০৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শহীদ পরিবারের স্লোগান “এক দুই তিন চার, সব শালার বাটপার”

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সময় ০১:৫২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  • / 39

শহিদ পরিবারের আন্দোলন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় প্রায় ৩০ জন আন্দোলনকারী শান্তিপূর্ণভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়। শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত আন্দোলনকারীরা তাদের স্লোগান “এক দুই তিন চার, সব শালার বাটপার” দিয়ে দাবি আদায়ের তীব্র আহ্বান জানাচ্ছেন।

তাদের তিনটি মূল দাবি হলো: আন্দোলনে আহতদের সবাইকে মাসিক ভাতার আওতায় আনা, শহীদ পরিবার ও আহতদের সুরক্ষার জন্য একটি আইন প্রণয়ন এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের সেবায় একটি হটলাইন নম্বর চালু করা।

এর আগে বুধবার সকালে, আন্দোলনকারীরা ১ নম্বর গেটের সামনে জড়ো হন এবং পরে প্রধান গেটের সামনে এসে অবস্থান নেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিদের ক্যাটাগরি তিনটির পরিবর্তে দুটি করতে হবে, শহীদ পরিবার ও আহতদের সুরক্ষার জন্য একটি আইন তৈরি করতে হবে, এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের আহতদের সেবার জন্য একটি হটলাইন চালু করতে হবে।

এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন, তবে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ২০২৫ অনুষ্ঠানে  শহীদ পরিবারের সদস্যরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে ধীরগতির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কারও কোনো আগ্রহ নেই।

জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ২০২৫ অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্যরা
জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ২০২৫ অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা

শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, বিচার না হওয়ার কারণে তাদের মানসিক শান্তি মিলছে না। শহীদ সাইদুল ইসলাম ইয়াসিনের মা শিল্পী আক্তার বলেন, “কেউ নতুন দলের জন্য হাহাকার করছে, কেউ দ্রুত নির্বাচনের জন্য বাড়াবাড়ি করছে, কিন্তু বিচার নিয়ে কারও দরদ নেই। আমাদের নিয়ে আসলে কী কেউ ভাবছে? ওদের (শহীদদের) স্মৃতি নিয়েই প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকতে হয়। মানসিক শান্তি দিতে চাইলে বিচার করেন।”

শিল্পী আক্তার আরও জানান, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কারণে তাকে এলাকায় থাকতে পারছেন না। তিনি বলেন, “আরেকটা সন্তান নিয়ে আমাকে তো বাঁচতে হবে। ইতিমধ্যে দু-তিনবার বাসা পরিবর্তন করেছি। ছোট দোকান ছিল, সেটাও চালু করতে পারছি না। জীবন নিয়ে হুমকির মধ্যে আছি।”

শহীদ ইমাম হাসান তাইমের ভাই রবিউল আউয়াল বলেন, “যাঁদের জন্য এই স্বাধীনতা, তাঁরা গত সাত মাসে বিচার পেয়েছে কি না?” তিনি আরও বলেন, “বিচারের মুলা ঝোলানো হচ্ছে, কিন্তু কয়জন অপরাধী পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন? ‘হেলমেট বাহিনীর’ কয়জন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?”

শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হাসান বলেন, “একমাত্র সন্তানের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখেছি। আমাদের কান্না তো কোনো দিন থামবে না। কষ্টও কেউ বুঝবে না। অথচ বিচারের নামে প্রহসন হচ্ছে। বিচার কী আসলে হবে?”

