রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে ঘাতকের স্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / 30
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় অন্যতম মোড় হিসেবে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রিজন ভ্যানের মাধ্যমে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। পুলিশ প্রশাসন আজ দুপুরের মধ্যেই মামলার প্রধান খলনায়ক সোহেল রানাকেও কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং আজই আদালতে বহুল প্রতীক্ষিত চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই শিশু হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী。তদন্তের সমস্ত অকাট্য তথ্য-প্রমাণ গুছিয়ে আজই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করার মোক্ষম দিন ধার্য করেছে পুলিশ প্রশাসন। মূলত রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে ঘাতকের স্ত্রী শিরোনামের এই আইনি অগ্রগতি আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত উৎসুক জনতা ও গণমাধ্যম কর্মীদের নজর কেড়েছে। প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পূর্ব পর্যন্ত আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতের নিরাপদ গারদখানায় আটকে রাখা হয়েছে।
মামলার বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব থেকে পাওয়া ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার ফলাফল প্রসিকিউশন পক্ষকে চরম শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমানে রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে ঘাতকের স্ত্রী হাজির হওয়ার এই দিনে ময়নাতদন্তের বিবরণী থেকে জানা গেছে যে, ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে প্রথমে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন করা হয়। এরপর চরম নিষ্ঠুরতায় অবুজ শিশুটিকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে অপরাধের আলামত গোপন করতে তার দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
শনিবার (২৩ মে) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে ঘাতকের স্ত্রী এবং মূল খুনি সোহেল রানাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ যে তথ্য পেয়েছে, তা এই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, ফরেনসিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ আজ দুপুরের মধ্যেই আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিলে এই পৈশাতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া এক নতুন ধাপে প্রবেশ করবে।




































