ডিম সিন্ডিকেট | গেল কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে ডিমের দাম বেশ চড়া। | Bangla Affairs
১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডিম সিন্ডিকেট | গেল কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে ডিমের দাম বেশ চড়া।

নিউজ ডেস্ক
  • সময় ০৯:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪
  • / 636

গেল কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে ডিমের দাম বেশ চড়া। কিন্তু কেন ?

বর্তমানে পাইকারি বাজারে যে ডিম সাড়ে ৯ টাকা দরে বিক্রি হয়, খুচরা পর্যায়ে এসে তা কিনতে হচ্ছে ১৩ অথবা ১৪ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে এক হালি ডিম ৫৫ টাকা এবং এক ডজন ১৫৫ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম বাড়ার পেছনে খুচরা বিক্রেতারা দায়ী করছেন পাইকারদের। আর পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের জোগান কম। তাদের এই দাবি কতটা যৌক্তিক ?

দেশে প্রতিদিন ডিমের চাহিদা চার কোটি পিস। উৎপাদন হয় সাড়ে চার কোটি। সাড়ে পাঁচ কোটি মুরগি থেকে এই ডিম উৎপাদন হয় বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বাজারে যে ডিমের চাহিদা রয়েছে, তার ৮০ শতাংশ উৎপাদন করছে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান বা সহযোগিতা না থাকায় প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিরা ডিমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। ফলে দিন দিন খামারির সংখ্যা কমছে। ডিমের যারা সিন্ডিকেট আছে তারা ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করেন”। তাহলে এই সিন্ডিকেট কারা ?

এর আগে দেশের ১০টি পোল্ট্রি ফার্ম ও পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে ডিমের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে কারসাজির অভিযোগে মামলা করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি)।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কাজী ফার্মস, প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেড, ডায়মন্ড এগ লিমিটেড, পিপলস পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড, নাবা ফার্ম লিমিটেড, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ফার্ম প্রোটেকশন ন্যাশনাল কাউন্সিল, পোল্ট্রি প্রফেশনালস বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড এগ সেল পয়েন্ট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরের দিন ডিমের দাম কত হবে তা এসব কোম্পানি আগের রাতে ফোন কল ও এসএমএস’র মাধ্যমে পাইকারদের জানিয়ে দেয়। তবে দেশে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার স্বীকৃত কোনো মানদণ্ড নেই। ফলে কোম্পানি ভেদে আলাদা আলাদা দামে কিনতে হচ্ছে ডিম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিম উৎপাদন থেকে সাধারণ ক্রেতার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত অন্তত চার থেকে পাঁচটি হাত বদল হয়। এর বাইরে ডিমের গাড়িতে চাঁদাবাজি, মধ্যস্বত্বভোগী, মজুতদার এবং বাজারকেন্দ্রিক ডিম সমিতির নিয়মনীতির বেড়াজাল-তো আছেই।

শেয়ার করুন

ডিম সিন্ডিকেট | গেল কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে ডিমের দাম বেশ চড়া।

সময় ০৯:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪

গেল কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে ডিমের দাম বেশ চড়া। কিন্তু কেন ?

বর্তমানে পাইকারি বাজারে যে ডিম সাড়ে ৯ টাকা দরে বিক্রি হয়, খুচরা পর্যায়ে এসে তা কিনতে হচ্ছে ১৩ অথবা ১৪ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে এক হালি ডিম ৫৫ টাকা এবং এক ডজন ১৫৫ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম বাড়ার পেছনে খুচরা বিক্রেতারা দায়ী করছেন পাইকারদের। আর পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের জোগান কম। তাদের এই দাবি কতটা যৌক্তিক ?

দেশে প্রতিদিন ডিমের চাহিদা চার কোটি পিস। উৎপাদন হয় সাড়ে চার কোটি। সাড়ে পাঁচ কোটি মুরগি থেকে এই ডিম উৎপাদন হয় বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বাজারে যে ডিমের চাহিদা রয়েছে, তার ৮০ শতাংশ উৎপাদন করছে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান বা সহযোগিতা না থাকায় প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিরা ডিমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। ফলে দিন দিন খামারির সংখ্যা কমছে। ডিমের যারা সিন্ডিকেট আছে তারা ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করেন”। তাহলে এই সিন্ডিকেট কারা ?

এর আগে দেশের ১০টি পোল্ট্রি ফার্ম ও পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে ডিমের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে কারসাজির অভিযোগে মামলা করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি)।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কাজী ফার্মস, প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেড, ডায়মন্ড এগ লিমিটেড, পিপলস পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড, নাবা ফার্ম লিমিটেড, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ফার্ম প্রোটেকশন ন্যাশনাল কাউন্সিল, পোল্ট্রি প্রফেশনালস বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড এগ সেল পয়েন্ট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরের দিন ডিমের দাম কত হবে তা এসব কোম্পানি আগের রাতে ফোন কল ও এসএমএস’র মাধ্যমে পাইকারদের জানিয়ে দেয়। তবে দেশে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার স্বীকৃত কোনো মানদণ্ড নেই। ফলে কোম্পানি ভেদে আলাদা আলাদা দামে কিনতে হচ্ছে ডিম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিম উৎপাদন থেকে সাধারণ ক্রেতার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত অন্তত চার থেকে পাঁচটি হাত বদল হয়। এর বাইরে ডিমের গাড়িতে চাঁদাবাজি, মধ্যস্বত্বভোগী, মজুতদার এবং বাজারকেন্দ্রিক ডিম সমিতির নিয়মনীতির বেড়াজাল-তো আছেই।