স্মার্ট এমডির বিদেশে ব্যবসা, নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / 183
দেশের প্রযুক্তিখাতের উদ্যোক্তা ও স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি ছাড়াই বিদেশে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিষ্ঠিত এসব কোম্পানির বিনিয়োগ ও আয় সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিতে কোনো তথ্য নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম বিদেশে অন্তত তিনটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। যদিও প্রায় এক বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল, তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম পুরোনো প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা প্রযুক্তি খাত ছাড়িয়ে খাদ্য ও নির্মাণ খাতেও বিস্তৃত হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব রয়েছে।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন জহিরুল ইসলাম ও মাঝহারুল ইসলাম। কোম্পানিটির প্রাথমিক মূলধন ছিল ৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। কোম্পানিটিতে দুই ভাইয়ের মালিকানা সমান।

সিঙ্গাপুরের সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি তুরস্কের নাগরিক পরিচয় ব্যবহার করে নিবন্ধিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এ ধরনের নাগরিক পরিচয় অর্জনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও জহিরুল ও মাঝহারুল ইসলামের নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর একটি ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’, যা ২০০২ সালে নিবন্ধিত হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে জহিরুল ইসলামের মালিকানা ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের মালিকানা ৮৫ শতাংশ। অনুসন্ধান অনুযায়ী, কোম্পানিটির ব্যবসা আফ্রিকাসহ তিনটি মহাদেশে বিস্তৃত।
এ ছাড়া ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসাও বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত।
অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, জহিরুল ইসলাম বা তার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার কোনো অনুমোদনের তথ্য তাদের কাছে নেই। পাশাপাশি আয়কর নথিতেও বিদেশি এসব কোম্পানি থেকে অর্জিত আয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে গত বছরের মার্চ মাসে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবসরে চলে যাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।



































