ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে বিএনপি–জামায়াতের সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
- / 9
ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে বিরোধী দলীয় নেতা ব্যাংকটিকে আবারও “দখলচক্রের নজরে” পড়ার অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাংক দখল ও বেদখল ঘিরে অতীত-বর্তমান অনিয়ম এবং মালিকানা কাঠামো নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। পুরো আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে।
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে ৬৮ বিধির অধীনে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে পৃথক বক্তব্যে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠে আসে। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাবি করেন, ব্যাংকটি আবারও একটি প্রভাবশালী দখলচক্রের নজরে পড়েছে। তার অভিযোগ, অতীতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চললেও নতুন করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে বিতর্কিত নিয়োগ, এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে ব্যাংকের ওপর আস্থা সংকট তৈরি করা হচ্ছে। একদিনে বিপুল পরিমাণ আমানত উত্তোলনের ঘটনাকেও তিনি আস্থাহীনতার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।
এর জবাবি বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংক দখলের সময় যেমন যাতনা তৈরি হয়, বেদখল হওয়ার সময়ও তার প্রতিফলন দেখা স্বাভাবিক। একই সঙ্গে তিনি ইসলামী ব্যাংকের অতীত ও সাম্প্রতিক অনিয়ম নিয়ে বিস্তৃত অভিযোগ উত্থাপন করেন।
মন্ত্রী দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে নিয়ম ভেঙে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ, নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির অনিয়ম এবং তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের বড় অংশের শেয়ার একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের হাতে চলে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন এবং মালিকানা কাঠামো যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের অবস্থান স্পষ্ট করার কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, অর্থপাচারসহ যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে তদন্ত করা হবে। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে সংসদে ইসলামী ব্যাংক ঘিরে উভয় পক্ষের বক্তব্যে রাজনৈতিক দায়-দায়িত্ব, মালিকানা প্রশ্ন এবং ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।































