০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘এটি সংস্কার নয়, বরং সংবিধানকে ধ্বংস করার পথ’

নিউজ ডেস্ক
  • সময় ১১:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  • / 50

৭২-এর সংবিধান ও প্রস্তাবিত সংস্কার’ শীর্ষক এক আলোচনা

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বর্তমান সংবিধান বাতিল করা একদমই ভুল হবে। তিনি বলেন, “এতদিন ধরে এই সংবিধানের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়েছে এবং জনগণ এটিকে মেনে নিয়েছে। তাই এটি ফেলে দিয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা যুক্তিসংগত বা গ্রহণযোগ্য নয়।”

ড. কামাল হোসেন আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘৭২-এর সংবিধান ও প্রস্তাবিত সংস্কার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এই সভায় দেশের সংবিধান এবং তার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, “সংবিধান পুনর্লিখন একটা ভুল ধারণা। এটি সংস্কার নয়, বরং সংবিধানকে ধ্বংস করার পথ।” ড. কামাল আরও বলেন, “সংবিধানে পরিবর্তন প্রয়োজন হলে, সেটি অবশ্যই ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে।”

সভায় ড. কামাল হোসেন তার একটি লিখিত বক্তব্যও পাঠ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান জাতির সংগ্রামের ফসল, এটি কেবল আইনের দলিল নয়, বরং আমাদের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।” তিনি আরও বলেন, “গত ৫ আগস্টের ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা কখনো উপেক্ষা করা যায় না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যে কোনো সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তনে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন হবে।”

৭২-এর সংবিধান ও প্রস্তাবিত সংস্কার’ শীর্ষক এক আলোচনা
৭২-এর সংবিধান ও প্রস্তাবিত সংস্কার’ শীর্ষক এক আলোচনা

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে এবং সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই গণতন্ত্রের নামেই রাজনৈতিক দলগুলোর পা রাখার মতো মাটি এখন দ্রুত পাবে না। সংবিধান সংশোধন অল্প অল্প করে, ধাপে ধাপে হওয়া উচিত।”

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ধর্মনিরপেক্ষতা সংক্রান্ত মন্তব্যে বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা ফেলে দেওয়ার প্রস্তাব থেকে ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তির উত্থান হতে পারে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।”

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, “সংবিধান সংস্কার কমিশনে নারীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা উচিত।”

সোহরাব হাসান বলেন, “সংবিধান সংস্কারের সময় ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি থাকতে পারে, তবে তা যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে।”

গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বনের আহ্বান জানান এবং বলেন, “সংবিধান সংস্কারের নামে আগুনে হাত না দেওয়া উচিত। নির্বাচন দেওয়া জরুরি, কারণ এই সরকারের অধীনে হানাহানি চলতেই থাকবে।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন মো. জাহিদুল বারী, এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, এস এম এ সবুর এবং আবু ইয়াহিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইনজীবী গোলাম মোস্তফা।

শেয়ার করুন

‘এটি সংস্কার নয়, বরং সংবিধানকে ধ্বংস করার পথ’

সময় ১১:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বর্তমান সংবিধান বাতিল করা একদমই ভুল হবে। তিনি বলেন, “এতদিন ধরে এই সংবিধানের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়েছে এবং জনগণ এটিকে মেনে নিয়েছে। তাই এটি ফেলে দিয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা যুক্তিসংগত বা গ্রহণযোগ্য নয়।”

ড. কামাল হোসেন আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘৭২-এর সংবিধান ও প্রস্তাবিত সংস্কার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এই সভায় দেশের সংবিধান এবং তার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, “সংবিধান পুনর্লিখন একটা ভুল ধারণা। এটি সংস্কার নয়, বরং সংবিধানকে ধ্বংস করার পথ।” ড. কামাল আরও বলেন, “সংবিধানে পরিবর্তন প্রয়োজন হলে, সেটি অবশ্যই ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে।”

সভায় ড. কামাল হোসেন তার একটি লিখিত বক্তব্যও পাঠ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান জাতির সংগ্রামের ফসল, এটি কেবল আইনের দলিল নয়, বরং আমাদের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।” তিনি আরও বলেন, “গত ৫ আগস্টের ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা কখনো উপেক্ষা করা যায় না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যে কোনো সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তনে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন হবে।”

৭২-এর সংবিধান ও প্রস্তাবিত সংস্কার’ শীর্ষক এক আলোচনা
৭২-এর সংবিধান ও প্রস্তাবিত সংস্কার’ শীর্ষক এক আলোচনা

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে এবং সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই গণতন্ত্রের নামেই রাজনৈতিক দলগুলোর পা রাখার মতো মাটি এখন দ্রুত পাবে না। সংবিধান সংশোধন অল্প অল্প করে, ধাপে ধাপে হওয়া উচিত।”

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ধর্মনিরপেক্ষতা সংক্রান্ত মন্তব্যে বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা ফেলে দেওয়ার প্রস্তাব থেকে ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তির উত্থান হতে পারে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।”

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, “সংবিধান সংস্কার কমিশনে নারীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা উচিত।”

সোহরাব হাসান বলেন, “সংবিধান সংস্কারের সময় ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি থাকতে পারে, তবে তা যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে।”

গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বনের আহ্বান জানান এবং বলেন, “সংবিধান সংস্কারের নামে আগুনে হাত না দেওয়া উচিত। নির্বাচন দেওয়া জরুরি, কারণ এই সরকারের অধীনে হানাহানি চলতেই থাকবে।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন মো. জাহিদুল বারী, এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, এস এম এ সবুর এবং আবু ইয়াহিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইনজীবী গোলাম মোস্তফা।