ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬ হাজার কোটি টাকায় ২০ চীনা যুদ্ধবিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 188

চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ

চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য প্রায় ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছে। আট অর্থবছরে ধাপে ধাপে এ অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ২০টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে ১০টি বিমানবাহিনীর বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে এবং বাকি ১০টি দিয়ে নতুন একটি স্কোয়াড্রন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বিমানের আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। ২০টি বিমানের মূল দাম প্রায় ১২৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

এর বাইরে যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে আরও ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য গঠিত কমিটি দরকষাকষির বৈঠকের ভিত্তিতে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে।

নথি অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ প্রায় আট বছর ধরে ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধ করা হবে। প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ছয়টি জে-১০সিই পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও ১৪টি বিমান পর্যায়ক্রমে দেশে আসবে।

বিমানবাহিনী বর্তমানে যুদ্ধবিমান কেনার কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে। জে-১০সিইর পাশাপাশি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং প্যাসিভ ডিফেন্স সিস্টেম সংগ্রহের বিষয়েও কারিগরি মূল্যায়ন চলছে।

চুক্তি সম্পন্ন হলে বিমানবাহিনীতে নতুন মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া এয়ার ওয়ারফেয়ার সেন্টার, ফিল্ড ইউনিট ও বিমানঘাঁটির অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং অ্যারোস্পেস গবেষণা ও উন্নয়ন কমপ্লেক্স স্থাপনের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিমানবাহিনীর কার্যক্রম উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজও চলছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে অথবা দেশটির যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট (সিএটিআইসি)-এর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিমান কেনা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক নথিতে জিটুজি পদ্ধতিতে কেনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল এ ক্রয় প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবাহিনীর বর্তমান যুদ্ধবিমানগুলোর বেশিরভাগই পুরোনো হওয়ায় আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

জে-১০সিই চীনের তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এটি আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা; দুই ধরনের মিশনেই ব্যবহার করা যায়। ঘণ্টায় শব্দের দ্বিগুণের বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম এ যুদ্ধবিমান আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্যও ব্যবহারের উপযোগী।

পাকিস্তান-ভারত সংঘাতের সময় জে-১০সিই ব্যবহারের পর বিমানটি আন্তর্জাতিকভাবে নতুন করে আলোচনায় আসে। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তাদের জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ভারতও ওই সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছিল, যদিও সংখ্যা প্রকাশ করেনি। এ ঘটনার পর জে-১০সিই নিয়ে বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাড়ে।

বাংলাদেশও কয়েক বছর ধরে আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এর আগে ফ্রান্সের রাফাল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ কেনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়াতেও আধুনিক মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই জে-১০সিইসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

২৬ হাজার কোটি টাকায় ২০ চীনা যুদ্ধবিমান

সর্বশেষ আপডেট ১২:২৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য প্রায় ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছে। আট অর্থবছরে ধাপে ধাপে এ অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ২০টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে ১০টি বিমানবাহিনীর বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে এবং বাকি ১০টি দিয়ে নতুন একটি স্কোয়াড্রন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বিমানের আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। ২০টি বিমানের মূল দাম প্রায় ১২৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

এর বাইরে যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে আরও ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য গঠিত কমিটি দরকষাকষির বৈঠকের ভিত্তিতে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে।

নথি অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ প্রায় আট বছর ধরে ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধ করা হবে। প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ছয়টি জে-১০সিই পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও ১৪টি বিমান পর্যায়ক্রমে দেশে আসবে।

বিমানবাহিনী বর্তমানে যুদ্ধবিমান কেনার কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে। জে-১০সিইর পাশাপাশি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং প্যাসিভ ডিফেন্স সিস্টেম সংগ্রহের বিষয়েও কারিগরি মূল্যায়ন চলছে।

চুক্তি সম্পন্ন হলে বিমানবাহিনীতে নতুন মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া এয়ার ওয়ারফেয়ার সেন্টার, ফিল্ড ইউনিট ও বিমানঘাঁটির অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং অ্যারোস্পেস গবেষণা ও উন্নয়ন কমপ্লেক্স স্থাপনের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিমানবাহিনীর কার্যক্রম উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজও চলছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে অথবা দেশটির যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট (সিএটিআইসি)-এর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিমান কেনা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক নথিতে জিটুজি পদ্ধতিতে কেনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল এ ক্রয় প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবাহিনীর বর্তমান যুদ্ধবিমানগুলোর বেশিরভাগই পুরোনো হওয়ায় আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

জে-১০সিই চীনের তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এটি আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা; দুই ধরনের মিশনেই ব্যবহার করা যায়। ঘণ্টায় শব্দের দ্বিগুণের বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম এ যুদ্ধবিমান আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্যও ব্যবহারের উপযোগী।

পাকিস্তান-ভারত সংঘাতের সময় জে-১০সিই ব্যবহারের পর বিমানটি আন্তর্জাতিকভাবে নতুন করে আলোচনায় আসে। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তাদের জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ভারতও ওই সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছিল, যদিও সংখ্যা প্রকাশ করেনি। এ ঘটনার পর জে-১০সিই নিয়ে বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাড়ে।

বাংলাদেশও কয়েক বছর ধরে আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এর আগে ফ্রান্সের রাফাল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ কেনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়াতেও আধুনিক মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই জে-১০সিইসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।