উসমান (রাঃ)-এর নামে এখনও চালু আছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট | Bangla Affairs
১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উসমান (রাঃ)-এর নামে এখনও চালু আছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

আকাশ ইসলাম
  • সময় ০৩:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
  • / 266

ইসলামের ইতিহাসে উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ) ছিলেন তৃতীয় খলিফা এবং সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তার ব্যক্তিগত জীবন এবং শাসনকাল মুসলিম বিশ্বের জন্য এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত।

উসমান (রাঃ) ছিলেন একজন ধনী ব্যবসায়ী, তবে তার সম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং মুসলিম সমাজের প্রতি তার উদারতা তাকে একটি বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ তার চিরন্তন সেই দানশীলতার প্রমাণ হিসেবে তার নামে এখনও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু রেখেছে।

উসমান (রাঃ)-এর শাসনকাল ছিল ইসলামের প্রথম যুগ, যখন মদিনা ছিল ইসলামী সভ্যতার কেন্দ্র। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পানির ব্যবস্থা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ মদিনায় মিষ্টি পানির উৎস ছিল অত্যন্ত সীমিত।

একটি মাত্র কূপ, ‘বিরে রুমা,’ সেই সময় প্রধান পানির উৎস হিসেবে ছিল, যা একজন ইহুদির মালিকানায় ছিল। ওই ব্যক্তি উচ্চ মূল্যে মুসলমানদের পানি বিক্রি করত, যা সাধারণ মানুষের জন্য খুবই কষ্টকর ছিল।

উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ) মুসলমানদের এই কষ্ট দূর করার জন্য সেই ইহুদির কাছে কূপটি কিনতে চান। ইহুদি প্রথমে পুরো কূপটি বিক্রি করতে রাজি হয়নি, তবে পরে সে শর্ত দেয় যে, কূপের অর্ধেক অংশ বিক্রি করবে এবং প্রতিদিন পালা করে একদিন সে এবং একদিন মুসলিমরা তা ব্যবহার করবে।

উসমান (রাঃ) এই প্রস্তাব গ্রহণ করে কূপের অর্ধেক অংশ কিনে নেন। এরপর, তিনি ঘোষণা দেন যে মুসলমানরা বিনামূল্যে পানি নিতে পারবে। ফলে, ইহুদি ব্যবসায়ী তার ব্যবসা হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কূপটির বাকি অর্ধেক অংশও উসমান (রাঃ)-এর কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। এভাবে পুরো কূপটি মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত হয়, এবং তা আজও দানের স্মারক হিসেবে টিকে রয়েছে।

ইতিহাসের অন্য একটি চমকপ্রদ দিক হলো, উসমান (রাঃ)-এর এই দানের কারণে সৌদি আরবে আজও তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে। এই কূপটি আজও সৌদি আরবের ‘তাবুক’ অঞ্চলে আছে এবং সৌদি সরকার এর দেখাশোনা করে।

কূপের চারপাশে অনেক কৃষিজমি এবং তার থেকে প্রাপ্ত আয় বর্তমানে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়, যা উসমান (রাঃ)-এর নামে পরিচালিত হয়। সেই জমি থেকে উৎপন্ন খেজুর বিক্রির টাকা ব্যাংকে জমা হয় এবং সেই অর্থ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। এভাবেই উসমান (রাঃ)-এর এই দানশীলতা চিরন্তন হয়ে আছে।

উসমান (রাঃ)-এর নামে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি সৌদি সরকার পরিচালিত ওয়াক্ফ (দান) ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে। অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ মূলত মসজিদ নির্মাণ, শিক্ষা প্রকল্প, এবং দরিদ্রদের সহায়তায় ব্যয় করা হয়। একটি নির্দিষ্ট অংশ নবী মসজিদের সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা হয়, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ সম্মানের বিষয়।

উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ)-এর জীবনে এই কূপ কেনা এবং তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, দানের প্রকৃত অর্থ কেবল তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো নয়, বরং এমন কিছু সৃষ্টি করা যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের উপকারে আসে।

