ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাক কর বাড়ানোর দাবিতে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 48

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তরুণ প্রজন্মকে তামাকের আসক্তি থেকে রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে দেশের বিভিন্ন জেলার ২০টি সংগঠন।

রবিবার (২৪ মে ) তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) ও উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) এই স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিগারেটের ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরের মূল্য ১৪০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেন।

পাশাপাশি প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে চার টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা বিশেষ করে তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহার বাড়িয়ে তুলছে। বর্তমান বহুস্তরবিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ন্যূনতম ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরের সিগারেট ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

একইসাথে সকল তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর বৃদ্ধি এবং সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে আশা করা যায়, কেবল সিগারেট খাত থেকেই প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।

একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং প্রায় তিন লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। অর্থাৎ একদিকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা হবে। এটি সুস্পষ্টভাবে সরকার ও জনগণ উভয়ের জন্যই লাভজনক।

সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আগামী জাতীয় বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর তামাক কর ও মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তামাক কর বাড়ানোর দাবিতে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তরুণ প্রজন্মকে তামাকের আসক্তি থেকে রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে দেশের বিভিন্ন জেলার ২০টি সংগঠন।

রবিবার (২৪ মে ) তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) ও উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) এই স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিগারেটের ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরের মূল্য ১৪০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেন।

পাশাপাশি প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে চার টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা বিশেষ করে তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহার বাড়িয়ে তুলছে। বর্তমান বহুস্তরবিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ন্যূনতম ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরের সিগারেট ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

একইসাথে সকল তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর বৃদ্ধি এবং সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে আশা করা যায়, কেবল সিগারেট খাত থেকেই প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।

একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং প্রায় তিন লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। অর্থাৎ একদিকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা হবে। এটি সুস্পষ্টভাবে সরকার ও জনগণ উভয়ের জন্যই লাভজনক।

সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ আগামী জাতীয় বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর তামাক কর ও মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।