ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামলার সময় কোনও ক্ষেপণাস্ত্রই ঠেকায়নি যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 14

সর্বশেষ হামলার সময় ইরানের কোনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সংঘাতের শুরুতে এক শীর্ষ ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জোর দাবি করেছিলেন যে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশে প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সরাসরি সহায়তা করেছে। তবে সেই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) জানিয়েছে, সর্বশেষ এই বড় হামলার সময় মার্কিন বাহিনী ইরানের কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত বা ধ্বংস করেনি। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের এই নতুন ও অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে এই গোপন তথ্যটি সামনে আসায় ইসরায়েলের পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের দিকে ছোঁড়া ইরানের কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই এবার মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে রুখে দেওয়া হয়নি বলে সিএনএন স্পষ্ট করেছে। এর মাধ্যমে মূলত ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তার আগের করা দাবির ঠিক বিপরীত ও সত্য তথ্যটি বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হলো।

সিএনএনের প্রতিবেদনে মার্কিন ওই কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ এই রক্তক্ষয়ী হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ইরানের ছোঁড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করতে মার্কিন রেডার বা মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন ও নতুন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ এর আগে যখনই ইরান ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল, তখন প্রতিবারই মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সশরীরে ব্যবহার করে ইসরায়েলকে আকাশপথে রক্ষা করতে সরাসরি মাঠে নেমেছিল।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি প্রতিহত না করলেও, এই পুরো সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে অত্যন্ত নিখুঁত ও ঘনিষ্ঠ একটি সমন্বয় বজায় রেখেছিল বলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে অন্তত দুইবার সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন এবং রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী একটি যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও গত রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী আকস্মিক এক ভয়াবহ বোমা হামলা চালায়, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা হঠাৎ করেই মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এই উস্কানিমূলক হামলার তাৎক্ষণিক জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে। পরবর্তীতে ইসরায়েলও প্রতিশোধ নিতে ইরানের ভূখণ্ডের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় কয়েক দফা বিমান হামলা চালায়।

বাস্তবতা হলো, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এক বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই মূলত সমগ্র অঞ্চলজুড়ে এক যুদ্ধংদেহী উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলার জবাবে সে সময় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি এই অঞ্চলের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশের বিরুদ্ধেও কঠোর পাল্টা হামলা চালিয়েছিল ইরান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী আঞ্চলিক নানা পরিস্থিতি নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে গভীর মতবিরোধ তৈরি হওয়ার কারণে পরবর্তীতে সেই শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও এই মহা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পর্দার আড়ালে এখনও চলমান রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হামলার সময় কোনও ক্ষেপণাস্ত্রই ঠেকায়নি যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

সর্বশেষ আপডেট ১১:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সংঘাতের শুরুতে এক শীর্ষ ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জোর দাবি করেছিলেন যে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশে প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সরাসরি সহায়তা করেছে। তবে সেই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) জানিয়েছে, সর্বশেষ এই বড় হামলার সময় মার্কিন বাহিনী ইরানের কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত বা ধ্বংস করেনি। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের এই নতুন ও অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে এই গোপন তথ্যটি সামনে আসায় ইসরায়েলের পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের দিকে ছোঁড়া ইরানের কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই এবার মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে রুখে দেওয়া হয়নি বলে সিএনএন স্পষ্ট করেছে। এর মাধ্যমে মূলত ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তার আগের করা দাবির ঠিক বিপরীত ও সত্য তথ্যটি বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হলো।

সিএনএনের প্রতিবেদনে মার্কিন ওই কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ এই রক্তক্ষয়ী হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ইরানের ছোঁড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করতে মার্কিন রেডার বা মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন ও নতুন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ এর আগে যখনই ইরান ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল, তখন প্রতিবারই মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সশরীরে ব্যবহার করে ইসরায়েলকে আকাশপথে রক্ষা করতে সরাসরি মাঠে নেমেছিল।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি প্রতিহত না করলেও, এই পুরো সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে অত্যন্ত নিখুঁত ও ঘনিষ্ঠ একটি সমন্বয় বজায় রেখেছিল বলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে অন্তত দুইবার সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন এবং রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী একটি যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও গত রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী আকস্মিক এক ভয়াবহ বোমা হামলা চালায়, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা হঠাৎ করেই মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এই উস্কানিমূলক হামলার তাৎক্ষণিক জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে। পরবর্তীতে ইসরায়েলও প্রতিশোধ নিতে ইরানের ভূখণ্ডের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় কয়েক দফা বিমান হামলা চালায়।

বাস্তবতা হলো, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এক বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই মূলত সমগ্র অঞ্চলজুড়ে এক যুদ্ধংদেহী উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলার জবাবে সে সময় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি এই অঞ্চলের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশের বিরুদ্ধেও কঠোর পাল্টা হামলা চালিয়েছিল ইরান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী আঞ্চলিক নানা পরিস্থিতি নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে গভীর মতবিরোধ তৈরি হওয়ার কারণে পরবর্তীতে সেই শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও এই মহা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পর্দার আড়ালে এখনও চলমান রয়েছে।