শহীদ গোলাম নাফিজের বাবা মো. গোলাম রহমান সরকারের কাছে পরিপূর্ণ বিচারের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “আপনারা বিচার করতে না পারলে বা পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে দিলে আপনাদেরও জবাবদিহি করতে হবে। তাই কোনো ছাড় দেবেন না।”

শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, লেখক ও সাংবাদিকরা শহীদদের পক্ষে কলম ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রকৃত বিচারের কথা তুলে ধরবেন, যাতে এই ধরনের আন্দোলন আর না করতে হয়।

শেয়ার করুন

শহীদ পরিবারের স্লোগান “এক দুই তিন চার, সব শালার বাটপার”

সময় ০১:৫২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় প্রায় ৩০ জন আন্দোলনকারী শান্তিপূর্ণভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়। শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত আন্দোলনকারীরা তাদের স্লোগান “এক দুই তিন চার, সব শালার বাটপার” দিয়ে দাবি আদায়ের তীব্র আহ্বান জানাচ্ছেন।

তাদের তিনটি মূল দাবি হলো: আন্দোলনে আহতদের সবাইকে মাসিক ভাতার আওতায় আনা, শহীদ পরিবার ও আহতদের সুরক্ষার জন্য একটি আইন প্রণয়ন এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের সেবায় একটি হটলাইন নম্বর চালু করা।

এর আগে বুধবার সকালে, আন্দোলনকারীরা ১ নম্বর গেটের সামনে জড়ো হন এবং পরে প্রধান গেটের সামনে এসে অবস্থান নেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিদের ক্যাটাগরি তিনটির পরিবর্তে দুটি করতে হবে, শহীদ পরিবার ও আহতদের সুরক্ষার জন্য একটি আইন তৈরি করতে হবে, এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের আহতদের সেবার জন্য একটি হটলাইন চালু করতে হবে।

এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন, তবে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ২০২৫ অনুষ্ঠানে  শহীদ পরিবারের সদস্যরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে ধীরগতির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কারও কোনো আগ্রহ নেই।

জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ২০২৫ অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্যরা
জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ২০২৫ অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা

শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, বিচার না হওয়ার কারণে তাদের মানসিক শান্তি মিলছে না। শহীদ সাইদুল ইসলাম ইয়াসিনের মা শিল্পী আক্তার বলেন, “কেউ নতুন দলের জন্য হাহাকার করছে, কেউ দ্রুত নির্বাচনের জন্য বাড়াবাড়ি করছে, কিন্তু বিচার নিয়ে কারও দরদ নেই। আমাদের নিয়ে আসলে কী কেউ ভাবছে? ওদের (শহীদদের) স্মৃতি নিয়েই প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকতে হয়। মানসিক শান্তি দিতে চাইলে বিচার করেন।”

শিল্পী আক্তার আরও জানান, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কারণে তাকে এলাকায় থাকতে পারছেন না। তিনি বলেন, “আরেকটা সন্তান নিয়ে আমাকে তো বাঁচতে হবে। ইতিমধ্যে দু-তিনবার বাসা পরিবর্তন করেছি। ছোট দোকান ছিল, সেটাও চালু করতে পারছি না। জীবন নিয়ে হুমকির মধ্যে আছি।”

শহীদ ইমাম হাসান তাইমের ভাই রবিউল আউয়াল বলেন, “যাঁদের জন্য এই স্বাধীনতা, তাঁরা গত সাত মাসে বিচার পেয়েছে কি না?” তিনি আরও বলেন, “বিচারের মুলা ঝোলানো হচ্ছে, কিন্তু কয়জন অপরাধী পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন? ‘হেলমেট বাহিনীর’ কয়জন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?”

শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হাসান বলেন, “একমাত্র সন্তানের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখেছি। আমাদের কান্না তো কোনো দিন থামবে না। কষ্টও কেউ বুঝবে না। অথচ বিচারের নামে প্রহসন হচ্ছে। বিচার কী আসলে হবে?”

শহীদ গোলাম নাফিজের বাবা মো. গোলাম রহমান সরকারের কাছে পরিপূর্ণ বিচারের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “আপনারা বিচার করতে না পারলে বা পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে দিলে আপনাদেরও জবাবদিহি করতে হবে। তাই কোনো ছাড় দেবেন না।”

শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, লেখক ও সাংবাদিকরা শহীদদের পক্ষে কলম ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রকৃত বিচারের কথা তুলে ধরবেন, যাতে এই ধরনের আন্দোলন আর না করতে হয়।