তাদের মুখে চুনকালি পড়বে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা | Bangla Affairs
০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তাদের মুখে চুনকালি পড়বে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
  • সময় ০২:২৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
  • / 16

তাদের মুখে চুনকালি পড়বে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা  লে. জেনা. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “বিদেশি কিছু মিডিয়া কখনও কখনও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করতে চায়। আমাদের দেশের মিডিয়ার উচিত—সত্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা। এতে তাদের মুখে চুনকালি পড়বে।”

শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বার্ষিক স্নানোৎসব পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের যদি কোনো ভুল থাকে, আপনারা নিশ্চিন্তে সেটি তুলে ধরুন। আমরা তাতে বাধা দেবো না। কিন্তু মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবেন না। দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা দরকার।”

লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এবার নদীর পানি আগের তুলনায় ভালো রয়েছে। পুণ্যার্থীর সংখ্যাও গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত লগ্ন অনুযায়ী স্নান চলবে। পুরো এলাকা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে। সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, আনসার, জেলা প্রশাসন ও ম্যাজিস্ট্রেটরা একসঙ্গে কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে লাঙ্গলবন্দকে একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে এটা মূলত একটি ধর্মীয় স্থান, তাই কোনোভাবেই এর পবিত্রতা বা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য যাতে নষ্ট না হয়, সেটা মাথায় রাখতে হবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে বসবাস করে। লাঙ্গলবন্দ এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ।”

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বার্ষিক মহাষ্টমী স্নানোৎসব চলছে। দুই দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়েছে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে এবং চলবে শনিবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। দেশ-বিদেশ থেকে লাখো পুণ্যার্থী এতে অংশ নিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো উৎসব নিরাপত্তায় ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে সুষ্ঠুভাবে উৎসব সম্পন্ন হয় এবং পুণ্যার্থীদের যাত্রা নিরাপদ হয়।

শেয়ার করুন

তাদের মুখে চুনকালি পড়বে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সময় ০২:২৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা  লে. জেনা. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “বিদেশি কিছু মিডিয়া কখনও কখনও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করতে চায়। আমাদের দেশের মিডিয়ার উচিত—সত্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা। এতে তাদের মুখে চুনকালি পড়বে।”

শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বার্ষিক স্নানোৎসব পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের যদি কোনো ভুল থাকে, আপনারা নিশ্চিন্তে সেটি তুলে ধরুন। আমরা তাতে বাধা দেবো না। কিন্তু মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবেন না। দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা দরকার।”

লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এবার নদীর পানি আগের তুলনায় ভালো রয়েছে। পুণ্যার্থীর সংখ্যাও গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত লগ্ন অনুযায়ী স্নান চলবে। পুরো এলাকা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে। সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, আনসার, জেলা প্রশাসন ও ম্যাজিস্ট্রেটরা একসঙ্গে কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে লাঙ্গলবন্দকে একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে এটা মূলত একটি ধর্মীয় স্থান, তাই কোনোভাবেই এর পবিত্রতা বা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য যাতে নষ্ট না হয়, সেটা মাথায় রাখতে হবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে বসবাস করে। লাঙ্গলবন্দ এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ।”

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বার্ষিক মহাষ্টমী স্নানোৎসব চলছে। দুই দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়েছে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে এবং চলবে শনিবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। দেশ-বিদেশ থেকে লাখো পুণ্যার্থী এতে অংশ নিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো উৎসব নিরাপত্তায় ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে সুষ্ঠুভাবে উৎসব সম্পন্ন হয় এবং পুণ্যার্থীদের যাত্রা নিরাপদ হয়।