ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাকলিতে মুখর নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’

আরিফুল ইসলাম আরিফ, ​নীলফামারী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 158

কলকাকলিতে মুখর নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলাহাটিতে পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে আছে একটি গ্রাম। শতবর্ষী বাঁশঝাড়কে ঘিরে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই পাখির আবাসস্থল এখন স্থানীয়দের কাছে ‘পাখির গ্রাম’ নামে পরিচিত।

ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় প্রায় ৪ একর ২০ শতক জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বিশাল বাঁশঝাড়টি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচিরে মুখর থাকে পুরো এলাকা। গ্রামের মানুষও দীর্ঘদিন ধরে মমতা ও যত্নে পাখিগুলোকে আগলে রেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা গ্রামের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল বাঁশঝাড়। এর বিভিন্ন অংশে বাসা বেঁধেছে বক, পানকৌড়ি, রাতচোরা, ঘুঘু, শ্যামা, দোয়েল, শালিক, বাবুই ও চড়ুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। স্থানীয়দের দাবি, দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পাখিগুলো এই এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বাঁশঝাড়টিকে ব্যবহার করে আসছে।

বাঁশঝাড়ের মালিকরা জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এখানে পাখিদের বসবাস। রাতভর পাখিগুলো বাঁশঝাড়ে অবস্থান করে। ভোর হলেই খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন দিকে উড়ে যায়। প্রতিদিন সকালে পাখিদের কলকাকলিতেই ঘুম ভাঙে গ্রামের মানুষের।

পাখিদের এই আবাসস্থল দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন। শীত মৌসুমে স্থানীয় পাখিদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিও এখানে এসে জড়ো হয়। ফলে এলাকাটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

তবে দীর্ঘদিনের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল বর্তমানে নানা হুমকির মুখে। অবৈধভাবে পাখি শিকার, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে ধীরে ধীরে পাখির সংখ্যা কমছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে উদ্বিগ্ন বাঁশঝাড়ের মালিকরাও।

তাদের দাবি, পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের উদ্যোগ প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও যেন পাখিগুলো নির্বিঘ্নে এখানে বসবাস করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান তারা।

জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, স্থানীয়দের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে পাখি সংরক্ষণের বিষয়টি প্রশংসনীয়। পাখিদের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

স্থানীয়দের আশা, সরকারি উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে নীলফামারীর এই ‘পাখির গ্রাম’ ভবিষ্যতেও পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকে থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কলকাকলিতে মুখর নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলাহাটিতে পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে আছে একটি গ্রাম। শতবর্ষী বাঁশঝাড়কে ঘিরে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই পাখির আবাসস্থল এখন স্থানীয়দের কাছে ‘পাখির গ্রাম’ নামে পরিচিত।

ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় প্রায় ৪ একর ২০ শতক জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বিশাল বাঁশঝাড়টি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচিরে মুখর থাকে পুরো এলাকা। গ্রামের মানুষও দীর্ঘদিন ধরে মমতা ও যত্নে পাখিগুলোকে আগলে রেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা গ্রামের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল বাঁশঝাড়। এর বিভিন্ন অংশে বাসা বেঁধেছে বক, পানকৌড়ি, রাতচোরা, ঘুঘু, শ্যামা, দোয়েল, শালিক, বাবুই ও চড়ুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। স্থানীয়দের দাবি, দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পাখিগুলো এই এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বাঁশঝাড়টিকে ব্যবহার করে আসছে।

বাঁশঝাড়ের মালিকরা জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এখানে পাখিদের বসবাস। রাতভর পাখিগুলো বাঁশঝাড়ে অবস্থান করে। ভোর হলেই খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন দিকে উড়ে যায়। প্রতিদিন সকালে পাখিদের কলকাকলিতেই ঘুম ভাঙে গ্রামের মানুষের।

পাখিদের এই আবাসস্থল দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন। শীত মৌসুমে স্থানীয় পাখিদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিও এখানে এসে জড়ো হয়। ফলে এলাকাটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

তবে দীর্ঘদিনের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল বর্তমানে নানা হুমকির মুখে। অবৈধভাবে পাখি শিকার, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে ধীরে ধীরে পাখির সংখ্যা কমছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে উদ্বিগ্ন বাঁশঝাড়ের মালিকরাও।

তাদের দাবি, পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের উদ্যোগ প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও যেন পাখিগুলো নির্বিঘ্নে এখানে বসবাস করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান তারা।

জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, স্থানীয়দের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে পাখি সংরক্ষণের বিষয়টি প্রশংসনীয়। পাখিদের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

স্থানীয়দের আশা, সরকারি উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে নীলফামারীর এই ‘পাখির গ্রাম’ ভবিষ্যতেও পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকে থাকবে।