ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুশইন নিয়ে শুভেন্দুর দাবি উড়িয়ে দিলো বিজিবি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 117

বিজিবি

পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা একটি স্পর্শকাতর দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান ও নাকচ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর আগে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের নতুন সরকার গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশিকে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

গত সোমবার (৮ জুন) জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানান, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত থেকে কোনো নাগরিককেই বাংলাদেশে পুশইন করা সম্ভব হয়নি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্ত দিয়ে এই ধরনের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা অবশ্যই করা হয়েছিল, তবে বিজিবির সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা প্রতিহত করেছেন। ফলে কিছু সংবাদমাধ্যম ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করার যে খবর বা সংখ্যা প্রচার করছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিজিবির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, ভারত সংলগ্ন বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে বর্তমানে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে (অ্যালার্ট) রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো অবস্থাতেই কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করতে দেওয়া হবে না। বিজিবি জোয়ানরা সীমান্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কঠোর পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। দেশের সুরক্ষায় বিজিবির এই নিয়মিত পাহারার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাত জেগে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল জয় লাভ করে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে নরেন্দ্র মোদির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই দলটি রাজ্যে অবস্থানরত তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীদের ‘শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কার’ করার তীব্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্যে ক্ষমতায় বসার পরপরই নথিপত্রহীন বাংলাদেশি এবং মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য বিশেষ কেন্দ্র বা ‘ডিটেশন সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ দেয় নবগঠিত বিজেপি সরকার।

এর আগে, গত রোববার কলকাতার এক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জোর দিয়ে বলেন, “আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় না আসা তথাকথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মূল কাজ শুরু করে দিয়েছি।” তিনি দাবি করেন, মে মাসের মধ্যে রাজ্যের সবকটি জেলায় অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং এই কেন্দ্রগুলো থেকেই এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে এই আটককেন্দ্রগুলোতে আরও ৮৩৬ জন আটকে রয়েছেন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, আমরা খুব দ্রুত এই ৮৩৬ জনকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি ব্যবস্থা করছি। তাঁর এই বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করার পরই মূলত বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পুশইন নিয়ে শুভেন্দুর দাবি উড়িয়ে দিলো বিজিবি

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা একটি স্পর্শকাতর দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান ও নাকচ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর আগে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের নতুন সরকার গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশিকে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

গত সোমবার (৮ জুন) জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানান, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত থেকে কোনো নাগরিককেই বাংলাদেশে পুশইন করা সম্ভব হয়নি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্ত দিয়ে এই ধরনের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা অবশ্যই করা হয়েছিল, তবে বিজিবির সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা প্রতিহত করেছেন। ফলে কিছু সংবাদমাধ্যম ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করার যে খবর বা সংখ্যা প্রচার করছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিজিবির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, ভারত সংলগ্ন বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে বর্তমানে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে (অ্যালার্ট) রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো অবস্থাতেই কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করতে দেওয়া হবে না। বিজিবি জোয়ানরা সীমান্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কঠোর পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। দেশের সুরক্ষায় বিজিবির এই নিয়মিত পাহারার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাত জেগে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল জয় লাভ করে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে নরেন্দ্র মোদির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই দলটি রাজ্যে অবস্থানরত তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীদের ‘শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কার’ করার তীব্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্যে ক্ষমতায় বসার পরপরই নথিপত্রহীন বাংলাদেশি এবং মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য বিশেষ কেন্দ্র বা ‘ডিটেশন সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ দেয় নবগঠিত বিজেপি সরকার।

এর আগে, গত রোববার কলকাতার এক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জোর দিয়ে বলেন, “আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় না আসা তথাকথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মূল কাজ শুরু করে দিয়েছি।” তিনি দাবি করেন, মে মাসের মধ্যে রাজ্যের সবকটি জেলায় অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং এই কেন্দ্রগুলো থেকেই এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে এই আটককেন্দ্রগুলোতে আরও ৮৩৬ জন আটকে রয়েছেন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, আমরা খুব দ্রুত এই ৮৩৬ জনকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি ব্যবস্থা করছি। তাঁর এই বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করার পরই মূলত বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।