০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আইসিজি’র দাবি ইউনূস সরকারের সমর্থন কমছে

নিউজ ডেস্ক
  • সময় ০১:০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৫
  • / 45

আইসিজি’র দাবি ইউনূস সরকারের সমর্থন কমছে

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) দাবি করেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল। তবে এখন তা কমতে শুরু করেছে বলে মনে করছে।
শিক্ষাবিদ ও নীতির্ধারকদের নিয়ে বৈশ্বিক থিংঙ্ক ট্যাঙ্ক খ্যাত প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ইউনূস সরকার রাজনৈতিক বিভেদ ঠেকাতে এবং প্রতিশ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শেষ করতে এখন যথেষ্ট চাপের মধ্যে আছে।

সমালোচনা বেড়েছে দেশের অর্থনীতি ও জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়েও।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত আইসিজির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার উল্লাস শুরুতে ইউনূস প্রশাসন অভাবনীয় জনসমর্থন পায়। কিন্তু সেই হানিমুনের (মধুচন্দ্রিমা) সময় শেষ হয়ে গেছে।

সংস্থাটির মূল দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেল অফিস দাবি করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও তার সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়তা করতে পারে। এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি।

আইসিজি দাবি, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে।

২০২৬ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন সময়সীমারা আগেই। এ জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের জন্য বেশ কিছু কমিশনও গঠন করেছে। চারটি কমিশন জানুয়ারির মাঝামাঝিতে তাদের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে। ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কারকাজ চালানোর সুপারিশ করেছে তারা।

উপদেষ্টারা (ফাইল ফটো)
উপদেষ্টারা (ফাইল ফটো)

অপরদিকে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সংকটমুক্ত হয়নি বাংলাদেশে। খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও দুর্নীতি সমস্যাগুলো বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সংস্কারের কিছু পদক্ষেপ ইতিবাচক ফল দেখাতে পারে, যেমন ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকলে অর্থনীতি আরও বিপদের মধ্যে পড়তে পারে।

আইসিজির মতে, বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক। ভারতীয় সীমান্তে উত্তেজনা এবং মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি। এসব সমস্যা মোকাবিলায় ইইউ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের সামনে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এগুলো কাজে লাগাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য ও আন্তর্জাতিক সমর্থন। ইইউ ও তার সদস্য দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

 

শেয়ার করুন

আইসিজি’র দাবি ইউনূস সরকারের সমর্থন কমছে

সময় ০১:০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৫

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) দাবি করেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল। তবে এখন তা কমতে শুরু করেছে বলে মনে করছে।
শিক্ষাবিদ ও নীতির্ধারকদের নিয়ে বৈশ্বিক থিংঙ্ক ট্যাঙ্ক খ্যাত প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ইউনূস সরকার রাজনৈতিক বিভেদ ঠেকাতে এবং প্রতিশ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শেষ করতে এখন যথেষ্ট চাপের মধ্যে আছে।

সমালোচনা বেড়েছে দেশের অর্থনীতি ও জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়েও।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত আইসিজির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার উল্লাস শুরুতে ইউনূস প্রশাসন অভাবনীয় জনসমর্থন পায়। কিন্তু সেই হানিমুনের (মধুচন্দ্রিমা) সময় শেষ হয়ে গেছে।

সংস্থাটির মূল দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেল অফিস দাবি করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও তার সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়তা করতে পারে। এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি।

আইসিজি দাবি, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে।

২০২৬ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন সময়সীমারা আগেই। এ জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের জন্য বেশ কিছু কমিশনও গঠন করেছে। চারটি কমিশন জানুয়ারির মাঝামাঝিতে তাদের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে। ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কারকাজ চালানোর সুপারিশ করেছে তারা।

উপদেষ্টারা (ফাইল ফটো)
উপদেষ্টারা (ফাইল ফটো)

অপরদিকে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সংকটমুক্ত হয়নি বাংলাদেশে। খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও দুর্নীতি সমস্যাগুলো বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সংস্কারের কিছু পদক্ষেপ ইতিবাচক ফল দেখাতে পারে, যেমন ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকলে অর্থনীতি আরও বিপদের মধ্যে পড়তে পারে।

আইসিজির মতে, বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক। ভারতীয় সীমান্তে উত্তেজনা এবং মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি। এসব সমস্যা মোকাবিলায় ইইউ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের সামনে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এগুলো কাজে লাগাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য ও আন্তর্জাতিক সমর্থন। ইইউ ও তার সদস্য দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।