চালের দাম বাড়ায় পাকিস্তানিদের খাবারে ঝুঁকছে বাঙালি! | Bangla Affairs
০১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চালের দাম বাড়ায় পাকিস্তানিদের খাবারে ঝুঁকছে বাঙালি!

নিউজ ডেস্ক
  • সময় ১০:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪
  • / 307

একসময় বাংলায় পলিমাটি, বৃষ্টি, খাল-বিল-নদী-নালা, কোনোটারই অভাব ছিল না। তাই আর কিছু জুটুক আর না জুটুক, দু’ বেলা দু মুঠো মাছ ভাত জুটেই যেত। সেই থেকেই মাছে ভাতে বাঙালি। অন্যদিকে পাকিস্তানিদের প্লেটে থাকতো গম কিংবা আটা জাতীয় খাবার।

বাঙালির সেই চিরাচরিত প্রবাদ এবার কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্ববাজারে চালের দাম গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশের বাজারেও এখন আটার তুলনায় চালের দাম বেশি। তাই নিম্ন আয়ের মানুষের বড় একটি অংশের খাদ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে আটা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যে দেখা গেছে, ২০ জুন পর্যন্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সাড়ে ১১ মাসে গম আমদানি হয়েছে ৬৭ লাখ টন। এর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৫১ লাখ টন। অর্থাৎ এক বছরে গম আমদানি প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে এখনও ১৩টি জাহাজ গম খালাসের অপেক্ষায় আছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগে মোটা চালের চেয়ে আটার দাম ৮ শতাংশ বেশি ছিল। বর্তমানে আটার দাম চালের চেয়ে ২০ শতাংশ কম।

বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দামি তথা মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকা কেজি দরে। যেটি গরিবের চাল হিসেবে পরিচিত।

টিসিবি বলছে, খুচরা বাজারে এক সপ্তাহ আগে যে সরু চাল ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই একই চাল এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা। সাতদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি বেড়েছে ৮ টাকা। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ভালোমানের সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮৫ টাকায়। সঙ্গে প্রতি কেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।

দেশে চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ গম উৎপাদিত হয়। বাকি চাহিদা আমদানি করে মেটাতে হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে গমের দাম বেড়ে যায়। ফলাফল টানা দুই অর্থবছর গমের আমদানি কমে যায়।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে সরকারিভাবে ১০ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে গত অর্থবছর সরকারিভাবে ছয় লাখ ৮৬ টন গম আমদানি করা হয়েছিল।

বিশ্ববাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছর সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি করা হয়নি। বেসরকারিভাবে গম আমদানি করা হয়েছে ৪০ লাখ ৩৭ হাজার
টন। গত অর্থবছর বেসরকারিভাবে আমদানি করা হয়েছিল ৩১ লাখ ৯৫ হাজার টন। চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ২১ শতাংশের বেশি গম আমদানি করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে পরিবহণ খরচ ছাড়া প্রতি কেজি চালের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এ অবস্থায় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে চালের পরিবর্তে গম বিতরণের আলোচনা চলছে।

এক সময় বলা হতো আটা পাঞ্জাবিদের খাবার। চালের বিকল্প হিসেবে সেই খাবারেই কিনা এখন অভ্যস্ত হতে চলেছে বাঙালিও।

শেয়ার করুন

চালের দাম বাড়ায় পাকিস্তানিদের খাবারে ঝুঁকছে বাঙালি!

সময় ১০:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

একসময় বাংলায় পলিমাটি, বৃষ্টি, খাল-বিল-নদী-নালা, কোনোটারই অভাব ছিল না। তাই আর কিছু জুটুক আর না জুটুক, দু’ বেলা দু মুঠো মাছ ভাত জুটেই যেত। সেই থেকেই মাছে ভাতে বাঙালি। অন্যদিকে পাকিস্তানিদের প্লেটে থাকতো গম কিংবা আটা জাতীয় খাবার।

বাঙালির সেই চিরাচরিত প্রবাদ এবার কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্ববাজারে চালের দাম গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশের বাজারেও এখন আটার তুলনায় চালের দাম বেশি। তাই নিম্ন আয়ের মানুষের বড় একটি অংশের খাদ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে আটা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যে দেখা গেছে, ২০ জুন পর্যন্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সাড়ে ১১ মাসে গম আমদানি হয়েছে ৬৭ লাখ টন। এর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৫১ লাখ টন। অর্থাৎ এক বছরে গম আমদানি প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে এখনও ১৩টি জাহাজ গম খালাসের অপেক্ষায় আছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগে মোটা চালের চেয়ে আটার দাম ৮ শতাংশ বেশি ছিল। বর্তমানে আটার দাম চালের চেয়ে ২০ শতাংশ কম।

বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দামি তথা মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকা কেজি দরে। যেটি গরিবের চাল হিসেবে পরিচিত।

টিসিবি বলছে, খুচরা বাজারে এক সপ্তাহ আগে যে সরু চাল ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই একই চাল এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা। সাতদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি বেড়েছে ৮ টাকা। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ভালোমানের সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮৫ টাকায়। সঙ্গে প্রতি কেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।

দেশে চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ গম উৎপাদিত হয়। বাকি চাহিদা আমদানি করে মেটাতে হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে গমের দাম বেড়ে যায়। ফলাফল টানা দুই অর্থবছর গমের আমদানি কমে যায়।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে সরকারিভাবে ১০ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে গত অর্থবছর সরকারিভাবে ছয় লাখ ৮৬ টন গম আমদানি করা হয়েছিল।

বিশ্ববাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছর সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি করা হয়নি। বেসরকারিভাবে গম আমদানি করা হয়েছে ৪০ লাখ ৩৭ হাজার
টন। গত অর্থবছর বেসরকারিভাবে আমদানি করা হয়েছিল ৩১ লাখ ৯৫ হাজার টন। চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ২১ শতাংশের বেশি গম আমদানি করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে পরিবহণ খরচ ছাড়া প্রতি কেজি চালের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এ অবস্থায় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে চালের পরিবর্তে গম বিতরণের আলোচনা চলছে।

এক সময় বলা হতো আটা পাঞ্জাবিদের খাবার। চালের বিকল্প হিসেবে সেই খাবারেই কিনা এখন অভ্যস্ত হতে চলেছে বাঙালিও।