টিকটক প্রেমের পর কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 12
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়ের পর ইমুতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর দেখা করতে গিয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সখিপুর থানার এক যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে রাজু গাজী (২১) নামে ওই যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত সোমবার উপজেলার ডিঙ্গামানিক গোলারমাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নড়িয়া উপজেলার পূর্ব দিনারা গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে সখিপুর থানার চারভাগা শনিকান্দি গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে রাজু গাজীর প্রায় তিন মাস ধরে টিকটক ও ইমুর মাধ্যমে যোগাযোগ ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ করা হয়েছে, দেখা করতে গেলে রাজু কিশোরীকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে একদিন আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে রাখা হয়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আরও কয়েকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে কিশোরী বিয়ের কাবিননামা করার জন্য চাপ দিলে রাজু তাকে এলাকায় ফিরিয়ে এনে বাড়ির পাশের সড়কে ফেলে রেখে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরে রাজুর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। মামলা বা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কিশোরীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, আইনি সহায়তার জন্য সখিপুর থানায় গেলে তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে গত ২২ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়।
অভিযুক্ত রাজু গাজীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




























