নুরুল ইসলাম সাদ্দামের দাবি
‘ছাত্রশিবির কারো উপর জুলুম করে না’

- সময় ১২:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
- / 19
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কারো ওপর অন্যায় বা জুলুম করে না বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, “আমরা নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলার উপর ভিত্তি করে আমাদের সদস্যদের গড়ে তুলতে চাই, যেন তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে পারে।”
শেখ হাসিনা সরকার আমলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে সাতক্ষীরায় জামাত – ছাত্রশিবির এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপরে চিরুনি অভিযান চালিয়ে নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে ।
৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভেবেছিল জামাত ও শিবির হয়তো তাদের অত্যাচারের বদলা নিতে হিংস্র হয়ে উঠবে কিন্তু জামাত-শিবির তাদের নেতাকর্মীদের এমন শিক্ষা দেয় না । প্রতিশোধ নিতে নয় বরং ভালবাসতে শেখায় কারোর প্রতি জুলুম অত্যাচার নয় বরং সহমর্মিতা ও ন্যায়পরায়ণতা শেখায় শিবির চাই একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবে”। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পহেলা এপ্রিল ২০২৫ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে কলারোয়া সরকারি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মোঃ শামসুল আলম বুলবুল। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মু. ইজ্জত উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা ওসমান গনি, কলারোয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান, উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা শহিদুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ডা. ওসামা রায়হান, কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম, খুলনা মহানগর সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, সাতক্ষীরা শহর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি ইমামুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল আশফাকুর রহমানসহ আরও অনেকে।

একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আহ্বান করে প্রধান আলোচক অধ্যক্ষ মু. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলাম একটি সুন্দর, ন্যায়নিষ্ঠ ও কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে। আমরা নৈতিক মূল্যবোধ, সততা ও আদর্শের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হলে যুব সমাজকে আদর্শিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।”
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “আমরা যুব সমাজকে সৎ, যোগ্য ও নীতিবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ছাত্রশিবিরের মূল লক্ষ্য একটি শিক্ষিত, নৈতিকতাসম্পন্ন ও কল্যাণকামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।”
জামায়াত- ছাত্রশিবিরের আদর্শ ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তারা বলেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা চাই না, বরং দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে চাই।” বক্তারা আরও বলেন, “সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ইসলামী শিক্ষা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই।”
এদিকে, বক্তারা এও বলেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামের উদ্দেশ্য কখনোই জাতির বিরুদ্ধে নয়, বরং আমরা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।“ তারা জনগণকে একত্রিত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া অন্যান্য অতিথিরাও গত কয়েক দশকে ছাত্রশিবির এবং জামায়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে করা নানা ধরনের নির্যাতন এবং ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, “এমনকি কিছু অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়।“
এই ঈদ পুনর্মিলনী এবং আলোচনা সভা ছিল একটি মিলনমেলা, যেখানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে একটি সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাদের চিন্তা-ভাবনা এবং দর্শন শেয়ার করেন। বক্তারা সমাজের সকল স্তরের মানুষকে শিক্ষিত, নৈতিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে যুব সমাজের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সাধারণ মানুষও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একত্রিত হয়ে জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্রশিবিরের কাজের প্রতি সমর্থন জানান এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেন।
অতিথিরা একযোগে বলেন, “আমরা ন্যায় ও কল্যাণের পক্ষে কাজ করতে চাই এবং সেই লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।