ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ কোটির সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৮:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 65

৯ কোটির সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে

গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী কাওরাইদ এলাকায় সুতিয়া নদীর ওপর প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি সেতু। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে মই ও খাড়া মাটির ঢাল বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছেন তারা। সামান্য বৃষ্টিতেই ওই ঢাল পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, সুতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো সেতুটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, সংযোগ সড়কের জায়গা থেকে সেতুটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। ফলে অস্থায়ীভাবে তৈরি মাটির ঢালটি বেশ খাড়া। সেখানে একটি মই বসিয়ে মানুষকে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে মাটি পিচ্ছিল হয়ে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিকল্প হিসেবে অনেকেই পাশের রেলওয়ে সেতু দিয়ে পারাপার হন।

স্থানীয় হান্নান শেখ বলেন, সেতুটি গফরগাঁও ও শ্রীপুরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে অবস্থিত। গফরগাঁওয়ের অন্তত আটটি ইউনিয়নের মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষকে মই বেয়ে উঠতে হচ্ছে।

মঞ্জুরুল করিম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এলাকাটিতে একটি সরকারি, একটি এমপিওভুক্ত ও একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে রেলওয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় কায়সার জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বসবাস করলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষার্থী নাসরিন বেগম বলেন, আগে সেতুতে ওঠার জায়গাটি অনেক উঁচু থাকায় রড ধরে ওঠার চেষ্টা করতে হতো। এখন মাটি ও মই দেওয়া হলেও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। সংযোগ সড়ক তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে।

এলজিইডি গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার প্রকল্প হওয়ায় এতে জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থের সংস্থান ছিল না। এ কারণে প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৯ কোটির সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৮:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী কাওরাইদ এলাকায় সুতিয়া নদীর ওপর প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি সেতু। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে মই ও খাড়া মাটির ঢাল বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছেন তারা। সামান্য বৃষ্টিতেই ওই ঢাল পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, সুতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো সেতুটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, সংযোগ সড়কের জায়গা থেকে সেতুটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। ফলে অস্থায়ীভাবে তৈরি মাটির ঢালটি বেশ খাড়া। সেখানে একটি মই বসিয়ে মানুষকে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে মাটি পিচ্ছিল হয়ে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিকল্প হিসেবে অনেকেই পাশের রেলওয়ে সেতু দিয়ে পারাপার হন।

স্থানীয় হান্নান শেখ বলেন, সেতুটি গফরগাঁও ও শ্রীপুরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে অবস্থিত। গফরগাঁওয়ের অন্তত আটটি ইউনিয়নের মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষকে মই বেয়ে উঠতে হচ্ছে।

মঞ্জুরুল করিম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এলাকাটিতে একটি সরকারি, একটি এমপিওভুক্ত ও একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে রেলওয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় কায়সার জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বসবাস করলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষার্থী নাসরিন বেগম বলেন, আগে সেতুতে ওঠার জায়গাটি অনেক উঁচু থাকায় রড ধরে ওঠার চেষ্টা করতে হতো। এখন মাটি ও মই দেওয়া হলেও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। সংযোগ সড়ক তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে।

এলজিইডি গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার প্রকল্প হওয়ায় এতে জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থের সংস্থান ছিল না। এ কারণে প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান তিনি।