অর্থহীনে গণতন্ত্র বলে কিছু নাই: সুমন | Bangla Affairs
০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অর্থহীনে গণতন্ত্র বলে কিছু নাই: সুমন

নিউজ ডেস্ক
  • সময় ০৭:১৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
  • / 294

অর্থহীনে গণতন্ত্র বলে কিছু নাই সুমন

সুমন: ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর একসময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হই। সে সময় আমার মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এবং বিছানায় পড়ে গেলাম। নয় বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলাম, যার মধ্যে তিন বছর কোনোভাবে কনসার্ট করতে পারছিলাম। তবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেও বসতে পারতাম না। বসতে না পারলে একজন মানুষের জন্য গিটার বাজানো, অফিস করা, রেকর্ডিং করা, এমনকি গাড়ি চালানোও অসম্ভব। মাত্র ১৫ মিনিট বসলে এতটা ব্যথা হতো যে চিৎকার করে উঠতে হতো, দিনে অনেকবার পেইন কিলার ইনজেকশন দিতে হতো। প্রথম চার বছর কিছুই করতে পারিনি।

চার বছর পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আমাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে, এরপর স্ট্রোক করে শরীরের বাম দিক প্যারালাইজড হয়ে যায়। এতকিছুর পরও মনোবল হারাইনি। তিন মাসের মধ্যে একটু সুস্থ হতে শুরু করি। যখন বুঝলাম ১৫ মিনিট বসতে পারছি, তখন মনে হলো আবার মিউজিক করা সম্ভব। অর্থহীনের সদস্যদের সঙ্গে ফিরে আসার পরিকল্পনা করি।

২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে বামবার কনসার্ট দিয়ে চার বছর পর মিউজিকে ফিরে আসি। স্টেজে ওঠার আগে এক তরুণ আমাকে ‘অসমাপ্ত’ গানটি গাওয়ার অনুরোধ করেছিল। ওকে বলেছিলাম, ‘আমরা গানটা প্র্যাকটিস করিনি।’ পরে স্টেজে উঠে বললাম, ‘একজন অনুরোধ করেছে “অসমাপ্ত” গাওয়ার জন্য, আমাদের প্র্যাকটিস নেই, তবু গাইব।’ গান শুরু করতেই ৪০ হাজার দর্শক পুরো চট্টগ্রাম শহর কাঁপিয়ে দিল। আমাকে গাইতে হয়নি, দর্শকদের এই লয়্যালিটি দেখে চোখে পানি চলে এসেছিল।

আমার যত অর্থ বা খ্যাতিই থাকুক, এই ভালোবাসা কিনতে পারব না। সেই দিন বুঝলাম, মানুষ আমাদের কতটা মিস করেছে। এরপর থেকে আর কোনো কনসার্টে আমাকে ‘অসমাপ্ত’ গাইতে হয়নি। শুধু মাইক্রোফোন ঘুরিয়ে দিই, দর্শকরাই গান গেয়ে নেয়। এমনকি এখন ‘এপিটাফ’ গানটিও আমাকে গাইতে হয় না।

বিদেশের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ‘অসমাপ্ত’ অর্থহীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর একটি নয়। ‘চাইতে পারো ১’, ‘চাইতে পারো ২’, ‘আমার প্রতিচ্ছবি’, ‘অদ্ভুত সেই ছেলেটি’, ‘এপিটাফ’—এই গানগুলোই অর্থহীনের জনপ্রিয় গানের তালিকায় শীর্ষে। ওরা বলল, ‘এই গানগুলো স্টেজে গাওয়ার প্রয়োজন নেই। তোমাদের শুধু বেজ বাজাতে হবে আর মিউজিশিয়ানদের একটু কষ্ট করতে হবে। দর্শক নিজেরাই গেয়ে নেবে।’ ফেরার পর অর্থহীন এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

শেয়ার করুন

অর্থহীনে গণতন্ত্র বলে কিছু নাই: সুমন

সময় ০৭:১৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪

সুমন: ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর একসময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হই। সে সময় আমার মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এবং বিছানায় পড়ে গেলাম। নয় বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলাম, যার মধ্যে তিন বছর কোনোভাবে কনসার্ট করতে পারছিলাম। তবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেও বসতে পারতাম না। বসতে না পারলে একজন মানুষের জন্য গিটার বাজানো, অফিস করা, রেকর্ডিং করা, এমনকি গাড়ি চালানোও অসম্ভব। মাত্র ১৫ মিনিট বসলে এতটা ব্যথা হতো যে চিৎকার করে উঠতে হতো, দিনে অনেকবার পেইন কিলার ইনজেকশন দিতে হতো। প্রথম চার বছর কিছুই করতে পারিনি।

চার বছর পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আমাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে, এরপর স্ট্রোক করে শরীরের বাম দিক প্যারালাইজড হয়ে যায়। এতকিছুর পরও মনোবল হারাইনি। তিন মাসের মধ্যে একটু সুস্থ হতে শুরু করি। যখন বুঝলাম ১৫ মিনিট বসতে পারছি, তখন মনে হলো আবার মিউজিক করা সম্ভব। অর্থহীনের সদস্যদের সঙ্গে ফিরে আসার পরিকল্পনা করি।

২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে বামবার কনসার্ট দিয়ে চার বছর পর মিউজিকে ফিরে আসি। স্টেজে ওঠার আগে এক তরুণ আমাকে ‘অসমাপ্ত’ গানটি গাওয়ার অনুরোধ করেছিল। ওকে বলেছিলাম, ‘আমরা গানটা প্র্যাকটিস করিনি।’ পরে স্টেজে উঠে বললাম, ‘একজন অনুরোধ করেছে “অসমাপ্ত” গাওয়ার জন্য, আমাদের প্র্যাকটিস নেই, তবু গাইব।’ গান শুরু করতেই ৪০ হাজার দর্শক পুরো চট্টগ্রাম শহর কাঁপিয়ে দিল। আমাকে গাইতে হয়নি, দর্শকদের এই লয়্যালিটি দেখে চোখে পানি চলে এসেছিল।

আমার যত অর্থ বা খ্যাতিই থাকুক, এই ভালোবাসা কিনতে পারব না। সেই দিন বুঝলাম, মানুষ আমাদের কতটা মিস করেছে। এরপর থেকে আর কোনো কনসার্টে আমাকে ‘অসমাপ্ত’ গাইতে হয়নি। শুধু মাইক্রোফোন ঘুরিয়ে দিই, দর্শকরাই গান গেয়ে নেয়। এমনকি এখন ‘এপিটাফ’ গানটিও আমাকে গাইতে হয় না।

বিদেশের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ‘অসমাপ্ত’ অর্থহীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর একটি নয়। ‘চাইতে পারো ১’, ‘চাইতে পারো ২’, ‘আমার প্রতিচ্ছবি’, ‘অদ্ভুত সেই ছেলেটি’, ‘এপিটাফ’—এই গানগুলোই অর্থহীনের জনপ্রিয় গানের তালিকায় শীর্ষে। ওরা বলল, ‘এই গানগুলো স্টেজে গাওয়ার প্রয়োজন নেই। তোমাদের শুধু বেজ বাজাতে হবে আর মিউজিশিয়ানদের একটু কষ্ট করতে হবে। দর্শক নিজেরাই গেয়ে নেবে।’ ফেরার পর অর্থহীন এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।