শেয়ার করুন

উসমান (রাঃ)-এর নামে এখনও চালু আছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

সময় ০৩:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

ইসলামের ইতিহাসে উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ) ছিলেন তৃতীয় খলিফা এবং সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তার ব্যক্তিগত জীবন এবং শাসনকাল মুসলিম বিশ্বের জন্য এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত।

উসমান (রাঃ) ছিলেন একজন ধনী ব্যবসায়ী, তবে তার সম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং মুসলিম সমাজের প্রতি তার উদারতা তাকে একটি বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ তার চিরন্তন সেই দানশীলতার প্রমাণ হিসেবে তার নামে এখনও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু রেখেছে।

উসমান (রাঃ)-এর শাসনকাল ছিল ইসলামের প্রথম যুগ, যখন মদিনা ছিল ইসলামী সভ্যতার কেন্দ্র। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পানির ব্যবস্থা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ মদিনায় মিষ্টি পানির উৎস ছিল অত্যন্ত সীমিত।

একটি মাত্র কূপ, ‘বিরে রুমা,’ সেই সময় প্রধান পানির উৎস হিসেবে ছিল, যা একজন ইহুদির মালিকানায় ছিল। ওই ব্যক্তি উচ্চ মূল্যে মুসলমানদের পানি বিক্রি করত, যা সাধারণ মানুষের জন্য খুবই কষ্টকর ছিল।

উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ) মুসলমানদের এই কষ্ট দূর করার জন্য সেই ইহুদির কাছে কূপটি কিনতে চান। ইহুদি প্রথমে পুরো কূপটি বিক্রি করতে রাজি হয়নি, তবে পরে সে শর্ত দেয় যে, কূপের অর্ধেক অংশ বিক্রি করবে এবং প্রতিদিন পালা করে একদিন সে এবং একদিন মুসলিমরা তা ব্যবহার করবে।

উসমান (রাঃ) এই প্রস্তাব গ্রহণ করে কূপের অর্ধেক অংশ কিনে নেন। এরপর, তিনি ঘোষণা দেন যে মুসলমানরা বিনামূল্যে পানি নিতে পারবে। ফলে, ইহুদি ব্যবসায়ী তার ব্যবসা হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কূপটির বাকি অর্ধেক অংশও উসমান (রাঃ)-এর কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। এভাবে পুরো কূপটি মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত হয়, এবং তা আজও দানের স্মারক হিসেবে টিকে রয়েছে।

ইতিহাসের অন্য একটি চমকপ্রদ দিক হলো, উসমান (রাঃ)-এর এই দানের কারণে সৌদি আরবে আজও তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে। এই কূপটি আজও সৌদি আরবের ‘তাবুক’ অঞ্চলে আছে এবং সৌদি সরকার এর দেখাশোনা করে।

কূপের চারপাশে অনেক কৃষিজমি এবং তার থেকে প্রাপ্ত আয় বর্তমানে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়, যা উসমান (রাঃ)-এর নামে পরিচালিত হয়। সেই জমি থেকে উৎপন্ন খেজুর বিক্রির টাকা ব্যাংকে জমা হয় এবং সেই অর্থ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। এভাবেই উসমান (রাঃ)-এর এই দানশীলতা চিরন্তন হয়ে আছে।

উসমান (রাঃ)-এর নামে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি সৌদি সরকার পরিচালিত ওয়াক্ফ (দান) ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে। অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ মূলত মসজিদ নির্মাণ, শিক্ষা প্রকল্প, এবং দরিদ্রদের সহায়তায় ব্যয় করা হয়। একটি নির্দিষ্ট অংশ নবী মসজিদের সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা হয়, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ সম্মানের বিষয়।

উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ)-এর জীবনে এই কূপ কেনা এবং তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, দানের প্রকৃত অর্থ কেবল তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো নয়, বরং এমন কিছু সৃষ্টি করা যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের উপকারে আসে।