বিনা মূল্যে মিলছে চিকিৎসা
কয়রায় ভাসমান হাসপাতালে রোগীর ঢল
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 49
ভোর হতে না হতেই হাসপাতালের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। কেউ এসেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ একা। তাঁদের কেউ কয়রা সদর থেকে, আবার কেউ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসেছেন চিকিৎসা নিতে। চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই ভিড় করছেন তাঁরা। সুন্দরবন উপকূলের শাকবাড়িয়া নদীতে নোঙর করা ভাসমান হাসপাতালে এখন এমন চিত্র নিয়মিত।
খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়ানি গ্রামে নোঙর করা ‘কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ’ ভাসমান হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই সেখানে রোগীদের ভিড়। ফ্রেন্ডশিপের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হাসপাতালটিতে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ বিনা মূল্যে পাওয়ায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে হাসপাতালটি হয়ে উঠেছে আস্থার জায়গা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাসমান হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে; এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা আসছেন। প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এবং যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে হাসপাতালটি তাঁদের জন্য বিশেষ উপকারী হয়ে উঠেছে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা পারভীন পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বলেন, এখানে ভালো চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে শুনেছেন। তাই পরিবারের অন্য সদস্যদেরও চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসেছেন।
একই উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া গ্রামের বয়স্ক নারী লতিকা ঘোড়ামীও এসেছেন চিকিৎসা নিতে। তিনি জানান, চিকিৎসা ও ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে শুনে হাসপাতালে এসেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি দাঁত ও চোখের চিকিৎসা এবং বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও করা হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ জন রোগী এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। গত ১৫ জুলাই মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়ানি গ্রামে হাসপাতালটি নোঙর করা হয়। এখানে একজন মেডিকেল অফিসার, দুজন সহকারী, চারজন টেকনোলজিস্ট ও একজন ফার্মাসিস্টসহ মোট ২২ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
ফ্রেন্ডশিপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফিরোজ আক্তার জানান, হাসপাতালটি ওই এলাকায় তিন থেকে চার মাস অবস্থান করবে। এ সময়ে কয়রার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, কয়রার দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। উপজেলা সদরের হাসপাতাল অনেকের বাড়ি থেকে দূরে হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যায় অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এসব মানুষের কথা বিবেচনা করেই ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ফিরোজ আক্তার আরও বলেন, হাসপাতালটি যত দিন এলাকায় থাকবে, তত দিন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী বলেন, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় কয়রার অনেক মানুষের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক মাসের জন্য হলেও ভাসমান হাসপাতালের সেবা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাসপাতালটি আরও কিছুদিন এলাকায় থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের আরও অনেক মানুষ চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



























