তিন নারীসহ আটক ডামুড্যার ইউএনওর গাড়িচালক
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 52
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি গাড়ির চালক আবুল বাশার আকনসহ চারজনকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। আটক অন্য তিনজন নারী। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের তুলাসার গ্রামের একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ফ্ল্যাটে মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল। তবে আটক নারীরা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, বাড়ির কেয়ারটেকার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৫ অক্টোবর আবুল বাশার তুলাসার এলাকায় বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য যান। পরে ৮ অক্টোবর শরীয়তপুর জেলা কারাগারের পূর্ব পাশে মশিউর রহমান হাওলাদারের একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন তিনি। ১০ অক্টোবর থেকে সেখানে তিন নারী বসবাস শুরু করেন।
স্থানীয়দের দাবি, নারীরা ওই ফ্ল্যাটে ওঠার পর অপরিচিত পুরুষদের যাতায়াত বেড়ে যায়। আবুল বাশারও নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করতেন। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। রোববার সকালে ইউএনওর সরকারি গাড়িটি ফ্ল্যাটের সামনের গলিতে রেখে সেখানে যান আবুল বাশার। পরে স্থানীয়রা তাঁকে ও তিন নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
আটক নারীদের দাবি, আবুল বাশার তাঁদের খালাতো ভাই এবং তিনিই তাঁদের বাসা ভাড়া করে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ফ্ল্যাটে বিভিন্ন ব্যক্তি এসে মাদক সেবন করতেন। তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁরা বলেন, এ ধরনের কাজে রাজি না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, আবুল বাশার জানিয়েছেন, ওই নারীদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা তাঁর খালাতো বোন নন। রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে রেখে তিনি তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখন স্থানীয়রা তাঁদের আটক করেন বলে দাবি করেন তিনি।
পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস শুকুর বলেন, মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিন নারীসহ একজন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণও উদ্ধার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।






























