নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের নিয়ম!

- সময় ০১:১৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
- / 73
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের তথ্য বলছে, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৮টি। এর মধ্যে বেশিরভাগ দলের নিবন্ধন হয়েছে ২০০৮ সালে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে চারটি দল নিবন্ধন লাভ করেছে। এর আগে ২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি দলকে নিবন্ধন প্রদান করা হয়।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গেল কয়েকমাসে আরো নতুন দেড় ডজন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে কোন কোনটির নেতৃত্বে রয়েছে একদমই নতুন মুখ। কিন্তু চাইলেই কি যে কেউ নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে?
নির্বাচন কমিশন বলছে, বাংলাদেশের যে কেউ চাইলেই নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেই সবাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। তাহলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণের নিয়ম কি ?
নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হলে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। আর এ জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
বাংলাদেশের নির্বাচন বা ভোটাধিকার সম্পর্কিত যতগুলো আইন আছে, তার মধ্যে একটি হলো আরপিও (রিপ্রেজেন্টেটিভ পিপলস অর্ডার) বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
এই আইনের অধ্যায় ৬-এর ‘ক’-তে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের কিছু শর্ত আছে। এ উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’ শীর্ষক একটি বিধিমালাও প্রণয়ন করেছে।
সেখানে তিনটি শর্তের কথা বলা হয়েছে, নিবন্ধন পেতে হলে সেগুলোর যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে। সেই শর্তগুলোর মাঝে রয়েছে – স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত যে কোনও সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসনে জয়ী হওয়ার রেকর্ড থাকতে হবে। এমন একজন ব্যক্তি নতুন দল গঠনের নেতৃত্বে থাকতে হবে।
যে কোনও একটি আসনে দলীয় প্রার্থীকে মোট প্রদত্ত ভোটের পাঁচ শতাংশ পেতে হবে। কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা কার্যালয়, অন্তত ১০০টি উপজেলায় কার্যালয় এবং প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তত ২০০ জন ভোটারের তালিকাভুক্তি থাকতে হবে।
এছাড়া, নিবন্ধন পেতে আগ্রহী দলগুলোকে তাদের দলীয় গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ দলের সকল স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব অর্জন, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনকে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে না রাখা এবং বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য তৃণমূলের ভোটে প্যানেল প্রস্তুত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধান রাখার কথাও আইনে উল্লেখ আছে।
এইসব প্রক্রিয়া শেষ হলে একটি রাজনৈতিক দল সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের মাঝে নিবন্ধিত হয়ে যায় এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নতুন দল যেকোনও প্রতীক চাইতেই পারে। তবে আইনগতভাবে, নির্বাচন কমিশন বিধিমালা মেনে সেই প্রতীক বরাদ্দ দেয় নির্বাচন কমিশন।
তবে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এসব নিয়মের অনেককিছু শিথিল করেছে। যদিও কমিশনের সেসব সুপারিশ অনুযায়ী এখনও আইন সংশোধন করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, তবে বিগত দিনে শতভাগ শর্ত পূরণের পরও অনেক দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। আবার আশিংক শর্ত পূরণের পরও অনেকেই নিবন্ধন পেয়েছে। এটি মূলত রাজনৈতিক সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ স্বরূপ- গত নির্বাচনের আগে নিবন্ধন পাওয়া ‘তৃণমূল বিএনপি’, ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব-বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম’ এবং ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি’ শতভাগ শর্ত পূরণ না করেও নিবন্ধন পেয়েছিলেন- এমন অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। আগামীকাল বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদসংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে নতুন এই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কারা থাকছেন, তা অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। সদ্য পদত্যাগী উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকেই আহ্বায়ক এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে নতুন দলেও সদস্য সচিব করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।