনো আগ্রাসন চালানো সম্ভব নয়।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা যদি সত্যি হয়, তবে বিশ্বের কিছু দেশ শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ কেবল ক্ষতি আর ধ্বংস ডেকে আনে। শান্তি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সব দেশকেই।

শেয়ার করুন

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে যেসব দেশ নিরাপদ থাকবে

সময় ১২:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪

বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে প্রশ্ন উঠছে – তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি শুরু হয়ে গেছে? ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক মন্তব্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি এবং পশ্চিমা বিশ্ব ও এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থান এই শঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

এই অস্থির সময়ে, গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু দেশ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত আইসল্যান্ড। গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের তথ্যমতে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এটি যুদ্ধের আঁচ থেকে রক্ষা পেতে পারে। কারণ এর ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক নিরপেক্ষতা।

অবাক করার বিষয় হলো, ন্যাটো সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। এটি শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনন্য উদাহরণ।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন

পৃথিবীর আরেক প্রান্তে, প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে নিউজিল্যান্ড। এটি গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে দ্বিতীয় শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত। ভৌগোলিকভাবে রাশিয়া, আমেরিকা বা ইউরোপ থেকে দূরে থাকায় এটি যুদ্ধের উত্তাপ থেকে অনেকটাই নিরাপদ।

নিউজিল্যান্ডের শান্তিপূর্ণ নীতি এবং দূরবর্তী অবস্থান এটিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল করে তুলবে।

ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ, যা যুদ্ধ-রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের মানুষ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকতে পারে। কারণ এই অঞ্চল বিশ্বশক্তিগুলোর আগ্রাসনের কেন্দ্রবিন্দু নয়।

ইংল্যান্ডের পাশের দেশ আয়ারল্যান্ড। এটি ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডের কাছে হওয়ায় এ দেশের সুরক্ষা যুক্তরাজ্যের ওপর নির্ভরশীল। তবুও আয়ারল্যান্ড তার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে যুদ্ধের উত্তাপ এড়ানোর চেষ্টা করবে।

কানাডা উত্তর আমেরিকার শান্তিপূর্ণ দেশ। যদিও এটি আমেরিকার পাশের দেশ, কিন্তু তুলনামূলকভাবে যুদ্ধের উত্তাপ থেকে নিরাপদ থাকতে পারে। আমেরিকার সামরিক শক্তির ছায়াতলে থাকার কারণে কানাডা একটি নিরাপদ অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

অস্ট্রেলিয়া ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে ন্যাটোর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধের প্রভাবে জড়িয়ে যেতে পারে। তবে এর ভৌগোলিক অবস্থান এটিকে রক্ষা করতে পারে। দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে সহজে কোনো আগ্রাসন চালানো সম্ভব নয়।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা যদি সত্যি হয়, তবে বিশ্বের কিছু দেশ শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ কেবল ক্ষতি আর ধ্বংস ডেকে আনে। শান্তি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সব দেশকেই।